Aaj Bosonto – Valobashar Golpo – Bengali Love Story

গুবলুর জন্য ব্যানানা মিল্ক শেক বানাতে গিয়ে বারেবার আনমনা হয়ে যাচ্ছিল রিনি। হটাত্‍ই কানে এল গুবলুর কান্নার শব্দ।
—-ইসস্, এতক্ষণ শুনতেই পাইনি। কতক্ষন ধরে যে কাঁদছে ছেলেটা!
মিক্সার গ্ৰাইন্ডারের শব্দ এত ঝ্যানঝেনে যে আর কোনও শব্দই কানে আসেনা। রান্নাঘর থেকে এক ছুটে শোবার ঘরে এসে দেখলো,দশ মাসের ছেলেটা একেবারে বিছানার ধারে এসে গেছে। সবেমাত্র হামাগুড়ি দিতে শিখেছে। দুহাত বাড়িয়ে গুবলুকে কোলে তুলে নিলো। ঝকঝকে অকাশী পর্দার ফাঁক গলিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে মনটা কেমন যেন উচাটন হয়ে উঠলো রিনির। আজকাল বড় ক্লান্ত লাগে নিজের। সকাল থেকে  রাত  পর্যন্ত ছেলের পটি পরিষ্কার আর সংসার সামলেই দিন চলে যাচ্ছে। শুধু যেন বেঁচেই আছে। এমন বাঁচার কিইবা মানে!আজ যেন সব বাঁধন খুব আলগা লাগছে। কেনই বা এমন ভাবছে, সবই তো ঠিক আছে যেমন ও চেয়েছিল ,…….শুধুমাত্র নীলাদ্রি ছাড়া।
  কলেজর শুরু থেকে ওরা একে অপরকে চেনে, জানে। তাই স্বামীর পরিবর্তনটা খুব সহজ খাঁচায় ধরা পড়েছিল রিনির কাছে। সব থেকেও না পাওয়ার যন্ত্রনা যেন অন্তরাত্মার গভীরে কবর খুঁড়ছিল।  আজ কত ধূসর পুরোনো স্মৃতি চোখ বারবার ঝাপসা করে দিচ্ছে। এই তো সেদিনের কথা, বছর তিনেক হল তাদের বিয়ে হয়েছে। প্রথম প্রথম এমনকি মাস তিনেক আগেও অফিসে গিয়ে বার পাঁচেক ফোন করতো নীল রিনিকে। আজ যেন কত যোজন দূর অবস্থান করছে তারা। বিয়ের পর প্রথম একটা বছর যেভাবে কেটে গেছে রিনি যেন সুখ সাগরে ভেসে গেছে নীল নামের নৌকা নিয়ে। একবারও মন কেমন করেনি যোগাযোগ না রাখা বাবার বাড়ির জন্য। প্রতিদিন রাতে ডাইনিং থেকে বেড রুমে কোলে তুলে নিয়ে গেছে নীল। রিনি একদিন জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘আচ্ছা, যখন আমি ডাবল থাকবো কী করবে শুনি!’ নীল রোগপাতলা মেয়েটাকে বিছানায় সযত্নে ফেলে দিয়ে আলতো কান কামড়ে বলেছিল ‘তখন শুধু রাতে কেন…সারাদিনই বয়ে নিয়ে বেড়াব সোনা’….টানটান বিছানার চাদর তালগোল পাকিয়ে যেতে শুরু করেছিল, তাল রেখে রিনিও নীলের আদরে এলোমেলো হচ্ছিল। গুবলু পেটে আসার পরও রিনির আদর যত্নে ভাঁটা পড়েনি। আসলে নীলের যত্নশীল স্বভাবই কাছে টেনেছিল রিনিকে। শহরের প্রসিদ্ধ বস্ত্র ব্যবসায়ী প্রদীপ মাইতির মেয়ে রিনি। নীলের মত অমন ছা পোষা প্রাইভেট কোম্পানীর সেলসের কর্মচারী প্রদীপ মাইতি দোকানে প্রায় জনা চল্লিশেক পোষে। তাই নীলদ্রিকে মেনে নিতে পারেনি রিনির বাবার বাড়ি। এমনকি রিনির আঠারো বছরের ভাই রঙ্গনও বলেছিল…’দিদি আমাদের বাড়ির একটা সম্মান আছে। এখানে কুকুর বেড়ালকে খাবার ছিটিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু টেবিলে বসে খাওয়ানো যায় না।’ রিনি ভালোবাসার অমর্যাদা করতে পারেনি। আর করবেই বা কি করে! বড়লোক বাড়িতে চাকর বাকর, অফুরন্ত খাবার আর বিনোদনের অভাব না থাকলেও প্রাণটা ছিলনা, স্নেহ ছিলনা। বাবা সারাক্ষণ ব্যবসা আর অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত, আর মা সঙ্গত করতে বিভিন্ন ব্যবসায়িক পার্টি, ক্লাব পরিচর্যা করছেন। যখন ক্লাস ইলেভেনে পড়ে ধুম জ্বরে উষ্ণতার পারদ চড়চড় করে বাড়ছে,হাতপা অসাড় বাড়িতে মালতি মাসির কাছে ওকে রেখে মা বাবা দুজনেই বেরিয়ে গেল, আজ না গেলে নাকি বড় অঙ্কের ডিল হাতছাড়া হবে। সেদিন ওর কপালে মায়ের স্নেহচুম্বন বড় মেকি লেগেছিল, গা গুলিয়ে উঠছিল মায়ের প্রসাধনী সৌরভে। অর্পণ, এনাক্ষী, রাধা এদের মায়েরা কি যেতে পারত! ভেবে ভেবে চোখ থেকে উষ্ণ ধারা গড়াচ্ছিল। অপরদিকে নীলাদ্রি, ওর নীল আপাদমস্তক একটা দায়িত্বশীল মানুষ। বিয়ের পর পরই বিরিয়ানি করে নীল কে সারপ্রাইজ দেবে ঠিক করেছে, পেয়াঁজ কাটতে গিয়ে বাম হাতের তর্জনী বেশ কিছুটা কেটে ফেলে একাকার কান্ড। নীল ছুটে এসেছিল অফিস থেকে, পাগলের মত আঙুলটা চুষে সারা দুপুর হাতটা ধরেছিল। রিনি সেদিন খুব খুশি হয়েছিল। ঈশ্বরকে মনে মনে আঙ্গুল কাটার জন্য অনেক ধন্যবাদ দিয়েছিল। আসলে ভালোবাসার কাঙাল যেসব মানুষ তারাই বোঝে অর্থ, উপার্জন এসব দিয়ে গন্ডা খানেক সুখ কেনা যায়, ভালো ম্যাট্রেস কেন যায়, কিন্ত শান্তি না, নিশ্চিন্তের ঘুমও না।
   গুবলু কোলের মধ্যেই ঘুমিয়ে গেছে। ইদানীং একাকীত্ব গ্রাস করে রিনিকে। আসলে মাস খানেক থেকে লক্ষ্য করছে নীলাদ্রি যেন বেশ অন্যমনস্ক। প্রাণখোলা হাসি, গল্প সব হারিয়ে গেছে। অফিস বেরোনোর ঠিক আগের মুহূর্তে নীলাদ্রি রিনির গোলাপি পাপড়ি জোড়াতে  টুক করে একটা চুমু এঁকে দিত,… তা রিনি যত ব্যস্ত ই থাকুক না কেন। বাথরুমে থাকলেও নিস্তার ছিলনা , নিলাদ্রী বলত “আরে ঠোঁটটুকু বের করই না” রিনি আদুরে হয়ে নিজেকে তোয়ালে আবৃত করে বেরিয়ে এসেছে। আর আজ!!  ভালো ভাবে ওর দিকে তাকনোরও যেন সময় নেই। অথচ কত সংগ্রাম করেছে ওরা বিয়ের জন্য। রিনি এক কাপড়ে বাড়ি ছেড়েছে। নীলাদ্রির বাড়ি থেকে মেনে নিলেও  ওবাড়িতে রিনি মানিয়ে নিতে পারেনি। শরিকি বাড়ি, একই কল, একটাই উঠোন, একটাই বাথরুম। চেষ্টা করেছিল প্রথম ছ’মাস। অসহযোগিতা পেয়ে আসছিল  শাশুড়ির কাছ থেকে। বড়লোকের মেয়ে বলে উঠতে বসতে খোঁটা আর সহ্য হচ্ছিল না। নীলাদ্রির অবস্থা শোচনীয়। একে কোম্পানির চাকরি, অবিবাহিতা বোন , মা বাবা আর অন্যদিকে তারই জন্য সারা জগৎ সংসার, সুখ স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেওয়া স্ত্রী। পুরুষ মানুষ যে এক্ষেত্রে বড় অসহায়। তাই তুহীনদার সহযোগিতায় ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে একটা ছোট ফ্ল্যাট কিনেছে নীলাদ্রি। আশা এই যে এই লাইনে তো প্রোমোশন আছে, ম্যানেজ করে নেবে সব। আর রিনি ফ্লাট দেখে তো আহ্লাদে আটখানা। সুন্দর করে সাজিয়ে তুলেছে এই কদিনেই। মানানসই পর্দা, কিছু চেয়ার, টেবিল, ফুলদানি এসব, ওই যেমন সিরিয়ালে দেখায়। এই ওর এক রোগ, একটু ফিল্মি, ওদের মেকি জীবন কিছুটা নকল করতে চায়। ইউটিউব দেখে ছেলের জন্য খাবার বানায়। নীলাদ্রি মনে মনে হাসে ছেলেমানুষি দেখে। যতই হোক জীবনের তেইশটা বছর যে অমন বিত্তবান ঘরে থেকে এসেছে, তার নেশালো থাবা এক মুহূর্তে তৃণভোজী হতে পারেনা। সময় সরিয়ে তুলবে। তাই বিচক্ষণ পরিণত নীলাদ্রির মনে একবারও অভিযোগ সরোদ বাজায়নি।
       হটাৎ রিনি খেয়াল করলো বৃষ্টি পড়ছে। গুবলুকে কোল থেকে বিছানায় নামালো, গায়ে হালকা ছিটে আসছে। মাটির সোঁদা গন্ধ মাথায় ঝিম ধরাচ্ছে। ভিজতে ইচ্ছে করলেও উপায় নেই, পাছে গুবলু না জ্বরে পড়ে। জানালার কাঁচটা টেনে লাগিয়ে দিয়ে আসমানী পর্দাগুলোকে যতটা সম্ভব গুটিয়ে দিল, …..না হয় এভাবেই মন খারাপের বৃষ্টি দেখবে। মনে পড়ছিল গতকালের  কথা……নীল ওর ফোনে হাত দিতেই  কিভাবে ছিনিয়ে নিয়েছিল, যেন কি যেন গোপন কথা জেনে ফেলবে রিনি। আয়নার সামনে গিয়ে রিনি নিজেকে নিয়ে দাঁড়ালো। সত্যি বলতে কি দক্ষ গ্রিক ভাস্কর বিশেষ যত্ন নিয়ে রিনিকে গড়েছেন। মাতৃত্বের ধকলে তা কতটা মরচে পড়েছে তা পরখ করে ভাবলো …..ওই মেয়েটা কি জানি কতটা সুন্দর, যে ওর নীলের চোখ দুটো জয় করেছে! ঠিক তখনই আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের পাশেই একটা লেখা দেখলো। সটান উল্টো দিকে ঘুরলো। হ্যাঁ , ঠিকই দেখছে ও…..বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে লেখাটা……”ভালোবাসি রে পাগলী,…….সরি…..” তার ঠিক নীচে একটা ল্যান্ড লাইন ফোন নম্বর। রিনি কিছুই ঠিক বুঝে উঠতে পারছেনা, তবে লেখাটা যে খুব টাটকা তা বুঝেছে। কিন্তু ফোন নম্বরটা কার! অঝোরে চোখ দিয়ে জল ঝরছে। সেই নম্বরে ফোন করতেই একটা নার্সিংহোমে ফোন লাগলো।
—হ্যালো, এটা কোথায়, কাইন্ডলি বলবেন!
—-ইয়েস ম্যাম, এটা সেবায়ন নার্সিংহোম।একটা রিনরিনে মার্জিত গলায় উত্তর এলো। রিনি কিছুটা থতমত খেয়ে নিজেকে সামলে নিলো।
—-নীলাদ্রি সেনগুপ্ত…….!
—–ও.টি পেশেন্ট তো!
——আঁ…… হ্যাঁ হ্যাঁ…. নিরুপায় রিনির মুখ থেকে অস্ফুটে বেরিয়ে গেল।
——-আপনি কি পেশেন্টর বাড়ির লোক বলছেন?
——–আমি ওনার স্ত্রী বলছি।
কিছুতেই জিজ্ঞাসা করতে পারলো না কেন নার্সিংহোমে যেতে হয়েছে নীলকে, ঘুমন্ত গুবলুকে কোলে তুলে নিল। আর এক মুহূর্তও দেরি করে যাবে না। নীলাদ্রির পৈত্রিক বাড়িতে গিয়ে শাশুড়ির হাতে গুবলুকে তুলে দিয়ে যখন নার্সিংহোম পৌঁছল, ও অবাক। গেটের সামনেই বাবা প্রদীপ মাইতি। মেয়েকে পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে বললেন “আমাকে ক্ষমা কর মা, নিলাদ্রিই নিষেধ করেছিল তাই…..” । আজ তিন বছর পর বাবাকে দেখলো, কথা হলো, কিন্তু কোনো পাওয়ার অনুভূতি হোলো না রিনির, যেন জিওনকাঠি হারিয়ে গেছে।
—–নীল কোথায়?
——এই তো বেডে দিয়েছে কিছুক্ষন আগে।
——কি হয়েছে নীলের? তোমরাই বা এখানে কেন? কোথায়, নীল কোথায়! অঝোরে কেঁদে যাচ্ছে রিনি।
—–তুই শান্ত হ মা , আমি সব বলছি।
—–আমি শান্ত হব!!! আমার নীল কোথায়! কি করেছ তোমরা!!
অস্থির হয়ে রিনি অচেতন হয়ে পড়লো।
প্রদীপ মাইতি ছুটে ভেতর নিয়ে গেলেন মেয়েকে, শুরু হলো চিকিৎসা। ডাক্তার জানালেন হাইপার হয়ে জ্ঞান হারিয়েছিল রিনি।
——বাবা আমার নীল কোথায় বাবা বলো না প্লিজ!! ডুকরে কেঁদে উঠলো রিনি।
——বেশ কিছুদিন থেকেই রঙ্গন কিডনির সমস্যায় ভুগছিল। ডাক্তার বললেন এন্ড স্টেজ রেনাল ডিজিজ। হঠাৎই পুরোপুরি কাজ করা বন্ধ করে দিল। ছেলেটাকে বাঁচাতে পারতাম না রে নীলাদ্রি কিডনিটা না দিলে……
——কি???
——-হমম, কাগজ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া সব জায়গায় খোঁজ করছি কিডনি ডোনারের, তখনই নীলাদ্রি বাঁচালো তোর ভাইকে রিনি। ওই তোকে কিছু আগে থেকে বলতে বারণ করেছিল।
——নীল কোথায়?আর রঙ্গন!!!!
——চল , নীল আর রঙ্গন দুজনেই এখন ভালো আছে।
রিনি অসাড় শরীর কাঁপা কাঁপা পায়ে কেবিনের বাইরে থেকে দেখলো ওর নীল শুয়ে আছে, ইচ্ছে করল বাচ্চা মেয়ের।মতো ছুটে গিয়ে ওর বুকে আছড়ে পড়তে, ঠিক আগের মতো। কিন্ত মানুষকে এজটা মোড়ে বড় হতে হইই। কারো কারো ক্ষেত্রে সেই পথ শুরুর আগেই মোড়টা চলে আসে। নিজেকে সামলে ঘরে ঢুকলো
——রি!!
——আমাকে কিছু বলোনি কেন নীল?তুমি ছাড়া তো আমার কিছু নেই নীল! কিচ্ছু নেই, কিচ্ছু নেই….
—–বললে তুমি চিন্তায় পাগল হয়ে যেতে, আমি তোমায় যে জানি রি! আসলে তোমাকে বলতে সাহস পাইনি , গত তিন মাস হলো আমাদের কোম্পানি রাজ্য ছেড়েছে। তাই চাকরিটাও গেছে। এদিকে তিনমাস ব্যাংকের লোন দিতে পারিনি। ব্যাংক থেকে শুধু চাপ দিচ্ছিল। এদিকে সংসার খরচ…, আমার ছোট্ট সোনাটাকে কিভাবে কষ্ট দিই বলো! এমন ভরা ডুবি আমি আগে থেকে টের পাইনি রি। এসব নিয়ে খুব চিন্তায় আছি, তখন হঠাৎই কাগজের একটা এড চোখে পড়ে,….’কিডনি ডোনার চাই, আর্জেন্ট’। ভাবলাম  মোটা টাকা পাবো কিছুটা সামলে উঠবো, তা করতেই একটা না একটা চাকরি ঠিক জুটে যাবে, বেঁচে যাবে আমার সংসার, আমার গুবলু, আমার রিনি, একটা কিডনি নিয়েও তো লোকে বাঁচে নিজের আত্মসম্মান নিয়ে!! নম্বরটাই ফোন করতেই আমি অবাক হয়ে গেছি….তোমার ভাই রঙ্গন এর জন্য , ……এতোটুক ছেলে রিনি, একুশেই প্রাণ চলে যাবে! আমি আর নিজের স্বার্থের কথা ভাবতে পারিনি, জানো। সব ভুলে তখন ওকে বাঁচানোর লড়াই করেছি। ভুল করেছি রি!!
——জানি না, কিচ্ছু জানি না আমি।
রিনি কেবিনের বাইরে বেরিয়ে এসে দেখলো দুই বাড়ির লোকে করিডোরে নিজেদের মধ্যে কথা বলছে, যেন মিলনান্তক নাটকের শেষ অঙ্ক। অবশ্য এর বিনিময়ে নীলাদ্রি খুব প্রয়োজনীয় অংশ হারিয়েছে। প্রদীপ মাইতি মেয়েকে বুকে টেনে নিয়ে বলল ” কিচ্ছু চিন্তা করিস না মা, আমার আরেক ছেলে আমারই ব্যবসা সামলাবে”
——বাবা, গত তিনবছরেও আমি তোমারই মেয়ে হয়ে ছিলাম, তাই বোধহয় নীল আমাকে সব বলে উঠতেই পারলো না। বাকি জীবনটা আমি নীলাদ্রি সেনগুপ্তের স্ত্রী হয়ে বাঁচতে চাই, সসম্মানে।
         নীলাদ্রি বাড়ি ফিরেছে। এই সাতদিন রিনি নার্সিংহোম আর বাড়ি করেছে। গুবলুর দিকেও নজর দিতে পারেনি। সেই সুযোগে গুবলুর সাথে ওর ঠাম্মির বেশ সখ্যতা জমে উঠেছে। এই কদিনে ছেলেমানুষি করা ফিল্মি মেয়েটা যেন হঠাৎই এক্কেবারে পরিনত। রাত গভীর হচ্ছে। বসন্ত কাল। তাই এই রাতদুপুরেও কোকিল আবহ সংগীত গাইছে। রিনি গুবলুকে ঘুম পাড়িয়ে নীলকে কোনোরকমে ধরে ডাইনিং থেকে বিছানায় নিয়ে গেল।
—– এবারে সুদে আসলে তুলে নিচ্ছি রি। দেখি তুমি কেমন আমায় কোলে তুলে নিয়ে আসতে পারো!
—– নীল তুমি একটু ভালো হলেই আমরা ওবাড়ি ফিরে যাচ্ছি। আর ….আর এই ফ্ল্যাটটা বিক্রি করে দিচ্ছি, তুহীনদাকে বলে সব ব্যবস্থা করে দিয়েছি নীল। টাকা পেলেই সবটা ব্যাংকে শোধ দিয়ে দেবে।
——- কেন রিনি!!!তোমার সাধের ঘর!!
—– আছে তো….আমার সাধের বর! আর গুবলুও ওর ঠাম্মিকে ছেড়ে থাকতে পারবেনা, বুঝলে….বুদ্ধুরাম। রিনি প্রায় বেরিয়ে আসা জলবিন্দু চোখ থেকে নামতে দিলনা।
—— কি হলো এমনভাবে কি দেখছো, বুড়ি হয়ে গেছি না!! মুখে মিথ্যে হাসিমস্কারার জল বুলিয়ে স্নেহ চোখে তাকালো নীলের দিকে।
——এই সাতদিনে সাত বছর পার করেছো তুমি। অনেক বড় হয়ে গেছো রি, অনেক বড়….।
——-আর জন্মে তুমি আমার মতো এমন অবুঝ ধারা বউ চাইবে না বলো!!
——-সে জানি না, তবে এক্ষুনি একটা ছোট্ট রি চাই, দেবে???
——-যাহ, অসভ্য।
 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *