শাপমোচন – সাহিত্যের সেরা গল্প – Best Bengali Story – Bangla Golpo

“আচ্ছা, মা, ইন-ল কথাটার মানে কি?” পাঁচ বছরের মেয়ের প্রশ্নে চমকে তাকালো সুপ্তি। রান্নাঘরে সে সব্জি কাটছিল।মেয়ে পায়ে পায়ে সেখানেই উঠে এসেছে। সহজ সরল উত্তরটা দিতে গিয়েও গলাটা কেমন যেন কেঁপে গেল সুপ্তির। নিজেকে সামলে , মুখে একগাল হাসি নিয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, “শ্বশুর বাড়ির লোকদের ইন-ল বলে।”
” শ্বশুর বাড়ি মানে কোন বাড়ি?”
“বিয়ের পর মেয়েরা যে বাড়িতে যায়, তাকে বলে শ্বশুরবাড়ি। “
“তোমার তো বিয়ে হয়ে গেছে, কই শ্বশুরবাড়ি যাওনি তো?”
“কেন? এই তো , এটাই তো আমার শ্বশুরবাড়ি ।”
” উঁহু, এটা তো আমাদের বাড়ি। আমার বাবার বাড়ি । তোমার শ্বশুর কোথায় এখানে?”
আজকালকার বাচ্ছাদের সাথে যুক্তিতে পেরে ওঠা বড় শক্ত। আর সুপ্তি নিজেও যখন জানে, তার যুক্তির জাল কত ফাঁপা। তাই আর কথা বাড়াতে চাইল না। মেয়েকে বুঝিয়ে বলল,
” না, মা,আমার শ্বশুর-শাশুড়ি এখানে থাকে না। কিন্তু আমি বিয়ের পর তো এখানেই আছি, তাই এটাই আমার শ্বশুরবাড়ি।”
“ওহহ, ” বিজ্ঞের মতো মুখ করে মাথা দোলালো জিনি। আর তারপর ছুঁড়ল পরের প্রশ্নবাণ।
“আচ্ছা, মা, তোমার শ্বশুর শাশুড়ি কোথায় থাকে?” সুপ্তি মনে মনে ঠিক এই প্রশ্নটাই আশা করছিল ।
“অনেক দূরে থাকে।” আগে থেকেই ভেবে রাখা উত্তর আউড়ে দিল সে।
“আচ্ছা, আমি যেমন আমার বাবা মার সাথে থাকি, তুমি আর বাবা, তোমাদের বাবা মার কাছে থাকো না কেন? তোমাদের বাবা- মা আছে?”
জিনি বুঝি নিজের অজান্তেই হাত দিয়ে ফেলে মায়ের গভীরতর গোপন ক্ষতয়। সুপ্তি আর ঈশান, দুজনেই খুব সন্তর্পণে এড়িয়ে চলে এই দুঃখময় অতীত। কিন্তু আর কতদিন মেয়ের কাছে চাপা থাকবে এই ঘটনা।
****************************************
বছর আটেক আগে, সুপ্তির এম. ডি. ডিগ্রি পাওয়ার পর তখন তার ইন্টার্ণশিপ চলছে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে। মাসান্তে হয়তো এক আধবার দু- একদিনের জন্য বাড়ি ফেরা। আর ওই কদিনই , বিয়ে বিয়ে করে বাড়ির লোকদের মাথা খারাপ করে দেওয়া। ঈশান তখন এন.আর. এস. এ । সেও ইণ্টার্ণ। কিন্তু তারপর তার এম. সি. এইচ করার প্ল্যান। বিয়ের কথা কেউই ভাবছে না তখন তারা। কিন্তু সুপ্তি এতদিনেও কিছুতেই বাড়িতে বলে উঠতে পারেনি ঈশাণের কথা। সে জানত, একে অব্রাহ্মণ , তায় আবার বয়সে তার থেকে কয়েক মাসের ছোট ঈশাণকে – প্রবল পরাক্রমশালী, বনেদি চ্যাটার্জি পরিবার কখনোই জামাই হিসেবে মেনে নেবে না। ঈশাণকে বিয়ে করতে হলে বাড়ি থেকে তাকে বেড়িয়ে যেতেই হবে। তাই শুধু একটু সময় পেতে চাইছিল সুপ্তি। কিন্তু ভাগ্যকে কে খন্ডায়? সুপ্তিকে না জানিয়েই ,বিয়ের পরিকল্পনা করতে থাকে তার পরিবার। সুপ্তিকে যখন জানানো হয়, তখন মোটামুটি সব কথা পাকা।বাধ্য হয়ে, ঈশাণের কথা জানাতেই আগুনে ঘৃতাহুতি। এক কথায় বাড়ি ছাড়তে হয় তাকে। হোষ্টেলেই থাকছিল সে। কিন্তু বাড়ি ছেড়ে আসা যত সহজ, তার পরের ধাক্কা সামলানো তত সহজ নয়। বিষাদে ডুবে যাচ্ছিল সুপ্তি। প্রতি মুহূর্তে মনে পড়ত বাবা মাকে। অভিমানবশত ফোন করেও খোঁজ নিতে পারত না। ঈশাণই তখন তার একমাত্র অবলম্বন। সবসময় কাছে পেতে চাইত তাকে। ঈশাণও বারবার ছুটে ছুটে আসত বাঁকুড়া। সুপ্তিও সময় পেলেই ছুটত কলকাতা। কিন্তু কলকাতায় পা রাখলেই আরও দমবন্ধ লাগত তার। পাগল হয়ে যাচ্ছিল সে। পড়াশোনা সব শিকেয় উঠল। শেষে একদিন ঈশাণকে বলেই ফেলল, ” এভাবে চলছে না, চল্ , বিয়ে করে ফেলি।”
****************************************
রাতের বেলা , চেম্বার করে মা বাড়ি ঢুকলেই নানা আব্দার শুরু হয়ে যায় জিনির। কিন্তু আজ মেয়ে চুপচাপ শুয়ে আছে দেখে সুপ্তি অবাক হল। জিনির আয়া জানালো, যে আজ জিনির স্কুল থেকে কি সব অনুষ্ঠানের নোটিশ দিয়েছে। স্কুল থেকে ফিরে ইস্তক তাই নিয়েই মেয়ের মুখ ভার। সুপ্তি তাড়াতাড়ি মেয়ের ব্যাগ হাতড়ে বার করল ডায়রি। নোটিশ দেখে তার চক্ষু চড়কগাছ। মেয়ের স্কুলে পরের সপ্তাহে “গ্র্যান্ড পেরেন্টস্ ডে”র অনুষ্ঠান হবে। তাতে সব বাচ্ছাদের ঠাকুর্দা ,ঠাকুমা, দাদু, দিদাদের উপস্থিতি একান্ত কাম্য। এক গভীর দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল সুপ্তির বুক ফাঁকা করে। আস্তে আস্তে ঘরে গিয়ে জিনির মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করল, ” কি রে,কি হয়েছে? মন খারাপ কেন?”
সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফারিত হল ক্ষুদ্র আগ্নেয়গিরি। দু চোখ ভরা জল নিয়ে আধো আধো বুলিতে তার অভিযোগ ব্যক্ত করল জিনি। ” আমার দাদু ঠাকুমা কেন থাকে না আমাদের সাথে? আমি কতদিন ধরে প্রোগ্রামের জন্য ডান্স প্র্যাকটিস করলাম। আজ ম্যাম বলেছেন, যাদের গ্র্যান্ড পেরেন্টস্ আসবে, তারাই কেবল পারফর্ম করবে।আমার তো দাদু, ঠাকুমা যাবে না। আমায় ম্যাম বলেছেন, কাল থেকে রিহার্সাল না দিতে।”
“ঠিক আছে। তুমি কেঁদো না। তুমি না হয় পরের বার পেরেন্টস্ ডের প্রোগ্রামে পার্টিসিপেট করো।আমরা তখন যাব।”
“না, আমি এটাতেই ডান্স করব। তুমি তো বল, ওঁরঞা দূরে থাকে। ফোন করে ডাকো।” এবার প্রমাদ গুণতে থাকে সুপ্তি। সে জানে না, কি করে এ ঝড় সামলানো যাবে। তবু জিনিকে শান্ত করার আশায় বলে , ” ঠিক আছে, তোর বাবা আসুক, আমার কাছে তো ফোন নম্বর নেই। বাবা এসে না হয় ফোন করে জিজ্ঞাসা করবে, তারা আসতে পারবে কি না?”
” না, না, আসতেই হবে। আমরা বরং কাল গাড়ি করে গিয়ে নিয়ে আসব ওদের। ” উৎসাহে চোখের জল মুছে উঠে বসে জিনি। কিন্তু সুপ্তির বুকে যেন হাতুড়ির ঘা পড়তে থাকে। কোন্ মিথ্যা আশায় ভোলাচ্ছে সে শিশুটিকে? দাঁতে দাঁত চেপে, নিজের চোখের জল সামলে জিনিকে নিয়ে খাওয়াতে বসল অসহায় সুপ্তি।
****************************************
সুপ্তির আশা ছিল, ঈশাণকে বিয়ে করলে অন্তত একটা পরিবার হয়তো সে পাবে। একাকীত্বের যন্ত্রণা, কিছুটা হলেও হয়তো লাঘব হবে তার। কিন্তু নিজের বাবা-মায়ের অভিশাপ বৃথা হওয়ার নয়। সুপ্তির বেরিয়ে আসার মুহূর্তে উচ্চারিত সেই বাণীই বুঝি ফলে গেল তার জীবনে। ” যে ছেলের জন্য এত বছরের চেনা পরিবার, আত্মীয় স্বজন, বাবা মাকে ছেড়ে তুই বেরিয়ে যাচ্ছিস, দেখবি সেই পরিবারেও তোর ঠাঁই হবে না। সারাজীবন একা একাই বাঁচতে হবে তোকে।” সত্যিই, ঈশাণের বাড়িতেও জায়গা হল না তার। মধ্যবিত্ত পরিবারের ডাক্তার ছেলের জন্য, ঈশাণের বাবা-মা বহুমূল্য পণ সামগ্রী সমেত অতীব সুন্দরী পাত্রী আশা করে বসে ছিলেন। সেখানে সুপ্তি দেখতে অতি সাধারণ। তায় আবার বাড়ি থেকে বিতাড়িত। ছবি দেখে আর তার গল্প শুনেই তাকে নাকচ করে দিয়েছিলেন ঈশাণের বাবা মা। সঙ্গে ঈশাণকেও শুনতে হয়েছিল একই কথা, ” ওই মেয়েকে বিয়ে করতে হলে, ওরই মতো তোমাকেও বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে হবে।” সুপ্তি বারবার তখন ফিরে যেতে বলেছিল ঈশাণকে। পরিবার, বাবা মা ,এদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার যন্ত্রণা সে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিল। তাই প্রিয় মানুষটি সেই একই যন্ত্রণা সহ্য করুক, সুপ্তি কখনোই তা চাইছিল না। কিন্তু ঈশাণ হাত ছাড়েনি সুপ্তির। একটা কথাই বলেছিল, “যদি সত্যিই তোর বা আমার কোনো অযোগ্যতা থাকতো, তাহলে আমরা না হয় বাবা মার কথা মেনে নিয়ে আলাদা হয়ে যেতাম। কিন্তু যেটা অন্যায়, তা মেনে নেব কেন? আমরা জাতপাত মানি না। রূপ ,অর্থ – এসবেরও কোনো মূল্য নেই আমার কাছে। আর তুই যেখানে আমার জন্য সবাই কে ছেড়ে চলে এলি, সেখানে আমি তোকে ছেড়ে , ফিরে যাব? নিজেকে তারপর আর মানুষ বলে ভাবতে পারব আমি?” এই কথার পর সুপ্তি আর ফিরিয়ে দিতে পারেনি ঈশাণকে। কয়েকজন বন্ধুর সাহায্যে সংসার পেতে বসেছিল দুজনে ,এক কামরার ছোট্ট ফ্ল্যাটে। সম্পূর্ণ নিজেদের দায়িত্বে।
****************************************
রাতে খাওয়া দাওয়ার পর জিনিকে ঘুম পাড়াতে পাড়াতে সুপ্তি বারবার ভাবছিল, কি করে সমস্যার সমাধান করা যায়? কিছুই মাথায় আসছিল না তার। জিনি হওয়ার পর, তারা দুজনেই বাড়িতে ফোন করেছিল।ক্ষমা চেয়েছিল, বুঝিয়ে ছিল অনেক রকম ভাবে। কিন্তু দুই পরিবারেরই মন গলাতে পারেনি। তারপর থেকে তারাও আর যোগাযোগ করেনি। আজ পাঁচ বছর পর আবার কি নিজেদের প্রয়োজনে তাদের সামনে গিয়ে হাত পেতে দাঁড়াবে? সুপ্তি রাজী হলেও ঈশাণ কি ব্যাপারটা মেনে নেবে?
ঈশাণ বাড়ি ফেরার পর সুপ্তি জিনির সমস্যার কথা খুলে বলল তাকে। প্রথমে এক কথায় ঈশাণ বারণ করে দিল যে জিনিকে প্রোগ্রাম করতে হবে না। কিন্তু ছোট্ট শিশুর মন এতে কতটা আহত হতে পারে, তা একজন শিশু বিশেষজ্ঞ হিসাবে সুপ্তি ভালোই জানে। তাই আরও একবার ঈশাণকে নরম করে বুঝিয়ে বলল, ” চল না, জিনিকে নিয়ে একবার ওঁদের সামনে গিয়ে দাঁড়াই। যদি নাতনিকে দেখে ওঁরা ওঁদের মত বদলায়?”
” তুই কি জিনিকে দিয়ে ওদের ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল করাতে চাইছিস ? আর জিনির সামনে ,যদি ওরা জিনিকে ফিরিয়ে দেয়, সেটা কি মেয়ের জন্য খুব ভালো হবে?” কঠিন স্বরে সুপ্তিকে প্রশ্ন করে ঈশাণ।
“তাহলে কি করা যায়? বন্ধুদের কাউকে বলে দেখব, তাদের বাবা মাকে যদি অনুষ্ঠানে নিয়ে আসা যায়?” চিন্তিত গলায় বলল সুপ্তি।
তারপরেই ঈশাণ আর সুপ্তি একসাথে লাফিয়ে উঠল।চোখের ইশারায়, দুজনের মুখে ফুটে উঠল একরাশ হাসি। এই সমস্যার এত সহজ সমাধান হাতের কাছে থাকতে , এতক্ষণ তাদের মনে পড়েনি কেন?
****************************************
প্রজাপতির ড্রেস পড়ে ছোট্ট জিনির খুশি আজ আর ধরে না। হাজার বার তাড়া দিচ্ছে ঈশাণ আর সুপ্তিকে। কখন দাদু -ঠাকুমার বাড়ি যাবে- এই বলে প্রায় পাগল করে দিচ্ছে সে। আগের দিন নিজের জামা কাপড়ের সাথে, দাদু, ঠাকুমার জন্যও ধুতি- পাঞ্জাবি, শাড়ি কেনা হয়েছে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে সোজা জিনির স্কুলে চলে যাওয়ার কথা ঈশাণদের। কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়ি গিয়ে পৌঁছালো একটি বড় বাড়ির সামনে।গেটে সাইনবোর্ড টাঙানো, ” নিলীমা বৃদ্ধাশ্রম”। বড় গেট পেরোতেই অফিসঘর। সেখানেই বসে আছেন সৌম্য দর্শন এক দম্পতি। জিনি আর ঈশাণ মুখ চাওয়া চাওয়ি করল দুজনে। দুজনেরই মনে পড়ে যাচ্ছিল পুরানো কথা। বাবা মাকে ছেড়ে চলে আসার পর বিয়ে করেও, দুজনেই তারা যখন অবসাদ ভুগছে, তখনই সন্ধান পায় এই বৃদ্ধাশ্রমের। তারপর নিয়ম করে এখানে আসত ওষুধ, জামা কাপড় ইত্যাদি নিয়ে।মন ভালো হয়ে যেত সহজেই। আর এভাবেই এই বিশেষ প্রৌঢ় দম্পতির সঙ্গে এক গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তাদের। একমাত্র ছেলে বাড়ি বিক্রি করে বিদেশে চলে যাওয়ায়, এনাদের ঠাঁই হয় এই বৃদ্ধাশ্রমে। আর সুপ্তিরাও তখন বাবা মায়ের অভাববোধে জর্জরিত। দু-পক্ষই একে অপরকে আঁকড়ে ধরে প্রকৃতির নিয়মে। প্রায় বাবা-মায়ের স্নেহ দিয়ে ঘিরে রেখেছিলেন ঈশাণ- সুপ্তি কে এঁরা বহু বছর । জিনি হওয়ার পরও ,জিনিকে দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছিল এঁদের কে। এখন ব্যস্ততার কারণে যাওয়া আসা একটু কমে গেছে বটে। কিন্তু যোগাযোগ এখনও অটুট আছে। তাই অনুষ্ঠানের কথা বলতেই ,এক কথায় রাজি হয়ে যান এঁরা।
জিনি জন্মের পর এই নিয়ে দ্বিতীয় বার এল এখানে। জিনিকে দেখেই ওঁরা তাড়াতাড়ি এগিয়ে এলেন। সস্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে বুকে টেনে নিলেন। জিনিও জামা কাপড়ের প্যাকেট ওঁদের হাতে দিয়ে প্রণাম করল।সুপ্তির চোখ ভিজে আসছিল। ভাবছিল, পরের ছেলে মেয়েকেও কত সহজে আপন করে নিতে পেরেছেন এঁরা। অথচ নিজের বাবা-মা, মিথ্যা অহংকারে তাদের দূরে ঠেলে দিয়েছে চিরতরে। ঘোর কাটল জিনির প্রশ্নবাণে।
“মা, দাদু- ঠাকুমা এখানে থাকে? তাহলে এটা তোমার শ্বশুরবাড়ি?”
“হুম, তা বলতে পারিস। “
” তোমার আর বাবার কি একটাই বাবা -মা?”
” হ্যাঁ,” বৃদ্ধ- বৃদ্ধাকে জড়িয়ে ধরে উত্তর দিল সুপ্তি।
” তাহলে তো তুমি আর বাবা ভাই-বোন হয়ে গেলে? তোমরা যে বল, তোমরা দুজন বন্ধু?” ছোট্ট শিশুর কথায় অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল আর দুই নবীন আর প্রবীণ দম্পতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *