তিয়াশার অন্তর্ধান রহস্য – Bengali Suspense story – Bengali Detective story book

তিয়াশার অন্তর্ধান রহস্য - Bengali Suspense story - Bengali Detective story book

                                  ১

থার্ড সেম শেষ।আপাতত পড়াশোনার সাথে কিছুদিন ব্রেক আপ।তাই হোস্টেলের রুমে নিজের বেডে শুয়ে কানে হেড ফোন গুঁজে  ঠ্যাং এর উপর ঠ্যাং তুলে নাচাচ্ছি।আমার রুম পার্টনার শৌভিক গার্লফ্রেন্ড এর সাথে ডেটে গেছে। বাবা  যা টাকা পাঠায় তাতে কিপ্টেমি করে কোনোমতে মাসে এক্সট্রা দু’প্যাকেট সিগারেট কিনতে পারি কিন্তু গার্ল ফ্রেন্ড…উঁহু….।তাই আপাতত অরিজিৎ–এর গান আর আমি ।এমন সময় হঠাৎ  অগ্নিদা ঝড়ের মতো ঘরে ঢুকে আমাকে এক হ্যাঁচকায় প্রায় টেনে মাটিতে ফেলে বিছানার উপর বসে পড়লো।মুখটা ভীষণ গম্ভীর।আমি বেচারা টলোমলো পায়ে কোনো মতে উঠে পাশে শৌভিককে বিছানায় গিয়ে বসলাম।ওদিকে তখন অগ্নিদা মহাদেবের মতো পোজ নিয়ে ধ্যানে বসে গেছে।পুরো ব্যাপারটা আমার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।কিন্তু এখন কিছু জিজ্ঞাসা করতে গেলেই একটা বিরাশি সিক্কার চড় এসে পড়বে আমার গালে।তাই যতক্ষন ওর ধ্যান ভঙ্গ না হয় ততক্ষণ একটু আমাদের পরিচয়টা সেরে নি।আমি হলাম  তথাগত পাল।তবে সবাই পাপাই বলেই ডাকে।বালিগঞ্জ সাইন্স কলেজে মাস্টার্স করছি।ভূগোল ,সেকেন্ড ইয়ার।বাড়ী দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার রায়দিঘী,যদিও থাকি গরচা রোডের কলেজের হোস্টেলে ।সিনিয়র জুনিয়র সবাই বন্ধুর মতো থাকি।দু একটা কাজ বেশি করতে হলেও পড়াশোনার বই থেকে নোট পত্তর সব ক্ষেত্রেই সিনিয়ররা ভীষণ সাহায্য করে।ফার্স্ট সেমের জন্য খুব দরকারী কিছু নোটসের  কারণেই গেছিলাম অগ্নিদার কাছে।তখন থেকেই পরিচয়।তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত দুজনের এমন বন্ধুত্ব হলো যে পিছনে সবাই আমাকে অগ্নিদার” চামচা তোপসে” বলেও রাগায়।হু হু…এবার একটু অন্যরকম গন্ধ পাচ্ছেন নিশ্চয়ই, বলবো বলবো,অগ্নিদাকে কেন সবাই ফেলুদা বলে সে কারণটাও বলবো।আগে ওর সম্পর্কে একটু বলি..কেমন!অগ্নিদা মানে অগ্নিভ চ্যাটার্জী এখন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র।প্রায় ছয়’ফুট উচ্চতা,টুকটুকে ফর্সা গাত্রবর্ন,জিম করা পেশীবহুল শরীর,ডান হাতে জুড়ে মহাকালের ট্যাটু।এক কথায় ভীষণরকম  হ্যানসাম। বাবা বড়মাপের বিসন্যাসম্যান।তবে অর্থের অহংকার করতে দেখিনি কখনও।
              ও মা..এখনও দেখি অগ্নি বাবু গুম মেরে বসে আছে,ধ্যান ভাঙার কোনো সবুজ বাতি দেখতে পাচ্ছি না।সময় যখন আছে তবে ওর ফেলু চ্যাটার্জী হওয়ার গল্পটা বলি।আগের বছরের মে মাস চলছে তখন।অসম্ভব গরম।হোস্টেলের ঘরগুলো  দিনের বেলা  হট চেম্বার হয়ে যেত।তাই কলেজের ল্যাব-এ বেশি সময় কাটাতাম আমরা।ল্যাবগুলো সব AC,তাই আরকি।নিজের ভালো তো পাগলেও বোঝে বলুন,তাই গরমের সময় একটাও ক্লাস মিস করতাম না।এহেন সময় একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করলো।প্রতিদিন বেশ কয়েকজনের আন্ডার গার্মেন্টস চুরি হয়ে যায় ,আবার এক দুদিন পর সব গুলোই যথাস্থানে খুঁজে পাওয়া যায়।এরকমভাবে প্রায় সপ্তাহ দুয়েক কেটে গেল।কিন্তু ঐরকম  অদ্ভুত পাগল চোরের খোঁজ পাওয়া গেলোনা।চুরির কারণটাও পরিষ্কার নয় কারো কাছে,কেনই বা চুরি করেছে আবার কেনই বা ফেরত দিচ্ছে।সবাই সবাইকে সন্দেহ করতে শুরু করেছে।পরোস্পেরর মধ্যে সম্পৰ্ক দিনদিন ঝগড়াঝাটি থেকে হাতাহাতিতে নেমে গিয়েছে।শুধুমাত্র বাড়ি যাওয়া ছাড়া অন্যসময় কেউ তালাচবির টিকিটিও ছুঁ ‘তো না।কিন্তু এবার সবাই নিজের নিজের ঘরে তালা লাগিয়ে ক্লাস এ যেতে লাগলো।তাতেও চুরি বন্ধ হয়না।রুম পার্টনারদের মধ্যেও ঝগড়া শুরু।এরকম ভাবেই চলছিল।তারপর হটাৎ একদিন ক্লাস করছি,টুং করে msg আসলো,অগ্নিদার msg।”তাড়াতাড়ি আয় হোস্টেলে”।কোনোমতে ম্যানেজ করে দৌড় দিলাম হোস্টেলে।গিয়ে দেখি অগ্নিদার রুমের বাইরেই ভিড় লেগে আছে। সবাইকে একটু সরিয়ে মাথাটা গলিয়ে দিলাম ঘরের ভিতরে দিকে।ওমা!!খুব পরিচিত ও প্রিয় একজন মানুষ কাঁচু মাচু মুখ করে বসে আছে বিছানার উপর।অগ্নিদা জানালার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।চোখ বাইরের প্রকৃতির দিকে নিবদ্ধ।ডান হাতের তর্জনী ও মধ্যমার মাঝে বিরাজমান জ্বলন্ত সিগারেট।
      চোর তবু চোর নয়।ওনার চুরির কারণ শুনে নিজেদেরই এত লজ্জা লেগেছে যে ছেলেগুলো আর না দাঁড়িয়ে নিজের ঘরে গিয়ে মুখ লুকিয়েছে।ভিড়টা হাল্কা হতেই ঘরে ঢুকে ওনার পাশে বসলাম।”হালার পো,সরে বস খানিক,কি নোংরা পোলা,বাবা,জম্মে দেহি নাই।সেই দু হপ্তা আগে কাইচা দিলুম,তাপ্পর থেইক্কা একই জিনিস পইরা কেমনে ঘুরোস?চ্চ্যা, এক্কেরে  নুংরা …”বলতে বলতেই তিড়িং করে এক লাফ মেরে ছিটকে সরে গেল ভদ্রলোক।আমি লজ্জার মাথা  খেয়ে অগ্নিদার দিকে চেয়ে দেখি ও ব্যাটা মুখ টিপে টিপে হাসছে।সোজা উঠে গিয়ে চেপে ধরলাম,বললাম “বলো আগে,কি করে বুঝলে যে সব কম্মের হোতা এই শ্রীমান”…তার উত্তরে অগ্নিদা যা বললো তার সারমর্ম হলো এই যে,ও নাকি প্রতিবার যার যার অন্তর্বাস চুরি গেছিলো এবং আবার পুনরায় ফেরৎ পেয়েছিল তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসা করে একই উত্তর পায় যে ওগুলো যখনই ফেরৎ পেতো তখনই পরিষ্কার সুন্দর করে কেচে ধুয়ে পাট করা অবস্থায়।আর হোস্টেলের ছেলেদের জামাকাপড় কি অবস্থায় থাকে,আর কদিন একই জামা পারফিউম মেরে চালায় সবাই জানে।তখনই সন্দেহ হয় চোরের নিশ্চই কাপড় জামা কাচার বাতিক আছে এছাড়া আর কোনো মোটিভ নেই।কিন্তু কে সে মহান ব্যক্তি?ঘর ঝাড়পছ তো ওরা থাকতে থাকতেই সকালে মন্টুদা করে দিয়ে যায়।তাহলে কে আসে তাদের অনুপস্থিতে?তাই ওইদিন সবাই ক্লাসে চলে গেলে অগ্নিদা তার এক সপ্তাহ ধরে না ধোয়া অন্তর্বাস গুলো বিছানায় ছড়িয়ে নিজের খাটের নিচে লুকিয়ে থাকে।তারপর একদম হোস্টেল ফাঁকা হয়ে যেতে শুনতে পায় একটা পায়ের শব্দ ।সিঁড়ি বেয়ে দো তলায় উঠে আসছে।খুব ধীরে ধীরে এগোচ্ছে ।মনে হয় প্রতিটা ঘরের সামনে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে তারপর পরের তার দিকে এগোচ্ছে।এমনি ভাবেই অগ্নির ঘরের সামনে পৌঁছালো,দরজাটা আধ খোলা ছিল।আগন্তুক কিছুক্ষন দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে ঢুকলেন,তারপর সেই বিখ্যাত বাঙাল ভাষায় অগ্নির গুষ্টি উদ্ধার করতে করতে অত্যন্ত ঘৃণাভরে একটা প্লাস্টিক ব্যাগে জিনিসগুলো ঢুকিয়ে নিয়ে যেই না বেরোতে যাবে তখনই অগ্নি খাটের তলা থেকে বেরিয়ে এসে খপ করে চেপে ধরে তার হাত।তিনি আর কেউ নন,হোস্টেলের সবার প্রিয় মন্টুদা।আমাদের হোস্টেলের কেয়ার টেকার মন্টুদা। ঘর ঝাড়া মোছা পরিষ্কার করা সবই একা হাতে করে সদাহাস্যময় মন্টু দা।বিয়ে থা করেন নি।হোস্টেল এর ছেলেদের নিয়েই তার দিন কেটে যায়।সেই মন্টুদা।
সবটা শোনার পর যেই মন্টুদার দিকে চেয়েছি খেঁকিয়ে ওঠে বলে”আড়চোখে কি দ্যাখোস?হাত নুলো হইয়া দিমু ,দেখোস একদিন,ওরে হালার পো দিনের পর দিন সেন্ট মাইরা একই প্যান্ট শার্ট পইরা ঘুরোস ,বুঝলাম, কিন্তু ওই ঘেমো গেঞ্জি জাঙ্গিয়া গুলানে তো আর সেন্ট মারোস না।ঘরে ঢুকলেই গন্ধে আমাগো অন্নপ্রাশনের ভাত উইঠ্যা আসে।তোদের তো বলে কোয়েও কিসসু হয়নাই।কি করুম,তাই নিজেই কাইছ্যা দি।তাই বলে তুরা আমাগো চুর থাওরালি?আমি আর থাকুম না এহেনে।”বলেই উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে ।অনেক কষ্টে সে বার অগ্নিদা ,আমি বাকি ছেলে পিলেরা ঠান্ডা করেছিলাম।কিন্তু অগ্নিদাকে সেই থেকেই সবাই ক্ষেপাতে শুরু করে অন্তর্বাস রহস্যের সমাধান করার জন্য।তাই বলে অগ্নিদা কিন্তু একটুও দমে যায়নি।ও তো বলে ওর জন্মই হয়েছে নাকি গোয়েন্দা হবে বলে।রীতিমত পড়াশোনা করে ও ।
        যাই হোক।এতক্ষণে অগ্নিদার মনে হয় ধ্যানভঙ্গ হয়েছে।ভ্রু যুগোলকে যথাসম্ভব কুঞ্চন করে  সরু চোখে তাকাচ্ছে এদিকে।ব্লু ডেনিমের উপর বরফ সাদা রঙের শর্ট কুর্তা,হাতা দুটো গোটানো।ডান হাতের ট্যাটুর কিছুটা দৃশ্য মান।এতক্ষন বাবু আড্ডুম হয়ে বসে ছিল,তাই মনে হয় পা ধরে গেছিলো।উঠে পায়চারী করতে করতে  ইশারা করলো আমার দিকে।বুঝে গেছি।প্রাণে ধরা যক্ষের ধনের মতো সিগারেটের প্যাকেটটা বের করে তার থেকে একটা নিয়ে দিলাম অগ্নিদা কে।সিগারেটটা জ্বালিয়ে দু’টান মেরে তারপর মৌনব্রত ভেঙে ঠোঁট দুটো নড়ে উঠলো মৃদু।”পাপাই,ভীষণ কঠিন একটা রহস্য,বুঝলি”
আমি আগা মুড়ো কিছু না বুঝেই মাথা নাড়লাম।
ওটা ওর সাথে দেখা হলে প্রায়ই বলে থাকে।তাই বেশি পাত্তা দিলাম না।শুধু ‘ হুঁ’ বলে থেমে গেছি দেখে কেমন যেন একটা ঘোলাটে ভয়ানক দৃষ্টিতে তাকালো আমার দিকে।তারপর যেন চায়ে ভেজা বিস্কুটের মতো নরম গলায় জিজ্ঞাসা করলো…
–তিয়াশাদি কে তোর মনে আছে?
একটু ভেবে বললাম “হুঁ, তোমার পিসতুতো না মাসতুতো দিদি তো?
–পিসতুতো দিদি।তুই তো ওর বিয়ের ছবি দেখেছিস।ফেবুতে পোস্ট করেছিলাম তো!
–ও,হ্যাঁ,হ্যাঁ…মনে পড়েছে।কিন্তু হয়েছে টা কী?
–তিয়াশা দি বাড়ীতে এসেছিল এক সপ্তাহ আগে।বাড়ি মানে পিসির বাড়ী।বীরভূমে।
–হ্যাঁ, তো কি হলো?বাড়ির মেয়ে বাড়ি এসেছে ,তাতে হলো কি?একটু অধৈর্য হয়ে বললাম।এই আধা পেটে আর আধা মুখে হলেই আমার মেজাজ বিগড়ে যায়।আর অগ্নিদার স্বভাবই হচ্ছে আমাকে এই রকম ভাবে কথা বলা।একটু বিরক্ত হয়ে বললাম…
–একটু ঝেড়ে কাশবে নাকি ?
–বলছি,বলছি,বস আগে চুপ করে।তোকে তো বলতেই হবে খোলসা করে।সেই জন্যই তো আসা।
আবার গিয়ে বসলাম ওর পাশে।ও বলতে শুরু করলো..
–তিয়াশা দি কেরালা তে একটা রিসার্চ সেন্টারে জুনয়ার রিসার্চার হিসাবে দু’বছর আগে জয়েন করে।
ওর শেষ কথাটার রেশ ধরেই বললাম..” কি নিয়ে রিসার্চ করে গো?” উত্তরে অগ্নিদা বললো “‘Emotion  control’  মনে মানুষের ‘আবেগ নিয়ন্ত্রণ’ নিয়ে।নীলগিরি পার্বত্য অঞ্চলে এমন সব উদ্ভিদ প্রজাতি আছে যেগুলোর দ্বারা মানুষের মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।”
ভূগোল নিয়ে পড়ার সুবাদে এটুকু খুব ভালো করে জানি যে ভারতের একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ Biodiversity hotspot  হলো এই নীলগিরি পার্বত্য অঞ্চল।ফ্লোরা ও ফনার অসংখ্য প্রজাতির জন্মস্থল এটা।এইসব ভাবছি মনে মনে,তখনই হটাৎ আবার অগ্নিদা বলে উঠলো ” লাস্ট ডিসেম্বরে দিদি বিয়েও করে ওরই পছন্দ করা পাত্রকে।উনি ওই রিসার্চ সেন্টারের সিনিয়র রিসার্চার।এক সপ্তা আগে ও হঠাৎই পিসি পিসেমশাইকে না জানিয়ে বাড়ি চলে আসে।দু দিন পর আবার হঠাৎই যেমন এসেছিল তেমনই হটাৎ কেরালা ফিরে যাবে বলে বেরিয়ে যায়।কিন্তু…
        এই পর্যন্ত বলে আবার থেমে যায় অগ্নি দা।অস্ফুটে আরও কয়েকবার” কিন্তু কিন্তু” বলে সিগারেটে টান দেয়।
আমার মনে হচ্ছে কেউ যেন আমাকে হটাৎ করেই বোদা পুকুরে ফেলে দিয়েছে।না উঠে আসতে পারছি না দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি।ক্রমাগত যেন পাঁকের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছি।অগত্যা আরেকবার হাতটা ধরে টান দিলাম অগ্নি দার।চমকে উঠে আমার দিকে চেয়ে বলল..
–”গেলো কোথায় বলতো?”
–মানে?তুমিই তো বললে কেরালা ফিরে গেছে।
–উঁহু..আমি বলেছি,বেরিয়েছিল,কিন্তু ফেরৎ যায়নি।
–ফেরৎ যে যায়নি তুমি মানে তোমরা জানলে কি করে?
–আরে হনু,ওর হাজব্যান্ড পরশু ফোন করে জানিয়েছে যে ও কেরালা ফেরেনি।আর পিসিরা সব  চেনা জানার মধ্যে খবর নিয়েছে,দিদির বন্ধুদের বাড়িতেও খোঁজ নিয়েছে।কিন্তু ফলাফল শুন্য।
–তাহলে জলজ্যান্ত মানুষটা গেল কোথায়।আচ্ছা উনি সুইসাইড করেনি তো?বা কেউ হয়তো কিডন্যাপ করেছে,এইসব গবেষকদের শত্রুর তো অভাব থাকেনা।
–প্রশ্নটা আমার মনেও যে উঁকি দেয় নি তা নয়।কিন্তু দিদি যেমন ডাকাবুকো তাতে সুসাইড করার মেয়ে ও নয়..তবে..  বলে কিছু ভাবতে ভাবতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলো জানালার বাইরে।
  আমার মনেও তখন বেশ বড়সড় একটা কৌতূহলের ঝোরা নামতে শুরু করেছে।তারপর হঠাৎই যেন ঘুম ভেঙে জেগে উঠলো অগ্নিদা।আমার দিকে চেয়ে বললো…”এই দেখ..তোকে যেটা বলতে এসেছিলাম,সেটাই বলা হয়নি।”আমি তাড়াতাড়ি বলে উঠলাম “হ্যাঁ,হ্যাঁ,বলো,কি বলবে?”অগ্নিদা বললো “বাবা মা পিসির বাড়ি চলে গেছে।ভাবছিলাম আমিও কাল যাই।তুই কি যাবি আমার সাথে?”  আমি লাফিয়ে উঠে বললাম” ইয়েস বস..হালবাৎ যাবো..কখন বেরোবে বলো?” এটা শুনেই ও কেমন যেন দাঁত মুখ খিঁচিয়ে উঠে বললো”ওরে বিয়েবাড়ির ভোজ নয় এটা,গেলে কিন্তু কব্জি ডুবিয়ে বসার কথা ভুলে যেতে হবে।”   শুনে বেশ রাগ হলো আমার। না হয় একটু খেতে ভালোবাসি,তাই বলে যখন তখন খোঁটা খাওয়া পোষায় না বাপু।মুখটা বাংলার পাঁচ করে বললাম”তোমার দরকার যখন তুমিই যাও, আমি আর গিয়ে কি করবো”……বলে আড় চোখে দেখলাম,ফিকফিক করে হাসছে অগ্নিদা।”নে, নে, অতো ভ্যানতাড়া করতে হবে না,দিন চারেকের মতো থাকতে হবে।সেইমতো প্যাক কর।আর মন্টু দা কে জানিয়ে দিল।সকালে ট্রেন।আমি ট্রেনের টিকিট কেটে নিয়ে তোকে হোয়াটস য়্যাপ এ মেসেজ করে দেব।বেরোলাম”বলেই হনহন করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।এই মানুষটাকে বোঝা দায়।যাক এখন আর বুঝে কাজ নেই,এখন ব্যাগটা  চটজলদি গুছিয়ে নিতে হবে।
      বেশিক্ষন লাগলো না,আধ ঘন্টার মধ্যে সব প্যাক করে নিলাম।তখন কি আর ভেবেছিলাম কোন ভয়ানক পথে পা বাড়াতে চলেছি।বেরোবার আনন্দে ভাবলাম আজ তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খেয়ে নেয়া ভালো।শৌভিকের জন্য অপেক্ষা করে লাভ নেই।তাই ৯টার মধ্যে ডিনার সেরে শুয়ে পড়লাম।তিয়াশা দির অস্বাভাবিক ভাবে নিরুদ্দেশ হওয়াটা নিয়ে ভাবতে ভাবতেই কখন ঘুমিয়ে গেছিলাম জানিনা।রাতে স্বপ্ন দেখলাম..আমি কোনো গভীর জঙ্গলে ঢুকে গেছি।হাতে একটা বড় ধারালো চাকু।চাঁদের আলোয় ঝকমকিয়ে উঠছে তার তীক্ষ্ণ ফলা।হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেছি একটা ছোট্ট হ্রদের সামনে।একটা অদ্ভুত ধরণের ফুল ফুটে আছে হ্রদের জলে।পদ্ম নয়।গোলাপের মত দেখতে…আমি হ্রদের জলে নেমে যাচ্ছি।ক্রমাগত গভীরতা বাড়ছে,ডুবে যাচ্ছি আমি,ফুলটা আমার চাই…কিন্তু…হ্রদের জলে শুধু চোখ দুটো জেগে আছে আমার।দমবন্ধ হয়ে আসছে।উফফফফ…..
কি ভয়ঙ্কর স্বপ্ন,ধড়ফড় করে উঠে বসলাম বিছানায়।ফোনটা অন করে দেখি ভোর ৫ টা বাজে।অগ্নিদার তিনটে মেসেজ আনসীন হয়ে আছে।খুলে দেখলাম, ট্রেনের ই-টিকিটের একটা কপি,ট্রেনের সময় আর সাথে একটা চাকু নিতে বলেছে।লাস্ট মেসেজ টা দেখে আবার মনে পড়ে গেল আমার স্বপ্নটা।

  ( ২য় পর্ব)

                            ২

 সকাল ৭টার রামপুরহাট এক্সপ্রেস ধরে যখন আহমেদপুর স্টেশনে নামলাম তখন ঘড়ির কাঁটা বেলা ১১ টা ছুঁই ছুঁই।সেখান থেকে বাস এ চেপে পনেরো মিনিট পর পৌছালাম লাভপুর নতুন বাস স্ট্যান্ড।স্ট্যান্ডেই দেখলাম সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে টোটো।অগ্নিদা চটপট একটা টোটোতে উঠে বসে ড্রাইভারকে ঠিকানা বলে দিলো।আমিও উঠে পড়লাম টোটো তে।প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা উজিয়ে পৌঁছলাম মহুগ্রাম,অগ্নিদার পিসির বাড়ি।বাড়ির আর্কিটেকচার বেশ পুরানোদিনের।তবে রং টং করে ঝাঁ চকচকে করা।বাইরের বড় লোহার গেট ঠেলে ভিতরে এগিয়ে গেলাম।দরজায় দেখলাম জেঠিমা মানে অগ্নিদার মা দাঁড়িয়ে আছেন।ওনার সঙ্গেই আমরা গিয়ে ঢুকলাম বসার ঘরে।ওই ঘরের বাম দিক দিয়ে উঠে গেছে দোতলা যাওয়ার সিঁড়ি।সামনের দিকে আরও দুটো ঘরের দরজা দেখলাম।তার পাশে রান্নাঘর।বসার ঘরে অনেক লোকজন,বেশীর ভাগই মহিলা।মাঝে একজন মহিলা চুপ করে বসে আছেন,চোখ মুখ ফোলা,দেখে মনে হলো উনিই অগ্নিদার পিসীমা।বাকি মহিলাগণ সান্ত্বনা দেয়ার নামে যা বলছে তার দু একটা কানে আসতেই দেখলাম অগ্নিদা বেশ রেগে গেছে।জেঠিমা আমাদের বললেন ” চুপচাপ উপরে  তিয়া র পাশের ঘরে চলে যা।স্নান সেরে বস।আমি খাবার নিয়ে আসছি” বলে উনি রান্নাঘরে চলে গেলেন।অগ্নিদার পিছু পিছু সোজা উপরে গিয়ে দুটো ঘর ফেলে তিননম্বর ঘরে গিয়ে ঢুকলাম।তার পাশেই বাথরুম।ঘর খোলাই ছিল।অগ্নিদা ব্যাগপত্তর রেখে আমাকে বললো “তুই আগে স্নান সেরে আয়, আমার একটু কাজ আছে”বলেই  ঘর থেকে বেরিয়ে পাশের ঘরে ঢুকে গেলো।আমি একটু টুকি মেরে দেখলাম।ওটাই মনে হয় তিয়াশা দির ঘর।তবে এক ঝলক দেখেই যেন মনে হলো ঘরের ভিতর একপ্রস্থ ঝড় বয়ে গেছে।আর দেখার সুযোগ হলোনা।অগ্নিদা খেঁকিয়ে উঠতেই পালিয়ে আসলাম ।তারপর স্নান সেরে এসে দেখলাম তখনও অগ্নিদা আসেনি।আমিও তাই গিয়ে ঢুকলাম তিয়াশা দির ঘরে।আমাকে দেখে অগ্নিদা বললো”এই ঘরে চোর এসেছিল এবং কোনো একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস চুরি করেছে।বুঝলি”।যদিও ঘরের অবস্থা দেখে আমারও কেমন একটা সন্দেহ হয়েছিল।ঘরে ঢুকেই যেটা আগে চোখে পড়ে সেটা হলো একটা গোটা দেওয়াল জোড়া বইয়ের আলমারী।তবে সবই ওলটপালট হয়ে আছে।নীচে অনেক বই এলোমেলো ভাবে পড়ে আছে।ঘরের বামদিকে একটা খাট,তার পাশে একটা ওয়ার্ডরোব।বিচানাটাও এলোমেলো।আমি বললাম “তুমি এতটা সিওর হয়ে কিভাবে বলছো যে চুরি হয়েছে?”
“ওরে গবেট একটু ভালো করে দেখ”বলে ওয়ার্ডরোবের তিনটে পাল্লা খুলে দিল ও।”কী দেখছিস”বলে আমার দিকে ইঙ্গিতপূর্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো।বললাম..
–কি দেখবো,ওই তো জামাকাপড়।
–আর
–সব ওলটপালট
–আর
–আবার কী?এটা দেখেই বলছো যে চোর আসে চুরি করে কিছু নিয়ে গেছে?
–ওরে গবেট,ভালো করে দেখ।এই ওয়ার্ডরোবের শুধু প্রথম দরজা দুটো খোলা হয়ে ছিল,লাস্ট টা খোলার প্রয়োজন হয়নি কারণ আগের দুটো কম্পার্টমেন্টের জামাকাপড় ঘাঁটা হলেও লাস্টেরটার সব কিছু সুন্দরভাবে গোছানো রয়েছে।মানে চোর সেকেন্ড কম্পার্টমেন্ট থেকে যা পাওয়ার সেটা পেয়ে গিয়েছিল।
–হুঁ, তাই তো।
–বইগুলোর মধ্যেও কিছু খোঁজাখুঁজি হয়েছে মনে হচ্ছে।মন বলছে তিয়াদির নিরুদ্দেশ  হওয়ার পিছনে কোনো বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে ।
–তুমি এখন কি করবে অগ্নি দা?
–দাঁড়া, আগে কয়েকটা দরকারি জিনিস নোট করে নিতে হবে।তারপর পিসী পিসিমশায়ের সাথে ভালো করে কথা বলতে হবে।
আমার ততক্ষণে পেটে ছুঁচোয় ডন মারতে শুরু করেছে।কিন্তু অগ্নিদার যা নেশা চেপে গেছে তা সহজে নামার নয়।অগত্যা লজ্জাশরোমের মাথা খেয়ে বললাম “কাজ তো হবেই কিন্তু মস্তিষ্ককে খাবার না দিলে সব হিসাব ভুলভাল হয়ে যাবে।চলো কিছু খেয়ে নি,তারপর নাহয় দেখা যাবে”কথাটা কানে যেতেই অগ্নিদা এমনভাবে তাকালো যেন পারলে আমাকে ভস্ম করে দেয়।দাঁতে দাঁত চেপে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো “পাশের ঘরে মা খাবার রেখে গেছে,গিলে উদ্ধার কর ,এত খিদে পায় কীভাবে?ট্রে নে তো একটা হকারকেও ছারিসনি।”আমি আর উত্তর না দিয়ে ঘরে ঢুকলাম।দেখি ছোট্ট টি-টেবিলের উপর দুটো থালা ঢাকা দেয়া আছে।ঢাকা খুলে দেখলাম নেহাৎ ই আড়ম্বরহীন খাদ্যতালিকা।ভাত,বেগুন ভাজা,একটা সবজি আর ডাল।কিন্তু খাবার দেখে খিদেটা আরো বেড়ে গেলো,তবে অগ্নিদা ছাড়া খাবো কেমন করে।এটা ভেবে ডাকতেই যাচ্ছি দেখি বাবু এসে হাজির।”ভাবলাম আগে খেয়ে নিয়ে তারপর নাহয় বাকি কাজগুলো করবো”বলেই খেতে বসে গেল অগ্নিদা।বললাম “তুমি স্নান করবে না?”ও  বললো ও নাকি সকালে স্নান করে বেরিয়েছে,তাই এখন ভালোভাবে হাত মুখ ধুয়ে নিয়েছে।আর দেরি না করে আমিও খাবারে মনোনিবেশ করলাম।
          খাওয়া শেষে নীচে নেমে আসছিলাম আমরা।একসাথে দুটো করে সিঁড়ি টপকে টপকে নেমে সোজা রান্না ঘরে গিয়ে ঢুকলো অগ্নিদা।কিছুক্ষনের মধ্যেই বাইরে এসে আমাকে ইশারা করলো।আমি কাছে যেতেই বললো” বাবা আর পিসেমশাই থানায় খবর নিতে গেছিলো।ফিরেছে।চল,কথা বলে আসি।মহিলাগনের জটলা টপকে দুজনে ঢুকলাম পিসেমশায়ের ঘরে।ঘরে ঢুকে কোনো ভনিতা না করেই অগ্নিদা ওর  পিসেমশায়ের পাশে গিয়ে  বসলো।আমি শ্রো তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলাম।ওদের মধ্যে যা কথোপকথন হলো তা মোটামুটি এরকম….
অগ্নিদা :পুলিশ কি বললো পিসু?
পিসু :বললো তো দেখছে।পজিটিভ কিছু বললোনা ।
অগ্নিদা :আচ্ছা, আমি কয়েকটা ব্যাপারে একটু ক্লিয়ার হতে চাই।তুমি একটু হেল্প করো প্লিজ।
পিসু :বল,কি জিজ্ঞাসা করবি।
অগ্নিদা :দিদি ঠিক কবে কখন এখানে এসেছিল?
পিসু :তোর দিদি,সেদিন ভোর মানে ১০তারিখ ভোরবেলা হটাৎ এসে হাজির।তোর পিসী দরজা খুলে অবাক।মেয়ের চোখমুখ কেমন যেন হয়েছিল।ভাবলাম হয়তো এতটা জার্নি করে এসেছে,ক্লান্ত ।তিয়াও কোনো কথা বললো না।সোজা ওপরে ওর ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো।
অগ্নিদা :দিদি আসার পর বা আবার ফিরে যাবার পর অচেনা কেউ কি এবাড়িতে এসেছিল?কোনো সেলসম্যান হলেও মনে করে বলবে।
পিসু :(বেশ গম্ভীর ভাবে চিন্তা করে)।উঁহু,না রে।অচেনা কেউ আসেনি।থাকি তো দুটি প্রাণী।আর লক্ষীর মা আছে কাজকর্ম করে।তবে ও কয়েকদিন মেয়ের বাড়ি গেছে।
অগ্নিদা: কবে গেছে মেয়ের বাড়ী?দিদি আসার আগে না পরে?
পিসু :তোর দিদি আসার আগে গেছিলো ।কিন্তু ..
অগ্নিদা :কিন্তু কী পিসু?ভালো করে মনে করে বলো..
পিসু :তিয়া আসার পরের দিন লক্ষীর মা একবার এসেছিল।বললো কিছু টাকা লাগবে,ওর নাত্নীটার নাকি শরীর খারাপ।
অগ্নিদা : কতক্ষন ছিলেন উনি?
পিসু :আধ ঘন্টা হবে।আমি বাজারে গিয়েছিলাম।তাই তোর পিসি নাকি ওকে অপেক্ষা করতে বলেছিল।তাই আরকি।আমি এসে টাকা দিতেই  বেরিয়ে গিয়েছিল।
অগ্নিদা :তারপর থেকে আর কেউ আসেনি তো?
পিসু : না তো।
অগ্নিদা :ওনার মেয়ের বাড়ি কোথায় জানো?
পিসু : এইতো আমাদের পরের গ্রামেই।ফালাগ্রাম।
অগ্নিদা:ভালো কথা!ওই লক্ষীর মাকে কত টাকা দিয়েছিলে তুমি?
পিসু :ওকে দুহাজারের একটা নোট দিলাম।কিন্তু কি অদ্ভুত,বললো অতো  টাকা লাগবে না।পাঁচশো দিলেই হবে ।তাই দিয়েছিলাম।
অগ্নিদা :ওনার বয়স আন্দাজ কেমন হবে?
পিসু :খুব বেশি নয়,পঁয়তাল্লিশ ছেচল্লিশ হবে।কিন্তু তুই ওর কথা কেন এত গুরুত্ব দিছিস বুঝতে পারছিনা।একেবারে গেঁয়ো মহিলা।অনেকদিন আছে আমাদের বাড়িতে।তোর দিদিকে খুব ভালোও বাসে।
অগ্নিদা :না পিসু,তুমি ভুল বুঝো না।দির এইভাবে হটাৎ আসা আবার কিছু না বলে চলে যাওয়া।তারপর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া।সব কেমন ধোঁয়াশা হয়ে রয়েছে ।আচ্ছা।তুমি একটু বিশ্রাম নাও।আমি পিসীর কাছে যাচ্ছি।
 বলে আমাকে ডেকে নিয়ে বেরিয়ে এলো ঘর থেকে।আমি বললাম “কি বুঝলে? ওই লক্ষীর মা নামক মহিলা কি কিছু জানে ?” অগ্নিদা বললো ,”একদম শিওর নয়,তবে কিছু একটা গরমিল আছেই।ওই টাকার ব্যাপারটাও ভাবাচ্ছে আমাকে।”বলে ও পিসীমার কাছে গিয়ে বসলো।ততক্ষণে সেই সন্তনাপ্রদানকারী মহিলাগণ কেটে পড়েছেন,দুপুর 2 টো বাজে।ডান হাতের কাজ সেরে ভাত ঘুম দিয়ে আবার এসে সান্তনা দিতে হবে।তাই হয়তো।
অগ্নিদাও সুযোগ বুঝে পিসীমার হাতটা ধরে পাশে বসে বলতে শুরু করলো।একটু এদিক ওদিক কথা বলার পর আসল কথাটা পাড়লো।”বলছি পিসী, দিদি যেদিন এসেছিল তারপর কি এবাড়িতে চেনা বা অচেনা কেউ এসেছিল?
পিসিমা :না তো বাবা!
অগ্নিদা :আচ্ছা,কিন্তু পিসু বললো লক্ষীর মা এসেছিল।
পিসীমা : হ্যাঁ,ও এসেছিল বটে।গরীব মানুষ বাবা।ওর নাত্নীটার নাকি শরীর খারাপ ,তাই কটা  টাকার জন্য এসেছিল।
অগ্নিদা:কখন এসেছিল?
পিসিমা : সময় অত মনে নেই রে বাবা।তোর পিসু বাজার গেল।তারপরই ও এলো।কিন্তু হিসাবের টাকা তো ,তাই বললাম তোর পিসু আসুক ,উনিই দেবেন।
অগ্নিদা :তারপর কি উনি ততক্ষন বসেছিলেন তোমার সামনে?
পিসিমা: ও বললো।তিয়া এসেছে,ওর সাথে দেখা করে আসি।কিন্তু তিয়া তখন বেরিয়েছিল।বললাম।তা ও বললো ঘর গুলো তাহলে পরিষ্কার করে আসি।আমি ভাবলাম আমার হাঁটুর ব্যাথা।তা যদি পরিষ্কার করে দেয় তো ভালো।তাই হ্যাঁ বলতে ও  চকে গেল ওপরে।খানিক্ষণ পর নেমেও এলো।তখনও তো জানিনা যে তোর দিদি আর ফিরবেনা। বলে পিসিমা আবার কাঁদতে শুরু করলেন।অগ্নিদা আমি একটু কোনোমতে চুপ করিয়ে আবার নিজেদের ঘরে চলে এলাম।
অগ্নিদা বললো” এখন একটু ঘুমাবি তো ঘুমা।বিকালে বেরাতে হবে।”বলে ফোনে কি খুট খাট করতে লাগলো।আমি জানি এখন আর একটাও কথা বললে ঘর থেকেই বের করে দেবে আমাকে।চুপচাপ বিছানায় শুয়ে পড়লাম।

চলবে….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *