আপদ – Hasir Golpo – Bangla Comedy story

আপদ - Hasir Golpo - Bangla Comedy story-চরম হাসির গল্প

আমি রোজ ক্রাশ খাই ৷দিন নাই রাত নাই ৷ মাঝে মাঝে ভোর বেলা তেও৷ কিন্তু আমি যার প্রতি ক্রাশ খাই তাকে খেয়ে ফেলি, ধুত্তোর আমি মানুষখেকো না আমি পেটুক৷ ওজন নব্বই কেজি৷
আর জানি জানি বলবেন ডায়েটিং করা উচিত ৷ হবেনা মশাই হবেনা৷ পরের জনমে৷
আমার বাবা আবগারী অফিসার ছিলেন৷ মা গৃহবধূ৷ বাবা দু হাতে কামাই করতে করতে হঠাৎ একদিন হার্টফেল ৷ তখনও চাকরী ছিলো দশ বছর৷ মা বাবার চাকরী দাবী করেন নি৷ পেনশান আর সঞ্চয় করা টাকা দুজনের জন্য পর্যাপ্ত ছিলো৷ আমাদের দুটো বাড়ি৷ বড় বাড়িটায় আমরা দুজনে থাকি বহু পুরানো চাকর ভোলারাম দুটো ড্রাইভার আর দুজন দারোয়ান নিয়ে ৷ আর মানু পিসি থাকেন , বাবার বিধবা দিদি৷
 ছোটো বাড়িটা পুরো ভাড়া৷
ছোটোবেলা থেকে মা রান্না করে গেছেন আমি খেয়ে গেছি৷ বাবার আদর আর মায়ের নজরে আমি কোনদিন নাকি পেট ভরে খাইনি৷ ব্যস ত্রিশ থেকে নব্বই হতে কতদিন?
তাই আমি রোজ ক্রাশ  খাই , পাড়ার গলির তেলেভাজা হোক বা কে এফ সির চিকেন৷
এমন ভাবেই হয়ত জীবন কেটে যেতো৷ কিন্তু বাধ  সাধলো একটা আপদ , হিমাংশু ৷
ঐ যে ছেলেটা কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে৷ এলোমেলো চুল৷ বড় বড় চোখ৷ কি সে পড়ে ভগবান জানে৷ ক্লাসে তো দেখিনা , রোজ কলেজের সামনের চায়ের দোকানের পাশে বড় বাঁধানো আম গাছের গোড়াটায় আড্ডা ওদের৷
প্রথমদিন আমাকে দেখেই গাছের গুড়ি ধরে বলেছিলো ধর ধর কেউ আমাকে ধর ভূমিকম্প হবে৷
আমি হাসবো না কাঁদবো বুঝিনি৷
ছোটোবেলা থেকে মোটা হবার জন্য তেমন কথা শুনিনি, হাসাহাসি করতো অনেকে , আবার অনেকে স্বার্থ দেখতো কারন আমার সব বান্ধবী গুলো ছিলো স্বার্থপর ৷ রোজ দামী খাবার , আর অঢেল পয়সা হয়ত আমাকে বাঁচাতো টিজ থেকে৷
আজও কলেজে তেমন কিন্তু টিজ আমায় করা হয়না৷ অনেকে আড়ালে হাসে জানি কিন্তু এমন টিজ??
সবার সামনে!!!
আমি সোজা চলে আসলাম ক্লাসে৷ দুটো চকোলেট পরপর খেয়ে ভাবলাম কিছু বলা উচিত ৷ আবার ক্লাস অফে ননীদার ক্যান্টিনে পকোড়া খেতে খেতে ভুলেও গেলাম৷
বাড়িতে এসে আবার মনে পড়লে মা কে বলতেই মা হেসে দিলো৷ মা তো হাসবেই আমি আমার মায়ের মতন স্লিম মহিলা খুব কম দেখেছি৷ রাগ হলো সোজা ঘরে গিয়ে খিল দিলাম৷ আজ থেকে অনশন করবো ভাবলাম কিন্তু কাজ হলোনা৷ তারপর ভাবলাম রাতে খাবোনা৷ তখনি সারাবাড়ি ইলিশের গন্ধে ভরে গেলো৷ ক্ষিদে চাগিয়ে উঠলো৷ সোজা খাবার ঘরে গিয়ে ছটা পেটির মাছ আর তেল নিয়ে টিভির সামনে বসে পড়লাম৷ মায়ের মুচকি মুচকি হাসি কে ইগনোর করে ইলিশে মনযোগ করলাম৷
পরদিন কলেজে যেতেই সবাই মুখ টিপে হাসছে৷
মটকা গরম হয়ে গেলো৷ ব্ল্যাকবোর্ডে কে আমার কার্টুণ করে রেখেছে৷ দুটো বিগ সাইজ ভ্যানিলা আইসক্রিম খেয়েও মাথাটা যখন ঠান্ডা হলোনা তখন বুঝলাম বেশ মন খারাপ ৷
সোজা বাড়ি চলে এলাম৷
নির্ঘাত ঐ ছেলেটার কাজ৷ কি জ্বালাচ্ছে ৷ শান্তি নেই ৷ ফেসবুকে আচ্ছা সে লিখলাম, আমি আমার বাপের পয়সায় খাই , লোকের কি… ব্লা ব্লা ব্লা কিছু (আমার মতন নয়) স্বাস্থ্যবান মেয়ে কমেন্ট করলো৷ কিছু হাসির ইমোজী ৷ রাগটা পড়লে জমিয়ে চাউমিন খেয়ে পড়তে বসলাম ৷ এই একটা দিকে কেউ আমাকে কিছু বলতে পারবে না৷ আমি খুব ভালো  রেজাল্ট করি৷ সবসময় টপার হই ৷
মানু পিসি অবধি গুনগান করতে বাধ্য হয়৷
দুদিন কলেজ কামাই করলাম ৷ যতটা কলেজ বা বন্ধু বান্ধব তারথেকে বেশী ননীদার ক্যান্টিন কে মিস করে আমি রণংদেহী মূর্তি নিয়ে কলেজে গেলাম৷
সোজা গিয়ে ক্লাসে বসে পড়ায় মন দিলাম ৷

দুদিন সব চুপচাপ ৷ তৃতীয় দিন যখন ননীদার ক্যান্টিনে বসে মোমো খেতে খেতে সব ভুলে যাচ্ছিলাম  মর্কট হিমাংশু টা ক্যান্টিনে এসে আমার পাশের টেবিলে বসলো৷ আমি তখন মোমোর সুপ্যে নিমগ্ন৷ হঠাৎ দেখি বেশ জোরে ফট করে ফাটার শব্দ হলো৷ আর সবাই হাসাহাসি করাতে বুঝলাম আমাকে নিয়ে ব্যঙ করছে হিমাংশু ৷
আপদ টা আমাকে  জ্বালিয়ে দিলো৷ বেশ রাগত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আমি বেড়িয়ে পড়লাম ৷ আমার খাওয়া আধা মোমোটার জন্য দুঃখে কান্না আসলো৷
সোজা বাড়ি গিয়ে মা কে বললাম আর কলেজে যাবোনা৷
মায়ের তেমন হেলদোল হলোনা৷ আরও রাগ হলো৷ মানু পিসিকে বললাম৷ পিসি বললো তোর বিয়ের সমন্ধ এসেছে৷ ঐ পড়া বাদ দিয়ে শশুর বাড়ি ঘর কর৷ তোর মা রাজি হচ্ছেনা৷ কি করবি চাকরী বাকরী করে? তোর বাপ যা রেখে গেছে দু পুরুষে শেষ হবেনা৷
মা কে বললাম , আমার নাকি সমন্ধ এসেছে?
হ্যাঁ মিত্তির বাড়ি থেকে৷ তোর পিসির ননদের জায়ের ছেলে৷
বলোনি তো?
বলার কি আছে? তোর বিয়ে এখন দেবো না৷ পরে৷
বলতে পারতে৷
কেন বিয়ে করবি তুই ?
দেখতে ক্ষতি কি?
বেশ রবিবার ডাকবো৷ বাড়ি থাকিস৷
হুম৷
ঘরে গিয়ে বেশ নিজেকে আহাম্মক লাগছিলো৷ তবুও জেদ ধরে বসে থাকলাম ৷ দেখি না কি হয়৷
রবিবার আমার দুটো মামাতো ভাই, বড় মামী  পিসির নিজের জায়ের মেয়ে আসলো৷
ছেলে বাড়ি থেকে বিকালে আসলো চার পাঁচজন৷
মা কতকিছু যে রান্না করলো, দেখেই পেট চুঁইচুঁই করছে৷ আহা ছেলে দেখতে আসলে এতকিছু? তাহলে প্রতি রবিবার আসাই তো ভালো৷
মা কে বারবার বলে দিলাম সবকিছু যেন আমার জন্য থাকে৷ মা ও আমাকে সাবধান করে দিলো যেন ছেলে বাড়ির সামনে কিছু না খাই ৷ বেশ কষ্টের সাথে দুটো রাজভোগ খেয়ে নিয়ে মেনে নিলাম ৷

আমি পুরো থ!! এই ছেলে????
যেমন লম্বা তেমন টকটকে রঙ৷ তা ফর্সা আমি কম না৷ কিন্তু যাকে বলে হ্যান্ডু ছেলে৷ আমার চোখদুটো ছানাবড়া আর মুখটা প্রায় দশটাকা দামের রসগোল্লা হয়ে গেলো৷ পিসির কাশির আওয়াজে একটু লজ্জা ও পেলাম৷ যাইহোক প্রথম ঐদিন মনে হলো আমি বড্ড মোটা৷ যতই সুন্দর সাজিগুজি ঠিক ,  কিন্তু নিজেকে বেঢপ মনে হচ্ছিলো ৷ ছেলের মা বাবা দুজনেই বেশ ঠান্ডা মনে হলো৷ ছেলেরা তিন ভাই ৷ বাকি দুই ভাই আসেনি৷ ছেলে মা বাবা আর মেজ বৌদি এসেছে৷ আমাকে আমার মামী আর পিসির জায়ের মেয়েরা নিয়ে গেলো ছাদে৷ ছেলের সাথে কথা বলতে৷
আমার তো বুক ঢিপ্‌ঢিপ্‌ করছে৷ মনে হচ্ছে উফ যদি রোগা হতাম তো রাজযোটক হতো৷
টুকটাক কথা হলো , বেশ ভালো লাগলো ৷ ছেলেটা আমার মোটা রোগা নিয়ে কোনো কথাই বললো না৷
ছেলে বাড়ির লোকেরা আমাকে পছন্দ করে চলে গেলো৷ মা পরে জানাবে বলে দিলো৷
মানু পিসি তো গজগজ শুরু করে দিলো৷ কেন ফাইনাল করা হলোনা৷
আমিও অবাক হলাম৷ কারন মা সবসময় চিন্তা করতো আমার বিয়ে নিয়ে৷ কিন্তু মা দেখলাম কিছু বললো না৷ বরঞ্চ মামাতো ভাইদের বললো ছেলে সম্পর্কে খোঁজ নিতে৷
মরুক গে আমি তো অপেক্ষায় ছিলাম কখন যাবে এরা আর আমি খাবার খাবো৷ কিন্তু খেতে বসে বেশী খেতে পারলাম না৷ একটা মুখ চোখের সামনে ভাসতে লাগলো৷

কদিন কলেজে হিমাংশুদের ইগনোর করলাম ৷ মনটা বেশ খুশি৷ এরা জানলে জ্বলবে৷ অমন ছেলে কিনা আমার হবু বর৷  ছেলেটা মানে রৌনক আমার নাম্বার পেলো কোথা থেকে জানিনা , আমাকে ফোন করে৷
টুকটাক কথা হলো৷ তারপর ফেসবুকে ফ্রেন্ডলিস্টে  এ্যাড৷ বেশ ভালো লাগছিলো৷
মামার ছেলেরা খোঁজ নিয়ে বললো ছেলে ভালো৷ চাকরী সরকারী নয় তো কি বেশ ভালো কাজ৷ বাড়িতে তিন ভাই থাকে৷ দুই ভাই সরকারী চাকরী করে৷
পিসি বললো আমি কি খারাপ সমন্ধ আনবো??
আমার সেসব দিকে মন নেই আমি তো বেশ আছি৷  রৌনকের সাথে মাঝে মাঝে কথা হয়৷ বেশ বন্ধুত্ব হয়ে গেছে৷ সামনে আমার পরীক্ষা তাই ব্যস্ত ও ছিলাম ৷ নতুন খবর আমি আজকাল একটু কম খাচ্ছি ৷ 😁😁

কদিন পর মা নিজে আমাকে ডাকলো৷
বস
কি হয়েছে ?
টুনু, ( ওহ বলা হয়নি আমার নাম টুনু, ডাকনাম )  তুই কি সত্যিই রৌনক কে বিয়ে করতে চাস?
ভাবিনি৷
তাহলে ভেবে বলবি ৷
আচ্ছা পরীক্ষার পর৷
হুম৷ শোন ঐ বাক্সে কিছু গয়না আছে , আর তালতলার বাড়ির দলিল৷ সব তোর৷ এই বাড়ি যতদিন আমি আছি ততদিন থাকবো পরে এই বাড়ি আমি দান করে যাবো বৃদ্ধাশ্রমের জন্য৷ তোর বাবার ঘুষের পয়সায় কেনা এই বাড়ি আমি চাইনা তুই থাকিস৷ আর হ্যাঁ গয়না গুলো সব আমার বাবার দেওয়া ৷ তোর বাবা যা সোনা আগে করেছিলো সব লকারে আছে৷ আর হিসাবের বাইরে গুলো আমি সবাই কে দিয়ে দেবো৷ কিছু তোর ছোটো মামার মেয়ে, মানুদি আর কয়েকজন কে৷ বাকি থাকলো টাকা৷ তোর বাবার পেনশানে আমাদের চলে যায়৷ আর চাকরী থেকে যা টাকা পেয়েছে বা হঠাৎ মৃত্যুতে এল আই সির অনেক টাকা পেয়েছে সেসব তোর নামে আমি রেখে দিয়েছি ফিক্সড করে৷ সব কাগজ দেখে নে৷
আমি কি করবো?
না সবসময় মনে রাখবি নিজের হাতের গোছ কাউকে দিবিনা৷ এসব তোর বাবার পরিশ্রমের টাকার৷ বাকি এই ঘরের দেওয়ালে সিন্দুক আছে৷ তাতে যা টাকা আছে সব আমি বৃদ্ধাশ্রম করতে দিয়ে যাবো৷
আচ্ছা দিয়ে দিও ৷ আমি বারন করেছি?
তোর বাবার এল আই সির টাকা যা জমা আছে তা তোর জন্য অনেক৷ এগুলো তোর লাগবে না৷
আজ এসব কি হিসাব করছো? কেন?
বুঝিয়ে দিলাম ৷ তোর বাবা হট করে চলে গেছেন৷ আমিও যদি..
মা একদম বাজে কথা বলবে না৷
আচ্ছা বাবা বলবো না৷ শোন তুই পড়াশুনায় খুব ভালো ৷ চাকরী না করিস কিছু কাজ করিস৷ ভালো কিছু৷ অন্তত সবার উপকারে লাগে এমন কাজ৷
আমি বসে থাকবো না মা ৷ নিজের পায়ে দাঁড়াবো৷ আর রৌনকের এতে কোনো আপত্তি নেই ৷
ও আজকাল কথা হয় বুঝি?
আহ মা আজকাল ফোনের যুগ৷
ঠিক৷ কথা বল , দুজন দুজন কে বুঝে নে৷ খুব ভালো ৷ আমি তাহলে বলে দি যা হবে পরীক্ষার পর?
হ্যাঁ বলে দাও ৷

পরীক্ষা খুব ভালো হচ্ছে ৷ আর সাথে আমার দশ বারো কেজি ওজন কমলো৷ বেশ ভালো লাগছিলো৷ আসলে মোটিভিসন থাকলে সব করা যায়৷ পরীক্ষা শেষের দিন হঠাৎ দেখি রৌনক কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে বাইক নিয়ে৷ আমি তো অবাক!
সবার চোখ ট্যারা হয়ে গেলো৷ আমিও সবাই কে বলে দিলাম আমার হবু বর৷ সবাই কে রৌনক ট্রিট দিলো৷ যদিও বিল টা আমি জোর করে দিলাম ৷ কিন্তু রৌনক কে দেখে সবার যে জ্বলছিলো সেটা দেখে আমার দারুণ লাগছিলো৷ বিশেষ করে আপদ  হিমাংশু দুবার ক্যান্টিনে ঘুরে গেলো৷
দেখুক মোটা হাতির বর কেমন৷
অতি নিন্দুক বান্ধবীরা বলবে জানি বাবার পয়সায় বর কিনেছে কিন্তু আমি তো জানি রৌনক কিছু চায়নি৷
খুব মজা করে আমি রৌনকের বাইকে উঠে চলে এলাম৷ হিমাংশুর মুখে চড়টা পড়াতে অদ্ভুত আনন্দ হচ্ছিলো৷ সারা বছর আমাকে জ্বালিয়েছে ব্যাটা৷

আজ রৌনকের সাথে শপিং করতে যাবো৷ রেডি হয়ে গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম ৷ দুজনে মলে গিয়ে কেনাকাটা করবো৷
আমি ভাবছি এম বি এ করবো৷ কথাটা শোনামাত্র রৌনকের মুখটা শুকিয়ে গেলো৷
কি দরকার ?
এমনি৷
তাহলে আরও অপেক্ষা করতে হবে?
কেন খুব জলদি আছে বিয়ে করার?
না তা নয় তবে…
আরে বুদ্ধু বিয়ের পর কি করা যাবেনা?
ধুর বিয়ের পর আগে সুইজারল্যান্ড যাবো৷ তারপর তো অন্য কথা৷
মশাই বেতন কত? সুইজারল্যান্ড যাবেন৷
কেন? তোমার মা কি কিছু গিফট দেবেন না?
কেন দেবেন না?
মা আমাকে অলরেডি ছোটোবাড়ি , অনেক গয়না বাবার সব টাকা পয়সা দিয়ে দিয়েছেন৷
তাই ? কিন্ত ছোটো বাড়ি কেন? তোমাদের বাড়ি ?
সেটায় মা থাকবেন৷
সে তো থাকবেন কিন্তু তার অবর্তমানে…
মা চান বাবার সব কালো টাকা আর ঐ বড়বাড়ি বৃদ্ধাশ্রমের কাজে লাগুক৷
রাবিশ!!
মানে?
না কিছু না৷ কিন্তু এটা তোমাকে ঠকানো৷
কি বলছো যা তা বাবার এল আই সির টাকা, অফিসের টাকা যা মা আমার নামে ফিক্সড করে দিয়েছে তা আমার দুপুরুষ চলে যাবে৷
আর সে বাদ দাও ৷ আমি থাকবো তোমাদের বাড়িতে আর তুমি তো চাকরী করো৷
আমাদের বাড়িতে ? ঐ গোয়ালে? দুই দাদা বৌদি হাজার ঝামেলা৷ আর তোমার মা কে একা রাখা ঠিক না৷
তুমি ঘরজামাই থাকবে?
ওটা ব্যকডেটেড কথা৷ আমি মানি না৷ আর প্লিজ বিয়ের ডেট টা ফাইনাল করো৷
হুম৷ বলবো মা কে৷ রৌনক মায়ের কাছে থাকতে চায় শুনেও মনটা ভলো লাগছে না কেন কে জানে? কিন্তু আমার খুশি হবার কথা৷ সারাজীবন চেয়েছি আমি আমার বর ঘরজামাই থাকুক৷
দুজনে অনেক কেনাকাটা করলাম ৷ কিন্তু আমি ফুড সেক্টারে বসে রৌনক কে বললাম বিল দিতে৷ রৌনক চমকে গেলো স্পষ্ট দেখলাম ৷ তারপর কাউন্টারে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ফিরে এসে বললো রৌনকের নাকি কার্ড ব্লক হয়ে গেছে৷ আমি বিল মিটিয়ে চলে আসলাম কিন্তু মনে কাঁটা ফুটে রইলো৷

সপ্তাহ খানেক পর বিয়ের ডেট ঠিক হয়ে গেলো৷ সবাই খুব খুশি ৷ সবচেয়ে বেশী খুশি মানু পিসি ৷ রৌনকের মা বৌদি সবার জন্য দামী দামী শাড়ি গয়না কেনা হলো৷ মা আমাকে তো পারলে মুড়ে দেয় গয়নায়৷ আমি আরও খাওয়া কমালাম ৷ কেন জানিনা মনে হতো আমি মোটা বলে রৌনক কিছুটা লজ্জা পায় সবার সামনে৷ কিন্তু বুঝতে দেয়না৷
আমি জিম জয়েন করলাম ৷ ডায়েটিং ৷
সবকিছুর উপর মানু পিসি আর রৌনকের খবরদারি বেড়ে গেলো ৷ মা কেন জানিনা চুপ করে গেলো ৷ হয়ত ভেবেছে মেয়ে সুখী হবে তো হোক৷ সব ওদের পছন্দে হচ্ছে ৷ মায়ের মুখটা খুশি না ৷ আমার ভালো লাগলো না৷
রৌনক আমাকে ড্রেস , পার্লার সব বিষয়ে জ্ঞান দিতে লাগলো৷ পিসির তো ব্যস্ততার অন্ত নেই ৷মামার বাড়ির লোকেদের দিনে হাজারবার শুনিয়ে দিলো মানু পিসি বলেই অত মোটা মেয়ের জন্য রাজপুত্র জুটলো৷

সাতদিন ধরে বাড়িতে যজ্ঞ চলছে যেন৷ প্যান্ডেল , লোক৷ ধুত্তোরি আমাকে কেউ কিছু ভালো খেতেই দিচ্ছে না৷
আমি ভাবলাম বিকালে গিয়ে  বাইরে ভালো কিছু খেয়ে আসবো৷ 
 সব বান্ধবী বন্ধুদের আসতে বললাম  ৷ নিমন্ত্রণ করে দেবো আবার খাইয়ে দেবো৷ সবার বাড়ি তে ফোন করে মা বলেছেন তবুও আমি পারসোনালি বলে দেবো৷ আর কবে সবাই একসাথে হবো৷
সুন্দর করে সেজে বেড়িয়ে পড়লাম ৷
সুরুচি রেস্টুরেন্টে ঢুকে দেখলাম সব হাজির৷ সাথে সেই হিমাংশু ৷ কেন জানিনা রাগ হলোনা৷ ভালো লাগলো ৷ কতদিন সবাই একসাথে হইনা৷ হিমাংশু নিজে উঠে এসে অভিনন্দন জানালো৷
আমি কিন্তু বিনা নিমন্ত্রণে চলে এলাম৷ তোমাকে শেষ দেখার ইচ্ছাটা সামলাতে পারলাম না৷
কেন? আমি কি মরে যাচ্ছি নাকি??
না বিয়ে হয়ে গেলে আর তো দেখা হবেনা৷ আমিও চলে যাবো বাইরে৷
কোথায়?
কেরলা৷ কাজ পেয়েছি৷
বাহ্ ভালো খবর৷
সবাই মিলে খুব ভালো খাওয়া দাওয়া আর হইচই করতে করতে খেয়াল করিনি বেশ মেঘ করেছে৷ সবাই যখন বেড়িয়ে গেলো হিমাংশু একা দাঁড়িয়ে৷
আমি বললাম ,চলো তোমাকে পৌছে দি৷
আমি তো বাইক এনেছি৷
বাইকে ভিজে যাবে৷ আমি পৌছে দিচ্ছি ৷
না না থাক৷
বলছি না চলো৷ ড্রাইভার কে বললাম হিমাংশুর বাইকটা নিয়ে কোনো গ্যারেজে রেখে বাড়ি চলে যেতে৷ আমি গাড়ি বের করলাম৷  ড্রাইভারের ফোন নাম্বার নিয়ে হিমাংশু  উঠে বসলো৷

বেশ বৃষ্টি ৷ মুষুলধারা ঝরছে আজ৷
হিমাংশু  হা করে চেয়েছিলো আমার দিকে৷
কি দেখছো?
তুমি রোগা হলে কেন?
বাহ্ মোটা বলে কম জ্বালিয়েছো?
তাবলে রোগা হতে বলিনি, তোমার ফোলা ফোলা গাল দুটো … বলেই হিমাংশু কথাটা গিলে নিলো৷
হট করে গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়ে গেলো৷ কি জ্বালা৷
জল ঢুকে গেলো?
নেমে দেখা সম্ভব না৷ এসি বন্ধ হয়ে যাওয়া তে গাড়ির কাঁচ নামিয়ে দিলো হিমাংশু ৷ ছাঁট আসছে কিন্তু ভালো লাগছিলো৷
চলো ভিজবে?
মাথা খারাপ ?
আজ না হয় একটু মাথা খারাপ করলে৷
না ঠান্ডা লাগবে৷
চলো না অহনা৷
আমার নামটা প্রথম হিমাংশুর মুখে শুনলাম ৷ বললাম ,মোবাইল টাকা সব ভিজে যাবে৷
ঠিক৷ আচ্ছা অহনা তুমি রৌনক কে ভালোবাসো?
কি রকম প্রশ্ন? আমি কিছুটা ভ্যবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম ৷ কারন এর উত্তর আমি নিজেই জানিনা৷ হ্যাঁ রৌনক সুন্দর দেখতে৷ কিন্তু আমি সত্যিই রৌনক কে চিনি না৷ তবুও বেশ পরিস্কার উত্তর দিলাম খারাপ লাগেনা৷ আর দেখেশুনে বিয়ে পরে হয়ত ভালোবাসা জন্মে  যাবে৷
হুম ঠিক প্রায় বিয়েতে যেটা হয়৷ তোমাকে একটা কথা বলবো?
বলো
কোনদিন যদি মনে হয় ভালোবাসা তৈরী হয়নি, জীবনটা বড় বাজে খরচ হচ্ছে , বা বাঁধন বড় বেশী তখন ভালোবাসাকে সুযোগ দিও ৷ জীবন তো একটাই নষ্ট কোরোনা বা শেষ করে দিওনা৷ আমি অপেক্ষায় থাকবো৷
মানে? তুমি? যে আমাকে দুচক্ষে দেখতে পারোনা৷
চুপ পাগলী!! বোকা মেয়ে৷ আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি৷ সেই প্রথমদিন থেকে৷ আমি চেয়েছিলাম তুমি রোগা হয় সেজন্য নয় যে তোমাকে সুন্দর লাগবে৷ আমার চোখে তুমি সবচেয়ে সুন্দরী কারন তোমার মধ্যে বানানো মেকী কিছু নেই ৷ তুমি যাতে সুস্থ থাকো৷ আর তোমাকে রাগাতে ভালো লাগতো আমার৷ আর তোমার গালের ঐ টোল দুটো!
কি যা তা বলছো৷
হ্যাঁ আজ বলতে দাও দুদিন পর আর না আমার বলার অধিকার থাকবে না তোমার শোনার সময়৷
আগে তো বলোনি?
আমি ভেবেছিলাম তুমি অনেক পড়াশুনা করবে৷ অনেক সময় পাবো৷ আর আমি অনাথ ছেলে৷ মামার বাড়ি মানুষ ৷ সাহস হয়নি হয়ত৷
আমার মুখটা তুলে ধরে কিছুক্ষণ হিমাংশু চেয়ে থাকে৷ মনে হচ্ছিলো সময় যেন থমকে যায়৷
বড় একটা বাজ পড়াতে খেয়াল হয় বেশ বৃষ্টি হচ্ছে ৷ আমি নিজেকে সামলে মা কে ফোন করি, মা যেন গাড়ি পাঠিয়ে দেয়৷
তুমি কবে চলে যাচ্ছো?
বৃহস্পতিবার ৷
আমার বিয়ের পরদিন৷ বিয়েতে আসবে তো?
না৷
কেন?
আমি সবসময় তোমাকে নিজের করে দেখেছি৷ অন্য কারোর হতে দেখতে পারবোনা৷

গাড়ি যখন আমাদের বাড়ির গেটে থামলো তখন আমি ড্রাইভার কে বলে দিলাম হিমাংশু কে পৌছে দিতে৷ হিমাংশুর দিকে তাকাতে পারছিলাম না৷
রাতে রৌনক ফোন করলো , মাথা ব্যথার বাহানা দিয়ে শুয়ে থাকলাম ৷
পরদিন রৌনক আসলো৷ কাল কোথায় গিয়েছিলাম , দেরী কেন হলো, প্রশ্ন করে গেলো৷ যেই শুনলো সব বন্ধুদের আমি সুরুচি তে ট্রিট দিয়েছি রীতিমত জোরে ধমকে উঠলো৷
এত খরচ করলে?? ষোলো হাজার ????
তুমি তো জানো সুরুচি বেশ ভালো রেস্টুরেন্ট ৷
কি দরকার ছিলো? ফালতু খরচ৷
রৌনক আমি কিন্তু বিলটা দিয়েছি৷
সে তো বাবার টাকা রয়েছে তাই ৷
আমি নিজেও রোজগার করতে পারি আর করবো৷
থাক হয়েছে৷ চলো আমার আংটি আনতে হবে৷
বিরক্তি নিয়ে গেলাম সেনকো তে৷ আমার জন্য আংটি কিনলো রৌনক৷ আর নিজের জন্য হিরের আংটি পছন্দ করলো৷ বিল দিয়ে আংটি নিলাম৷
সাবধানে রেখো৷
হুম৷

আজ আমার বিয়ে , সারাবাড়ি ঝলমল করছে৷ লোকে লোকারণ্য ৷ মা থেকে থেকে চোখের জল মুছে চলেছে৷ আমার জাস্ট ভালো লাগছে না৷ সবকিছু যেন বড় মেকী৷ পার্লারের লোক এসেছে সাজাতে৷ সাথে রৌনকের মেজ বৌদি৷ কত যে পরামর্শ দিচ্ছে ৷
বিকালে বর আসার আগেই মা আমাকে ডেকে নিয়ে গেলো৷ আমার মাথায় চুমু দিয়ে বললো , কি সুন্দর লাগছে আমার টুনু কে৷ শোন এই বাড়ির কাগজ ৷
কেন?
রৌনক চেয়েছে৷
মানে?
বাড়িটা তোদের নামে করে দিতে বলেছে৷
কেন?
জানিনা বাপু৷ তোর জিনিস তুই নে৷ আমি শুধু জানি তোর সুখ৷ তুই রৌনক কে ভালোবাসিস৷
দাঁড়াও ৷ আমি রৌনক কে ফোন করে বলি ৷
না অশান্তি করিস না৷
ধুত্তোরি অশান্তি ৷
বরযাত্রী ঢুকলো আমি বরণ করে আসি৷
আমি সোজা গিয়ে পিসিকে বললাম রৌনক কে ডেকে দাও ৷
রৌনক আসতে পরিস্কার জিজ্ঞাসা করলাম তুমি মা কে বলেছো বাড়ি লিখে দিতে?

হ্যাঁ কেন?
কেন মানে ? তোমাকে বলেছি না বাবার ঘুষের টাকা..
চুপ করো টুনু৷ এতদিন কি বাবার সৎ টাকায় চলছিলে? যে দামী দামী খাবার , ড্রেস , বন্ধুদের নিয়ে ফূর্তি সব টাকা তো ঘুষের৷
তোমার যখন এত মান তো হিরের আংটি ফেরত যাবে৷ মা আমার গয়না গুলো খুলে দাও ৷
এসব আমার গয়না , বাবার দেওয়া ৷
হোক৷
আমি এক কাপড়ে বিয়ে করবো৷ আর হ্যাঁ আমার নামে যা রেখেছো সব আমি তোমার স্বপ্নের বৃদ্ধাশ্রমে দান করে দেবো৷
মানে?
মানে রৌনক চৌধুরী ৷ আমাকে খালি হাতে নিয়ে যেতে হবে৷
অসম্ভব !!
তাহলে আপনি আসতে পারেন৷
কি বলছিস টুনু?
হ্যাঁ মা ঠিক বলছি৷
তোর কি হবে?
হ্যাঁ সেটা ভাবো অহনা বোস তোমার কি হবে? সাইজে না হয় হাতির থেকে জলহস্তী হয়েছো, কিন্তু লগ্নভ্রষ্ট মেয়েকে কে নেবে?
আপনার ভাবতে হবেনা৷ আংটিটা খোলো তো বাছাধন৷
মানে মায়ের দেওয়া চেন আর আংটি টা খোলো৷ হাত দেখেছো তো ? একটা ঘুষি মুখে পড়লে দেখতে হবেনা৷
কি অবস্থা !! কাকিমা আপনি কিছু বলবেন না?
কি বলবে? আমি বলছি৷
আচ্ছা মাথা ঠান্ডা করো টুনু৷ আই এ্যাম সরি৷
যতই বলো আমি কিন্তু আজ দানপত্র করে তারপর রেজিস্ট্রি করবো৷
এগুলো জেদ৷
হ্যাঁ জেদ৷ আমার বাবা ঘুষখোর ছিলেন আমরা জানি৷ তিনি বেতন যা পেতেন তোমরা পুরো পরিবার সেটা আয় করোনা৷ তাই আমরা তার বেতনে আরাম আয়েশ করেছি৷ আর বাবা চলে যাবার পর মা সবটাকা এমনিতেই রাখতে চাননি৷ আপনি হয়ত জানেন না আমার মামারা চাইলে আপনাকে কিনে রাখতে পারে৷ মায়ের টাকার লোভ নেই ৷ বাবা চলে যাবার পর থেকে মা একটি এন জিও চালায়৷ অনেকের উপকার করে৷ আপনার আমার বাবার  ঘুষের  টাকায় হিরে পড়তে লজ্জা হয়নি?  বাড়ি চাইতে লজ্জা হয়নি?
টুনু থাম৷ বড্ড বাড়াবাড়ি করছিস৷
করিনি মা আমার জন্য চিন্তা কোরোনা৷
কি বিপদ দিদি কোথায়? এই মেয়েকে কেউ বোঝাও ৷
বিপদ যদি হয় তো এই বিপদের জন্য পারফেক্ট আপদ আমার কাছে আছে৷

আমি সোজা গাড়ি নিয়ে বিয়ের পোশাক পরেই বেড়িয়ে গেলাম৷ হিমাংশু কে ফোন করে ডেকে নিলাম ৷
কি হয়েছে ?
আজ বিয়ে করবে?
মানে?
মানে বিয়ে৷
চলো৷
কি বলছো?
বলছি লুকিয়ে লুকিয়ে ক বছর তো দেখলে৷ আমাকে জানো চেনো৷ আর আমিও তোমায় চিনি বলি মশাই জীবনটা কাটানো যাবে একসাথে ?
মানে মানে
আর মানে মানে করতে হবেনা৷ সব বন্ধুদের ফোন করে দিয়েছি বিয়ে বাড়ি ছেড়ে সব আসছে কালী মন্দিরে৷ চলো ৷
কিন্তু এভাবে?
থাক স্নো পাউডার মাখতে হবেনা৷ আপদ কোথাকার৷

আমরা বিয়ে করে ফিরে  বাড়ি আসি যখন তখন রৌনক রা অনেক গন্ডোগোল করে চলে গেছে৷ মামার ছেলেরা সামলেছে৷ পিসি তো রাগে অস্থির৷
মা দৌড়ে এসে বললেন,
কোথায় ছিলি?
এই নাও তোমার জামাই ৷ আর শোনো আমি কাল ভরতি হবো৷ পরশু আমরা কেরল যাচ্ছি ক্লাস শুরু হবার আগেই চলে আসবো৷ তারপর তুমি সামলাবে তোমার জামাই ৷
এর মানে কি টুনু?
আসো কাছে মানে বোঝাচ্ছি পিসি৷
আমরা মানি না এ বিয়ে৷
কলা বয়ে গেলো৷ শোনো পিসি তুমি তোমার দরদ নিয়ে সোজা শশুরবাড়ি চলে যেতে পারো৷ আর হ্যাঁ এই বাড়িটা আমার মায়ের, সেটা মনে রাখবে৷ আর এ হিমাংশু আমার স্বামী ৷ তোমার না মানা তেও আমার চলে যাবে৷ শুধু আমি জানি আমার মা আমাকে বিশ্বাস করে৷ বলো মা??
হ্যাঁ আমি জানি তুই ভুল করবি না৷ এসো বাবা ঘরে এসো৷ এ্যাই ছোটো শাঁখ আন৷ আরে সব গেলো কোথায়? বরণডালা আনো৷

আজ আমরা কুড়িদিন হানিমুন সেরে ফিরছি৷  কাজটা ছেড়ে দিয়ে হিমাংশু ফিরছে সাথে৷ আপদ জুটুছে বুঝলেন৷
 আপাতত আমি এম বি এ করবো হিমাংশু মায়ের সাথে মায়ের এন জিও সামলাবে৷ আমি ডায়েটিং ছেড়ে দিয়েছি , কিন্তু জানেন আজকাল কম খাবার চেষ্টা করি প্রিয় মানুষের চোখে নিজেকে সুন্দর কে না রাখতে চায় বলুন??? আর হিমাংশু আমাকে আরও ভালো ভালো খাবার এনে দেয়৷ একেবারে আপদ৷

সমাপ্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *