TIME PASS – টাইমপাস – Bangla Golpo – Lockdown Special Story Bangla

TIME PASS - টাইমপাস - Bangla Golpo - Lockdown Special Story Bangla

                   TIME PASS

লকডাউন  এর  জন্য  আজ  কাল  ভালো  খাবার  বাড়িতে  হয়না  বললেই  চলে। কিনতু  আজ  রবিবার  আজ  একটু  মাংস  না  হলেই  নয়  তাই  সুদীপ  আজ  একটু  মাংস  এনেছিল, এটা  মানতেই  হবে  সুদীপের  বৌ  অনুরাধা  মাংস  টা  খুব  ভালোই  রাঁধে ।সুদীপ  যদিও  অনুরাধা  কে  অনু  বলেই  ডাকতে  পছন্দ  করে ।
একটু  ভাত  ঘুম  দেওয়ার  জন্য  সুদীপ  বিছানায়  বসে , তার  আগে  একটু  ফেসবুক টা  দেখে  নেওয়া  যাক । সুদীপ  ফেসবুকে  নজর  দিতে  দিতে  এক  জায়গাতে  এসে  চোখ  আটকে  যায় ।
ফেসবুকে  নাতাশার  ছবি  বেরিয়েছে,  নিচে  লেখা  রয়েছে  করোনার  জন্য  যে  সব  গরীব  মানুষ  বাইরে  বেরোতে  পারছেনা  মিসেস  নাতাশা  বসু  একটি  NGO  মাধ্যমে  তাদের  পাশে  দাঁড়িয়েছে । কতোজন  সেলাম  জানিয়েছে,কেও  কেও         বলেছে ,আপনাদের  জন্যই  পৃথিবী  এখনো  নরক  হয়ে  যায়নি ।
নাতাশা  ,যাকে  একসময়  সুদীপ  টাইম  পাশের  মানুষ  ভেবেছিল  ,  সে  এখন  ফেসবুকে
সুদীপ  প্রথমে  ব্যাপার  টা  হজম  করতে  পারে  না,  ভালো  করে  দেখে  যে  নাতাশা  কে ও জানতো  এই  কি  সেই?  ঘুরিয়ে  ফিরিয়ে  ছবিটা  দেখতে  থাকে,  নাঃ  কোনো  সন্দেহ  নাই  এই  সেই  নাতাশা  যাকে  সুদীপ  চিনতো । এখন  তাহলে  নাতাশা  আছে  কোথায়?  সুদীপ  নাতাশার  প্রোফাইল  দেখে  তার  থেকে  বোঝা  যায়  নাতাশা  এখন  কলকাতার  বাসিন্দা,  সঙ্গে  বরের  ছবি,  মাঝখানে  একটা  আঠেরো  উনিশ  বছরের  ছেলের  ছবি  মোটামুটি  নাতাশার  একটা  পিকচার  পাওয়া  গেল ,টাক  মাথা  লোকটা  ওর  বর  আর  মাঝখানে  দাঁড়িয়ে  থাকা  ছেলেটা  ওর  ছেলে ।

নাতাশার  বরের  ছবি  দেখে  সুদীপ  কুল  কুল  করে  হাসতে  থাকে,  একটা  টেকো  মোটা  ভুড়িওলা  বর,  আর  একটা  সুটকে  মতো  ছেলে । সুদীপ  ভাবতেই  পারেনি  রবিবার  দিনটা  এতো  ভালো  কাটবে, শুধু  নাতাশার  ফেসবুকে  ছবি  বেরোনো  টা  একটু  গা  কচকচ  করছে । আর  সব  ঠিক  আছে,  নাতাশার  মতো  মেয়ের  আবার  এর  থেকে  কি  বেশি  জুটবে?  সুদীপ  একটু  আয়েশ  করে  বিছানায় শুয়ে  ফেসবুক  টা  বন্ধ  করে   নাতাশার  কথা  ভাবতে  থাকে ।


বাংলার সেরা ফেসবুক স্ট্যাটাস এক্ষুনি পড়ুন

তখন  সবে কলেজে  ঢুকেছে  ,হিরো  হিরো  চেহারা  ভালো  কথা  বলতে  পারে  সব  মিলিয়ে  সুদীপের  নিজেকে  খুব  পারফেক্ট  মনে  হতো । বন্ধু  তো  ছিলই  অনেক  ,বান্ধবীর  সংখ্যা  নেহাত  কম  ছিল  না । দু  চার  জনের  সঙ্গে  একটু ঘোরাঘুরি  করে  তাদের  বিছানা  পর্যন্ত  নিয়ে  যেতে  খুব  একটা  সমস্যা  হতো  না ।  সুদীপের  এতে  একটু  এক  ঘেয়েমি  চলে  আসে । তখন  ওর  মনে  হলো  একটু  অন্যরকম  কিছু  করা  যাক । আর  তখনই  ওর  নজরে  আসে  নাতাশা,  মধ্যবিত্ত  সাধারণ  চেহারার  একটা  মেয়ে । কিনতু  মেয়েটা  পরের  বিপদে  এগিয়ে  আসার  একটা  মানসিকতা  ছিল,  যা  সুদীপকে  আকৃষ্ট  করে  ছিল  ওর  দিকে   এগিয়ে  যেতে । কয়েক  দিন  ওর  সাথে  যেচে  যেচে  কথা  বলার  পর  হঠাত  করে  একদিন  ওকে   প্রেম  নিবেদন  করে  বসে । নাতাশা  প্রথমে  একটু  ঘাবড়ে  গেলেও  পরে  ও  ওর  কাছে  সময়  চাই  ব্যাপার  টা  ভাবার  জন্য ।
সুদীপ  একটু  মুচকি  হাসি  হাসে,  মনে  মনে  বলে  ,যতো  ইচ্ছা  সময়  নাও  উত্তর  টা  কি  হবে  আমার  জানা  আছে । ঠিক  কয়েক  দিন   পরে  নাতাশা  ওকে  সম্মতি  দেয় ।

সুদীপ  কয়েক  দিন  ভালো  ছেলের  অভিনয়  করে  যায়,  তারপরেই  নিজের  মুখোশ  টা  খুলে  । শুধু  কোনো  না  কোনো  ভাবে  নাতাশা  কে   স্পর্শ  করার  জন্য  মুখিয়ে  ওঠে,  কিন্তু  নাতাশা  কোন  না  কোন  ভাবে  ওকে  ওসব  থেকে  বিরত  রাখে । এদিকে  সুদীপ  ওদের  পাড়াতে  নতুন  আসা  অনুরাধা  কে  পছন্দ  হয়ে  যায় । অনুরাধার  চলা  ,কথা বলা ,তাকানো   সব  কিছুতেই  সুদীপ  প্রেমে  পড়ে  যায় । এদিকে  নাতাশা কে  নিয়ে  ও  টাইম  পাস  করে  যায় । মনে  মনে  ঠিক  করে  যদি  বিয়ে  করি  তবে  অনুরাধা  কে  করবো,  কিন্তু  অনুরাধার  ব্যাপার  টা  কাউকে  জানতে  দেওয়া  যাবে  না । এদিকে  নাতাশার  কাছে  ওর  যেটা  চাই  সেটাও  ঠিকঠাক  পেয়ে  উঠছে  না । একদিন  ও  নাতাশা  কে  বলে  ওর  এক  বন্ধুর   বাড়িতে  যেতে । নাতাশা  সঙ্গে  সঙ্গে  বুঝে  যায়  সুদীপ  ঠিক  কি  চাইছে  ওর  কাছে,
দ্যাখো সুদীপ  আমি  খুব  সাধারণ  মেয়ে  ,কিন্তু  আমি  কিছু  জায়গায়  একদম  প্রাচীন  পন্থী,  বিয়ে  তো  আমরা  করবোই তাহলে  এখনই  এসব  কেন?
সুদীপ  মনে  মনে  বলে,  বিয়ে  আর  তোমাকে  কোনদিন  নয় । মুখে  বলে  ,তুমি  আমার  একটা  আবদার  মেটাতে  পারছোনা  তাহলে  বিয়ের  পর  তুমি  আমার  কোনো  আবদারই  তো  মেটাবে  না ।
নাতাশা  বলে,  আমারও  তো  তাই  কথা  তুমি  বিয়ের  আগে  আমার  একটা  অনুরোধ  রাখতে  পারছোনা  তো  বিয়ের  পর  কোনো  অনুরোধই  তো  রাখবে  না ।
সুদীপ  বলে,  আমাকে  তুমি  বিশ্বাস  করতে  পারছোনা, সম্পর্ক  টা  রাখা  যাবে  নাকি  সেটা  এবার  ভাবতে   হবে । সুদীপ  তার  শেষ  অস্ত্র  প্রয়োগ  করে ।
কিনতু  নাতাশা তার  নিজের  সিদ্ধান্তে  অটল  থাকে ।
কয়েক  দিন  সুদীপ  নাতাশার  সাথে  কথা  বলে  না  , ইতিমধ্যে  হঠাৎই  সুদীপের বাবা  মারা  যায়,  নাতাশা   বন্ধু  মারফৎ  ঘটনা  টা  জানতে  পেরে  সুদীপের  সঙ্গে  যোগাযোগ  করার  চেষ্টা  করে  কিন্তু  সুদীপ  নাতাশার  কোনো  কথার  উত্তর  করে  না । নাতাশা  এক   বন্ধুর  মাধ্যমে  জানতে  পারে  সুদীপ  আর  অনুরাধার  কথা , নাতাশা  তখন  ফের  সুদীপের  সঙ্গে  যোগাযোগ  করার  চেষ্টা  করে, তখন  সুদীপ  নাতাশার  সাথে  দেখা  করতে  আসে  নাতাশা  কে  জিজ্ঞেস  করে
বলো  কিসের  জন্য  ডেকেছো?
শুনছি  তুমি  নাকি  তোমাদের  পাড়ার  একটা  মেয়ের  সাথে  প্রেম  করছো?
একদম  মিথ্যা  কথা । সুদীপ  পুরো পুরি  কথাটা  অস্বীকার  করে  যায় ।
তাহলে  শুনলাম  তুমি  নাকি  তোমার  বাবার  চাকরিটা  পাবে?  নাতাশা  জিজ্ঞেস  করে ।
চেষ্টা  তো  করছি,  দেখা  যাক  কতদূর  কি  হয় ।
তোমার  যদি  চাকরি টা  হয়ে  যায়  তাহলে  তো  আমরা  বিয়েটা  করে  ফেলতে  পারি  তাই  না?  নাতাশা  সুদীপ  কে  জিজ্ঞেস  করে ।
সুদীপ  নাতাশার  দিকে  তাকিয়ে  ভাবে, আমার  আর  খেয়ে  দেয়ে  কাজ  নাই  তোমাকে  বিয়ে  করতে  যাবো । কিনতু  মুখে  বলে  ,তুমি  তো  আমায়  বিশ্বাসই  করো  না,  কি  করে  আমার  সাথে  সারাজীবন  থাকবে?
ওটা  তো  সামান্য  ব্যাপার  বিয়ে  হয়ে  গেলেই  তো  ………….।
না  আমি  আগেই  তোমাকে  চাই । সুদীপ  বলে ।
না  সেটা  আমার  পক্ষে  সম্ভব  নয় । নাতাশা  কঠোর  গলায়  বলে  ওঠে ।
তাহলে  আমার  তরফে  এটাই  শেষ  দেখা । সুদীপ  বলে  ওঠে
আসলে  তোমার  একটা  বাহানা  দরকার  ছিল  তাই  না?  নাতাশা  বলে
সে  তুমি  যা  খুশি  ভাবতে  পারো । বলেই  সুদীপ  রেগে  মোটরবাইক  নিয়ে  বেরিয়ে  যায়
নাতাশা  ওখানে  অনেকক্ষণ  চুপ  করে  বসে  থাকে । মন ভর্তি  মনখারাপ  নিয়ে,  কিন্তু  ভেঙ্গে  পড়ে  না  । মনে  মনে  বলে,  নিজের  আত্মা সন্মান   বিসর্জন  দিয়ে  আমি  কোনো   সম্পর্ক  তৈরি  করবোনা । ভালোই  হলো ।
 এরপর  নাতাশা  নিজেকে  আরো  বেশি  করে  ব্যাস্ত  রাখতে  শুরু  করে ।
কখনো  বাল্য  বিবাহ  আটকে ,কখনো  ব্ন্যা ত্রাণের  কাজে,  কখনো  রক্ত  দেওয়া  , আর  সুদীপ  বাবার  চাকরি টা   পেয়ে  বাড়িতে  অনুরাধা  কে  বিয়ে  করার  কথা  জানিয়ে  দেয় ।
সুদীপের  মায়ের  অনুরাধাকে  খুব  পছন্দ  হয়, দু  বাড়িতেই  রাজি  হয়ে  যায় । সুদীপ  এই   খবর  টা  নাতাশা  কে  জানায় , নাতাশা  সুদীপ  কে  অভিনন্দন  জানাই । সুদীপ  অবাক  হয়ে  যায়  নাতাশার  ব্যবহারে, মেয়েরা  যেমন  হয়  নাতাশা  ঠিক  তেমনি  নয় । কিনতু  সুদীপের  ভেতরে  ভেতরে  একটা  জ্বালা  হয়  নাতাশা  কে  তেমন  ভাবে  না  পাওয়াতে ।তাই  যখন  যাকে  পায়  তখন  তাকেই  বলে,  নাতাশা  ওর  সাথে  সহবাস  করেছে  অনেক বার  অনেক  ভাবে । যারা  নাতাশা  কে  চিনতো  তারা  কেউ  এটা  বিশ্বাস  করতো  না,  কিন্তু  যারা  চিনতো  না  তারা  ওর  দিকে  কেমন  ভাবে  তাকিয়ে  থাকতো ।
একদিন  নাতাশা  সুদীপ  কে  ডেকে  বলল,  তুমি  যে  এইসব  করে  বেড়াচ্ছ  এতে  তোমার  কি  লাভ  হচ্ছে? আসল  সত্য  টা  আমার  মতো  তুমিও  জানো । আমি  কিন্তু  মাথা  উঁচু  করেই  ঘুরে  বেড়াবো,কেননা  আমি  জানি  আমি  কি,  আমার  সত্য কি,  তুমি  যেমন  ইচ্ছা  বলে  যেতে  পারো  আমার  তাতে  কিছুই  যাই  আসবে  না ।
আসবে  আসবে  যখন  তোমায়  সবাই  ঘেন্না  করবে  তখন  কি  করবে  তুমি?  সুদীপ  বলে ।
নাতাশা  বলে,  সুদীপ  শুনেছিলাম  ভগবান  যা  করেন  মঙ্গলের জন্য  ,আজ  দেখছি  এটা  কতো  বড়ো  সত্য ।শুধু  তোমায়  একটা  কথা  বলে  যায়, পৃথিবী  কিন্তু  গোল,  আজ হোক  কাল  হোক  জীবন  তোমাকে  তোমার  কর্মফলের  উত্তর  দিয়েই  দেবে । তুমি  তখন  সামলাতে  পারবে  তো?
সুদীপ  একটু  অবজ্ঞার  হাসি  হাসে ।
নাতাশা  বলে  যায়,  পুকুরে  ঢিল  মারলে  তার  চারপাশে  যে  গোল  গুলো  হয়  তা  আস্তে  আস্তে  বড়ো  হয়ে  এক  সময়ে  মিলিয়ে  যায়, আমাকে  দেওয়া  তোমার  এই  বদনাম  গুলোও  তাই  হবে । বলেই  নাতাশা  ওখান  থেকে  চলে  যায় ।

এরপর   সুদীপের  বিয়ে  হয়ে  যায়  ,অনুরাধা  কে  নিয়ে  খুশিতে  ভরপুর থাকে  তখন,
নাতাশার  কোনো  খবর  ও  আর  রাখেনাই ।শুধু  নাতাশার  মতো  একটা  মেয়ের  কাছে  হেরে  যাওয়ার  কথা  মনে  এলেই  ও  প্রচন্ড  রেগে  যেতো ।

আজ  এতো  গুলো  বছর  পরে  নাতাশা  কে  দেখলো, সুদীপ  ওর  বরের   প্রোফাইল  টা  কি  মনে  করে  একবার  খোলে, মনে  মনে  বলে  মোটা টা কে  একবার  জানা  যাক  কি  করে,  নাতাশার  বরের  প্রোফাইল  খুলেই  সুদীপের  চক্ষু  চড়ক  গাছ  ,এতো  পুলিশের   A.D.G ।তাহলে  সুটকে  মতো  যে  ছেলেটা  দেখলাম  সেটা  কি  করে  ,ছেলেটার  নাম  তো  জানিনা  তাহলে  কি  করে  জানা  যাবে?  আবার  নাতাশার  প্রোফাইলে পিকচার  গুলো  দেখতে  থাকে  ,তাতে  যা  দেখে  তাতেই  ভিতরে  একটা  চিনচিনে  ব্যাথা  অনুভব  করে  ,ইউরোপের  প্রায়  সব  দেশেই  ওরা  গেছে  তার  সব  পিকচার  ওর  প্রোফাইলে  দেওয়া  রয়েছে ।  এমন  সময়ে  অনু  এসে  ওকে  বলে,  বাবু  এখনো  বাড়ি  আসেনি,
বাবু  মানে  সুদীপের  ছেলে  পড়াশোনা  তো  কোনো  রকমে  মাধ্যমিক  পাশ  করেছে। পাশ  করে  আর  পড়াশোনাই  করলোনা । যেখানে  সেখানে  মদ  কখনো  গাঁজা  খেয়ে  পড়ে  থাকে । কখনো  নিজেই  কোনো  রকমে  বাড়ি  আসে  কখনো  বন্ধুরা  বাড়িতে  দিয়ে  যায় । আর  মেয়েটার  অবস্থা  আরও  খারাপ  ,সুদীপের  মেয়ে  মলি  ,রোজ  নিত্য  নতুন  ছেলের  সাথে  ঘুরে  মাঝরাতে  বাড়িতে  ফেরে, এরই  মধ্যে  দুবার  Abortion  করা হয়ে  গেছে । কিছু  বললে  ঔদ্ধত্যের  সঙ্গে  উত্তর  করে, আমার  জীবন  আমি  কি  ভাবে  কাটাবো  সেটা  আমি  ঠিক  করবো ।আজ পাড়ার  লোকের  কাছে   সুদীপ  নিজেই  টাইম  পাশের  বস্তু  হয়ে  গেছে । আর  নাতাশা  তার  আত্মা  সন্মান  নিয়ে   সচ্ছল  জীবন  ছেড়ে  এই  বিপদের  দিনে  মানুষের  সেবায়  নিজেকে  বিলিয়ে  দিয়েছে । কি যেন  বলেছিল  নাতাশা  “কর্মফল ”  সুদীপের  হাতটা  নিজের  অজান্তেই  কপালে  চলে  যায় ।ওকি  নাতাশা  কে  অন্য  দের  মতো  স্যালুট  করলো  নাকি  নিজের  জীবনের  গ্রামার  দেখে  কপাল  চাপড়ালো  বোঝা  গেল  না ।
ধুর  শালা  বলে  জামাটা  গায়ে  দিয়ে  ছেলে  টাকে  খুঁজতে  বেরোলো । বাইরে  একটু  গিয়ে  অনেক  দিনের বন্ধু  রজতের  সাথে  দেখা  হয়ে  গেল । কথায়  কথায়  রজত  জানালো নাতাশার  কথা, ওর  ছেলে  নাকি  এখন  ইসরোর  Scientist ।সুদীপের  মুখ  দিয়ে  আপনিই  বেরিয়ে  যায়   বাঃ ।

প্রেম  ,ভালোবাসা  , প্রতারণা  তিন  শব্দ  যেন  একসাথে  থাকে ।দুটো  ভালোবাসার  মন  খুব  কম  সময়েই  এক  হয় । ভালোবাসার   মধ্যে  বেশিরভাগ  ক্ষেত্রেই  একজন  প্রতারক  হয়,  অন্য  জন  প্রতারিত  হয় ।দুজনেই  একদিন  কাঁদে  কেও  আগে  কেউ  পরে, পার্থক্য  শুধু  এক  জায়গাতে  হয় ,একজনের  সাথে  বিধাতা  কাঁদে,  অন্য  জনকে  বিধাতা  কাঁদায় । আর  সময়  শুধু  বসে  থাকে  কখন  মলম  হয়ে  মনের  আঘাতের  ক্ষত  সারিয়ে  তুলবে ।  কেননা  সবাই  জানে  সময়ই  ভুলিয়ে  দেয়  দুঃসময়  কে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *