মনখারাপ – Bangla Dukkher Golpo – Very Heart Touching Sad Story Bangla

মনখারাপ - Bangla Dukkher Golpo - Very Heart Touching Sad Story Bangla

সক্কাল বেলা খবরের কাগজের প্রথম পাতার হেডলাইন,
“নীল ব্যানার্জিকে বিয়ে করে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন অভিনেত্রী সুলেখা মিত্র..”

সুলেখা মিত্র নিজেও গত কাল রাত্রে নীলের সাথে বিয়ের ছবি দিয়েছেন নিজের পেজে, ইনস্টাগ্রামে…. নিজের অগণিত ভক্তের উদ্দেশ্যে ,

এক মৃদু ভালোলাগার অনুভূতিতে পরেরদিন সক্কালবেলা ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো সুলেখার,

তার ছেলেটা বড়ো হয়েছে…বুঝতে শিখেছে, তাই নিজের ইচ্ছেতেই সে আজকের দিনের জন্য দিদানের বাড়ি ঘুরতে গেছে ..,

আজকের দিনটা তাই শুধু তার আর নীলের সংসার… |

এতো দিন অপেক্ষার পরে আজকের সারাটাদিন শুধুমাত্র নীলের সাথে সময় কাটানোর সুন্দর মুহূর্তগুলো কেমন হবে সেটা মনে হতে বেশ ভালো লাগছিলো সুলেখার ,অনেক দিন ধরে তারা সম্পর্কে থাকলেও এতদিন পরে সামাজিক ভাবে পরস্পরের কাছে আসতে পেরেছে তারা …নীল এখনো ঘুমাচ্ছে..
নীলের ঘুমানোর মুখটার দিকে তাকিয়ে সুলেখা মিত্রের মনটা ভালোলাগায় ভরে গেলো…,

নতুন করে সংসার করার সুখের স্বপ্নে ভেসে যেতে যেতে অন্যমনস্ক ভাবে ফোনটা হাতে নিয়ে নিজের পেজ এ আপলোড করা তার আর নীলের গত কালকের তোলা ছবিটা দেখে .. তলায় কমেন্ট গুলো পড়তে পড়তে অত্যন্ত বিস্ময়ে, কষ্টে সোজা হয়ে বসলেন তিনি …,

হাজার হাজার মন্তব্যে কমেন্ট বক্স ভরে গেছে, অনেকেই অভিনন্দন জানিয়েছেন তাঁদের নতুন জীবনের উদ্দেশ্যে ..
কিন্তু সুলেখার ভুরু কুঁচকে গেলো নোংরা কমেন্টের ভীড় দেখে , ভাবতেই পারছেনা সে..
বেশ কিছুজন মহিলা সংক্রান্ত নোংরা গালাগালি দিয়ে সম্মোধন করেছে তাঁকে,
আর বারবার ভীষণ বোকা বলে সম্মোধন করা হয়েছে নীলকে,
কারণ নীল বোকা না হলে একটি ষোলো বছরের ছেলের মা…
যার বয়স প্রায় চল্লিশ ছুঁই.. সেই মহিলাকে বিয়ে করে কেউ?
তাঁকে বিয়ে করে নীল যে তার সেক্স লাইফ নিজের হাতে শেষ করে দিয়েছেন সেই নিয়ে বিস্তারিত রসালো আলোচনা আর নীলের জন্য আফসোসের অন্ত নেই তাদের,

এর সঙ্গে তার চরিত্র নিয়েও মাখো মাখো সমালোচনায় ভরে গেছে কমেন্ট বক্স …,

যদিও দুই একজন এমন নোংরা মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন.., আশ্চর্য্য হলো সুলেখা… এই দেখে যে, অনেক মেয়েরাও সেই নোংরা কথাগুলোকে সাপোর্ট করেছে,

সমালোচকদের মতে অভিনেতা অভিনেত্রী মানেই ক্যারেক্টারলেস…, কমেন্টস গুলো পড়তে পড়তে রাগে, কষ্টে, অপমানে নিজের অজান্তে সুলেখার চোখে জল চলে এলো..,

তিনি তো গত রাত্রে অনেক আশা নিয়ে নিজের বিয়ের ছবি দিয়েছিলেন তার অগণিত ভক্তদের উদ্দেশে … শুধু মাত্র একটু শুভেচ্ছা, অভিনন্দন পাওয়ার জন্য..কিন্তু….|

***** ***** ****
সুলেখা মিত্র বংশপরম্পরায় গ্ল্যামার জগতে আসেননি, এখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে ,

ছোটবেলা থেকে নিজের ইচ্ছেতে নিজের চেষ্টায় প্রথমে মডেলিং, প্রথম প্রথম তাঁর বাবা মায়ের আপত্তি থাকলেও, পরে তাঁরা মেয়ের পাশে থেকেছেন সবসময়, তারপর মডেলিং জগৎ থেকে নিজের রূপ আর অভিনয়ের যোগ্যতায় সিনেমার জগতে প্রবেশ করার সুযোগ পান তিনি ,

সিনেমার ডিরেক্টর সুধাংশু চ্যাটার্জি সঙ্গে কাজ করতে করতে প্রেম ,আর তারপর মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর সাথে গাঁটছড়া বাঁধেন ,
বিয়ের দু’বছরের মাথায় সবুজ তার কোলে আসাতে অভিনয় জগৎ থেকে সরে এসে ছেলের দিকে, সংসারের দিকেই মন দেন তিনি,
তারপর ছেলে একটু বড় হতেই আবার সম্পূর্ণভাবে সিনেমার জগতে প্রবেশ করেন সুলেখা মিত্র,
পর পর বেশ কয়েকটি সুপার-ডুপার হিট সিনেমা দিতে দিতে তিনি অভিনয় জগতের প্রথম সারির একজন নায়িকার জায়গা করে নেন,
কিন্তু গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে নায়িকার বয়স একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, অতএব তার হাজব্যান্ড ফের এক নতুন উঠতি নায়িকার প্রেমে পড়েন,

স্বাভাবিক ভাবেই নায়িকারা নিজেদের সংসারের অশান্তি, কষ্টের জায়গা গ্ল্যামার জগৎ থেকে দূরে রাখতেই পছন্দ করেন ,

ভিতরে ভিতরে ভীষণ ভাবে ভেঙে পড়লেও অভিনয় জগতে তার ছাপ বিন্দু মাত্র পড়তে দেননি..,
আর সেইজন্যই হয়তো অভিনয়ে কান্নার দৃশ্যগুলোতে তার চোখে কখনো গ্লিসারিনের ফোঁটা দিতে হয়নি…,

অবশেষে দীর্ঘ টালবাহানার মধ্যে সবুজের যখন চারবছর বয়স তখনই ডিভোর্স হয়ে যায় তাদের,

একদিকে মানসিক কষ্ট, বিবাহবিচ্ছেদ,
তারউপর আবার ডিরেক্টরের সাথে ঝামেলার জন্য বেশ কিছু সিনেমা হাতছাড়াও হয়ে যাচ্ছিল তাঁর ,

সেইসঙ্গে ছেলেকে দেখাশোনা করার ভার, এক ভীষণ কঠিন মানসিক কষ্টের সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি,

তবে তার অগণিত দর্শক যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন তাদের মনোনীত নায়িকার সিনেমার জন্য….সেটা প্রকাশ পেলো… যখন তাঁর পরবর্তী সিনেমা আবার সুপার ডুপার হিট হলো ,
আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে , ‘বিবাহ বাসর’, ‘প্রিয়তমা’, ‘শুধু তোমার জন্য’.. সিনেমাগুলোর অভিনয় তাকে খ্যাতির চূড়ায় তুলে দিয়েছিলো,

অভিনয়ের ট্যালেন্ট তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে বারবার, তাঁর ঝুলিতে এনে দিয়েছে বেস্ট এক্টর এওয়ার্ড,

ছেলে আর স্টুডিও… এই ছিল সুলেখার জীবন, অভিনয় জগতের মধ্যে অনেকেই সুযোগ বুঝে তার জীবনে আসতে চেয়েছেন,
মাঝে মাঝেই এ ওর সাথে তাঁর নামও জড়িয়েছে রিপোর্টারদের দৌলতে,

কিন্তু যখনি তিনি বুঝেছেন তাঁকে ভালোবেসে নয়, তাঁকে সিঁড়ি করাই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য, তৎক্ষনাৎ তিনি সেই সম্পর্ক থেকে বেড়িয়ে এসেছেন, তারপর আবার জীবনে বারে বারে ঠকে যাবার বেদনায় তীব্র হতাশায় ডুবে গেছেন সুলেখা মিত্র ,

তাঁর সঙ্গে অন্য অভিনেতাদের জড়িয়ে তাঁর চরিত্র নিয়ে একাধিকবার কাটাছেঁড়া করা হয়েছে ,
কিন্তু তাতে তার আর কি করার আছে !!.. বদনামের পরোয়া না করে তিনি শুধুমাত্র ভীষণ ভাবে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন মনের মতো একজন ভালোবাসার মানুষকে ,

এতো অগণিত ভক্তের ভালোবাসার মধ্যেও গ্ল্যামার জগতের মহানায়িকা দিনের শেষে ভীষণ একাকিত্বে,আর বিষাদে ভুগতে ভুগতে প্রতিরাতে ছেলেকে ঘুম পাড়ানোর পরে নিজেকে অ্যালকোহলের মধ্যে নিঃশব্দে ডুবিয়ে দিতেন সে খবর কয়জন রিপোর্টার রাখতো !

তাঁর এই একান্ত কষ্টের কথা স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর প্রাণোচ্ছল সদা হাস্যময় মুখে কখনোই ধরা পড়তো না , আসলে অভিনয় জীবনের সাথে সাথে নিজের জীবনের রঙমঞ্চেও তিনি অভিনয় করে গিয়েছিলেন পুরোদমে,
আর এই জন্যই হয়তো তিনি ঘরে বাইরে সেরা অভিনেত্রী,

এমন সময় তার জীবনে প্রবেশ ঘটে আরেক অভিনেতা, নীল ব্যানার্জী…, যদিও তার থেকে বছর চারেকের ছোট সে, কিন্তু ছোট হলেও তার ভালোলাগা, তার অনুভূতি নীলের মত কেউ বোঝেনি আজ পর্যন্ত..তাই বয়সের পার্থক্যকে এক তুড়িতে উড়িয়ে দিয়ে আবার এক নতুন সম্পর্কের বাঁধনে ধরা দিয়েছিলেন তিনি |

সব থেকে বড় কথা হল… সুলেখা দেখলেন তাঁর ছেলেও বেশ পছন্দ করছে নীলকে , এখানেই ভীষণ শান্তি পেলেন মনে মনে , কারণ ছেলের আনন্দের সঙ্গে আর কিছুর কম্প্রোমাইস করতে চাননি তিনি,
তাই দীর্ঘ ছয়বছর ধরে নীলকে পাশে পেয়েও কোনো সামাজিক সম্পর্কে যাননি ছেলের কথা ভেবে , তারপরে ছেলে ষোলো বছরে পড়তে… ছেলের পূর্ণসম্মতিতে দুজনে শেষ পর্যন্ত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন,

এতো খবর আর এইসব সমালোচক ভক্তরা রাখেনা তো !! তাদের কাছে সুলেখা মিত্র তো তাদের রাতের ফ্যান্টাসি ছাড়া আর কিছুই নয় !!
তাইতো তারা নিজেদের মনের মতো করে নায়িকার চরিত্রের বিশ্লেষণ করতে বেশ পুলক অনুভব করে ,
কিন্তু যে সমস্ত নোংরা সমালোচকরা নিজেদের পুরুষত্বকে সমাজের বাঁধাধরা নিয়মে বেঁধে রেখে শুধুমাত্র নিজেদের সেক্স লাইফের সুখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে… তাদের মুখ থেকে এসব নোংরা কথা বের হওয়াটা এমন কিছু অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়,

বিয়ের পরেরদিন.. সকালবেলা তার নিজের পেজে এই নোংরা কমেন্টগুলো দেখে নিজেকে ভীষণ অপমানিত, বিদ্ধস্ত লাগছিলো সুলেখার , গত কয়েক দিনের ভালোলাগাটা মুহূর্তের মধ্যে বিষণ্ণতায় ভরে গিয়েছিল তার,

নীল ঘুম থেকে উঠে বিছানায় সুলেখাকে খুঁজে না পেয়ে অবাক হয়ে.. ডাইনিং স্পেসে এসে দেখল সকাল বেলাতেই হালকা ড্রিঙ্ক নিয়ে বসেছে সুলেখা,

সুলেখার বসার ভঙ্গিতে সে বুঝল বিষন্নতায় ভরে আছে সুলেখার মন,
অবাক হলো সে… এমন তো হবার কথা নয়, সুলেখার ইচ্ছেমতোই তাদের সম্পর্ক এতদিনের পর বাঁধা পড়েছে,
আস্তে আস্তে সুলেখার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো নীল,
বিয়ারের গ্লাসটা একহাতে ধরে সুলেখা মাথাটা সোফায় এলিয়ে দিয়েছে, সারা মুখে কষ্টের ছাপ, চোখের কোনায় জল , নীলের উপস্থিতি টের পায়নি সে,

নীল আলতো করে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল…” কি হয়েছে সু.. এত মন খারাপ কেন? “

হালকা চোখ মেললো সুলেখা,

রিক্ত বিষণ্ণ চোখে নীলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো.. “তুমি কি ভুল করলে নীল… আমাকে বিয়ে করে ? “

নীল অবাক হয়ে যায় এমন প্রশ্ন শুনে, যে মেয়েটা কালকে এত আনন্দ করলো, এত উচ্ছাসিত ছিল নতুন সংসার করার আনন্দে, উত্তেজনায়, আজ সকালে তার এরকম ব্যবহার ভীষণ অপ্রত্যাশিত ঠেকলো তার কাছে,
বুঝলো কোনো কারণে ভীষণ আঘাত পেয়ে হতাশায় ভুগছে সে..,
এই সুলেখাকে খুব চেনে নীল, বাইরের জগতের সদা প্রানোচ্ছল অভিনেত্রী সুলেখা মিত্র.. আর এই একান্তে সুলেখার মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য…
বাইরে থেকে কেউ বুঝবে না যে এই সুলেখা কতোটা অবুঝ, অভিমানী, আর ছেলেমানুষিতে ভরা …
তাইতো এই সুলেখাকেই বড্ড বেশি ভালোবেসে ফেলেছে সে,
এই সুলেখাকে বুকে জড়িয়ে ধরে সে শান্তি পায় ভীষণ,

সুলেখার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে তার হাত থেকে গ্লাসটা সরিয়ে টেবিলে রেখে হাত দুটো মুঠোয় ধরে জিজ্ঞেস করে…. “কি হয়েছে সু..,আজ এতো বছর অপেক্ষা করার পরে আমরা নতুন করে সংসার শুরু করেছি, আজ কত আনন্দের দিন…তবে কেন এমন বলছো.. !!”

নীলের দিকে মোবাইলের কমেন্টবক্স খুলে এগিয়ে দিলো সুলেখা, মুখটা কষ্টে, বিষাদে কুঁচকে উঠলো তার..,

মোবাইলের কমেন্টগুলো একটা দুটো দেখে তাচ্ছিল্যের বাঁকা হাসি হেসে সুলেখার পায়ের কাছে বাবু হয়ে বসে পড়ে নীল… তারপর সুলেখার কোলের উপরে মাথা রেখে বললো.. “তুমি কি পাগল হলে সু..?!”

সুলেখার চোখ দিয়ে কয়েক ফোঁটা জল গড়িয়ে এলো..বললো.. ” বলোনা নীল .. তুমিকি আমাকে বিয়ে করে আফসোস করছো ? “

এবার নীল সুলেখার পাশে বসে তাকে কাছে টেনে মাথায় বিলি কেটে দিতে দিতে বললো .. “এই কয়েকটা নোংরা মানুষের মন্তব্যকে তুমি কেন পাত্তা দিচ্ছ এতো? ওরা তোমার বাইরের টা দেখে সু,তোমার রূপ, তোমার অভিনয়, তোমার ফিগার, কিন্তু আমি তো তাই দেখে তোমাকে ভালোবাসিনি,
আমি তো ভালোবাসি সেই সু ‘কে…. যার খোঁজ আমি ছাড়া আর কেউ পায়নি , এটা যে আমার কি ভীষণ পাওয়া সু, তা তুমি বোঝোনা?”

নীলের কাঁধে মাথা হেলিয়ে দিয়ে সুলেখা বিষন্ন গলায় বললো… “কিন্তু ওরা যা বলেছে তাতে নিজেকে বড্ড ছোট লাগছে যে , মনে হচ্ছে তুমি সত্যি ঠকলে !!…”

নীল সুলেখার কপালে একটা চুমু দিয়ে বললো… “পাগলী, এতদিন আমাকে দেখে বুঝে এই চিনলে তুমি?
যে যা খুশি সমালোচনা করে করুক.. তাতে আমাদের কি ! তারজন্য তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা.. আর আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা কখনো কমবেনা.. কারণ কি জানো? আমরা দুজনে দুজনের ভালোমন্দ সবটুকু নিয়ে ভালোবেসেছি..”

এই কথা শুনে এতক্ষন পরে সুলেখার ঠোঁটের কোনে হালকা হাসি ফুটে ওঠে, চোখের জল মুছে মনখারাপ থেকে ভীষণ ভাবে বেরিয়ে আসতে চান তিনি ..

নীল এবারে সুলেখার গাল দুটো টিপে দিয়ে বললো… “নামেই ছেলের মা.. এখনো নিজে বাচ্ছাদের মতো গাল ফুলিয়ে থাকে… আর আমাকে বোঝাতে হয়.. “

সুলেখার মন ভালো হয়ে যায় নীলের কথায়, নীলের কাঁধে মাথা হেলিয়ে দিয়ে বেশ কিছুক্ষন চুপ করে নীলকে অনুভব করে সে..

সুলেখার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নীল হটাত বলে ওঠে… “চলো ওঠো, আজকের প্ল্যানটা চেঞ্জ করি .. তোমার যেকজন ভক্ত.. আমাদের নতুন জীবনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন তাদের জন্য আমরা সেলিব্রেট করবো..কেমন? “

সুলেখা মৃদু হেসে জিজ্ঞাসার দৃষ্টিতে তাকাতে.. নীল আবার বললো… ” আমরা দুই জনে আজ একা একা না কাটিয়ে.. চলো সবুজকে সারপ্রাইস দিয়ে ওই বাড়ি থেকে নিয়ে লং ড্রাইভে বের হই আমরা…, আজ সারাদিন আমি তুমি আর আমাদের ছেলে”,

এই জন্যই নীলকে সে এতো ভালোবাসে,, তার খারাপলাগাগুলোকে একমুহূর্তে ভালোবাসায় ভরিয়ে দিতে পারে সে, নীলের কথা শুনে মনখারাপের মন টাকে এক তুড়িতে উড়িয়ে দিয়ে সুলেখা পরমতৃপ্তিতে জড়িয়ে ধরলো নীলকে…তার ভালোবাসার মানুষকে…|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *