আয়না – Heart touching Bengali Story – Bangla sad story

রাত্রে বিছানায় বউয়ের পাশে শুয়ে সুখের ঢেঁকুর তুলতে তুলতে ঠোঁটের কোনে একটা অবজ্ঞার হাসি হেসে স্মৃতি রোমন্থন করতে বসে বেশ ভালো লাগছিলো আমার ,

অনেকদিন পর আজ প্রীতিকে দেখলাম মেলায়, ইস চেহারার কি হাল করেছে মেয়েটা, এমনিতেই শ্যামলা রঙ ছিল, এখন যেন কেমন আরো কালো রুগ্ন হয়ে গেছে, মুখের সেই লাবণ্য ভাব উধাও, তার উপর মুখে একটা ভারী ফ্রেমের চশমা পড়ে একটা বুড়ি বুড়ি ভাব,
ভাবতেই অবাক লাগছে আমার.. কি করে এই মেয়েটার সাথে আমি একসময় প্রেম করেছিলাম !!
তবে তখন অবশ্য বেশ মিষ্টি দেখতে ছিল মেয়েটার, আর চেহারাটাও বেশ.. আহা ,

কম বেগ পেতে হয়েছিল নাকি মেয়েটাকে তুলতে? আমি যথেষ্ট হ্যান্ডসাম, বড়লোকের ছেলে, তবুও প্রীতি প্রথম প্রথম পাত্তাই দিত না আমাকে !

তাই রোখ চেপে গেছিল আমার , ওই মেয়েটার সাথে প্রেম করতেই হবে.. যেকোনো মূল্যে মেয়েটাকে রাজি করাতেই হবে,

সত্যি বলতে কী.. তখন বেশ লাগত মেয়েটিকে, ন্যাচারাল বিউটি যাকে বলে, শ্যামলা হলেও মুখশ্রী ছিলো নজর কাড়ার মতো, কলেজের অনেক ছেলে মেয়েটার দিকে ঝুঁকেছিল.., কিন্তু মেয়েটাই পাত্তা দিতোনা কাউকে, মেয়েটার এই ব্যাপারটা আমাকে আরও টেনেছিল ওর দিকে,

একনাগারে বছর খানেক মেয়েটার পিছনে পড়ে থাকার পর.. মেয়েটা যখন সম্মতি দিল… সেদিন মনে মনে জিতে যাবার ইচ্ছেটা বেশ উপভোগ করেছিলাম বেশ ,

রাজি হবে না মানে?
আমার মত ছেলে পাবে নাকি আর?
নিজের আত্মপ্রশংসায় নিজেই আত্মতৃপ্তিতে হেসে উঠেছিলাম সেদিন.. সেই সঙ্গে আজও ., হাহাহাহা…

তারপর মাস ছয়েকের মধ্যে একদিন মেয়েটিকে সিনেমা দেখাতে যাবার নাম করে সিনেমা হলে জোর করে জড়িয়ে ধরে প্রথম চুমু খেলাম , প্রীতি প্রথমে আপত্তি করেছিলো … কিন্তু আমি শুনলে তো!!

আজ শুয়ে শুয়ে বারবার ফিরে যাচ্ছিলাম প্রায় পঁচিশ বছর আগে স্মৃতিচারনে.., সত্যি বলতে কি.. বেশ ভালো লাগছিলো ভাবতে..,

তারপর থেকে সুযোগ পেলেই প্রীতিকে কতবার জড়িয়ে ধরেছিলাম , মেয়েটা সত্যি অতিরিক্ত ভদ্র ছিল, ভালো ফ্যামিলির একমাত্র মেয়েও , বাবা প্রাইমারি স্কুলের মাস্টার , বুঝতে পারছিলাম ধীরে ধীরে প্রীতি ভীষণ ভালবাসতে শুরু করেছে আমায়,

তারপর একদিন তাকে আমি বললাম “তোর সবকিছু দেখতে চাই আমি, “
এমন ন্যাকা মেয়ে… কথাটা শুনে চমকে উঠল, কিছুতেই রাজি হলোনা,

মনে মনে ভাবলুম… প্রেম করবি আর এইটুকু করবি না?
তবে আমি জানি মেয়েটাকে কি করে রাজি করাতে হবে,
দিলাম কথা বন্ধ করে.,
দেখা করা বন্ধ করে, বোঝো ঠ্যালা,
জানি পারবেনা থাকতে,
তারপর একদিন দেখা করেই ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে কান্না.. “কেন ওমন করছো আমার সাথে !”
আমি বললাম “কী হবে দেখা করে, যে সম্পর্কে বিশ্বাস নেই !”
মেয়েটা বললো “করি তো বিশ্বাস “

সুযোগ বুঝেই বললুম… “বিশ্বাস যখন কর তাহলে যেটা চাইলাম সেটা দিতে অসুবিধা কিসের !”
মেয়েটি মাথা নিচু করে বলেছিলো… “বিয়ের আগে.. উচিৎ নয় “

বিরক্ত লাগছিলো আমার.. তবুও হাসি মুখে বললাম… “তাতে কী? বিয়ে তো করবোই দুজনে , তাহলে আপত্তি কোথায়? “

মেয়েটি বেশ কিছুক্ষন ভেবে অবশেষে রাজি হল,
হাহাহা… হবে না মানে? মনে মনে নিজেকে আমি অনেক আগে থেকেই তৈরী করেছিলাম,
একদিন সুযোগ বুঝে আমার মামার বাড়িতে ডাকলাম,
মামা-মামি উত্তর ভারতে বেড়াতে গেছে, সুযোগ পেলেই ভারত ভ্রমণে বের হন ওরা, ওনাদের ছেলে পুলে নেই, তাই ভাগ্না বলতে অজ্ঞান, বেড়াতে গেলেই বাড়ির চাবি থাকে আমার দায়িত্বে, তো…. সেই ঘরের সদ্ব্যবহার করলাম আমি,

প্রীতি খুব সংকোচের সঙ্গে এলো সেই বাড়িতে, কিন্তু মুখটা এমন করে থাকলো যেন বিষ খেতে বলেছি,

আহা কি ঢং.. ওখানে এসেও দেখি কাঁদছে, মনে মনে বিরক্ত হলাম…এই কয়দিন পাখি পড়ানোর মতো বুঝিয়েছি, বেশি বেশি ভালোবাসা দেখিয়েছি, আবার এখানে এসে তবুও কান্না, উফফ.. এক্কেবারে সতী সাবিত্রী ক্যারেক্টার, মাথাটা গরম হচ্ছিলো,

কিন্তু সেটা প্রকাশ না করে ফের বোঝালাম..” কাঁদছো কেন? আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি তো নাকি “
“মনের দিক থেকে তুমি আমার স্ত্রী, এতে কোন পাপ নেই,”
তবুও ফ্যাচফ্যাচ করে কাঁদছে দেখে আমি মামীর ঠাকুর ঘর থেকে লক্ষ্মী ঠাকুরের সিঁদুর এনে দিলাম ওর সিঁথিতে পড়িয়ে,

এতক্ষণে চোখমুখ উজ্বল হলো মেয়েটার, মনে মনে হেসে নিজের বুদ্ধির তারিফ না করে পারলাম না,
তারপর আমার হাতের মুঠোয় চলে এলো মেয়েটা জাস্ট এক চিমটি সিঁদুরের বিনিময়ে,

বাড়ি যাবার সময় বললাম.. সিঁদুর টা মুছে যাও, নইলে সবাই ভুল ভাববে, আপাতত আমরা দুজনে মনে মনে রাখি ব্যাপারটা কেমন? “
যাক বাবা মেয়েটার মাথায় ঢুকলো…ভীষণ লজ্জা পেয়ে’ হ্যাঁ ‘সূচক মাথা নাড়লো সে..
বোকা মেয়ে……..,

তারপর সময় সুযোগ হলে… বেশ কয়েকবারই ….. হাহাহাহা…,

মাস সাতেক পর থেকে আমার কেমন একঘেয়েমি লাগতে শুরু করলো, কারণ মেয়েটার সেই এক ঘ্যানঘ্যানানি….” মা তোমার সাথে দেখা করতে চায়,”

মাথা গরম হয়ে যেত আমার, আমি সবে বিকম পাস করেছি , এক্ষুনি কি?

আর তাছাড়া সত্যি বলতে কী ওকে আমার এখন আর তেমন মনে ধরেনা, নেশা হয়েছিল, নেশা কেটেও গেছে,
ফলে নানান অজুহাতে দেখা করা কমাতে লাগলাম,
ও খুব কান্নাকাটি করলে… যে সময় দেখা করব বলতাম… ইচ্ছে করে তার থেকে ঘন্টা খানেক পড়ে যেতাম… দেখতাম বোকা মেয়েটা তখনও ঠায় অপেক্ষা করছে আমার জন্য .. সেই জায়গায়,

এতো অবহেলা করতাম.. তবু আমার জন্য আশায় বুক বাঁধে, অদ্ভুত,

কিছুতেই পিছু ছাড়েনা,
এতো মহাঝামেলা,
শুরু করলাম বাজে ব্যবহার করা, গালাগালি দেওয়া, গালাগালি শুনে বসে বসে নিঃশব্দে কাঁদত, তবুও দেখি আমাকে ছেড়ে দেবার কথা ভাবে না, এবার কেন জানিনা বিরক্ত লাগতে শুরু করলো, আচ্ছা জ্বালা হলো তো, এতো পিছুই ছাড়ে না, মেয়েটার ন্যাকা কান্না সহ্য হচ্ছিল না আমার, শেষ মেষ এড়িয়ে চলা শুরু করি..,

এড়িয়ে চলার বেশ কিছুদিন পর.. একদিন সন্ধ্যে বেলায় দেখা করলাম, ভাবলাম একটা হেস্তনেস্ত করি,
আমার সামনে যখন এসে দাঁড়াল… দেখলাম কেমন রোগা হয়ে গেছে কয়দিনে, চোখের তলায় কালি, ভাবলুম প্রেগনেন্ট হয়ে গেল নাকি, কিন্তু না অত কাঁচা কাজ তো আমি করি না,
শুনলাম ওর বিয়ের জন্য ছেলে দেখছে বাড়ি থেকে, শুনে মনটা আনন্দে আমার নেচে উঠল,
যাক পিছু ছাড়লো তাহলে, ঘাড় চুলকোতে চুলকোতে বললুম… “ভালোই তো, বাবা মায়ের দেখা ছেলের সাথে বিয়ে করে ফেলো”

শুনে আমার দিকে অবাক হয়ে হাঁ করে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষন , তারপর মৃদু স্বরে আমাকে বলল… “সেদিন তাহলে তুমি যে…”

তাচ্ছিল্য করে বললাম.. “সেদিনের কথা ছাড়, ওসব কত কিছুই হয়.. “

মেয়েটার চোখ দুটো জলে ভরে গেলো… “আমাদের সম্পর্ক যতদূর এগিয়েছে তাতে অন্য কাউকে বিয়ে করলে তাকে ঠকানো হবে, আর তাছাড়া তোমাকে ছাড়া আমি আর কাউকে ভাবতে পারবনা , “

উফফ, সেই এক প্যানপ্যানানি, আমি যেন তেন প্রকারে ওর পিছু ছাড়াতে চাইছিলাম, তাই মাথাটা গেলো গরম হয়ে , … আমি ওর হাতটা টেনে অন্ধকারের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ওর গলাটা এক হাতে চেপে ধরে বললাম… “..শুলেই বিয়ে করতে হবে নাকি রে? ভাবিস কি করে তোর মত একটা কেলটিকে বিয়ে করবো আমি? মরতে পারিস না তুই? “

মেয়েটা এমন ন্যাকা… আমাকে আটকালোও না, আমি জানি এমন জোরে গলাটা চেপে ধরেছি.. ব্যাথা লাগছে, তবুও টু শব্দটাও করলোনা, বিস্ময়ে হাঁ করে আমার দিকে তাকিয়ে দেখছিলো … শুধু চোখ দিয়ে বড় বড় ফোঁটায় টপটপ করে জল পড়তে লাগল তার …নিঃশব্দে,
একটু খারাপ যে লাগেনি তা নয়.. কিন্তু আমার যে এদিকে এক দারুন সুন্দরীর সাথে বিয়ের কথাবার্তা চলছিলো..সেটা হাতছাড়া করা সম্ভব নয় কিছুতেই আমার পক্ষে ,

না আমার কথা শুনে সে মরতে যায়নি, তবে আর কোনদিনও বিরক্ত করেনি আমায়, তারপর তাকে দেখতেও পাইনি আর, কোনোদিন সামনে আসেনি আমার,

আমি আমার বাবার ব্যবসায় ঢুকে যাই বছর খানেক পরে, তারপর ঠিক করে রাখা আমার বাবার বন্ধুর অতীব সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করি আমি, এখনো আমার সুন্দরী বউ কে দেখলে যে কোন কারোরই মাথা ঘুরে যাবে, কে বলবে ওর একটা আঠারো বছরের মেয়ে আছে?
হ্যাঁ আমাদের একটা সুন্দরী মেয়ে আছে এবছর উচ্চমাধ্যমিক দেবে, সুন্দরী বউ আর মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার করছি আমি,

সেই আমি আজ আবার প্রীতিকে দেখলাম, কানে এসেছিল বিয়ে থা করেনি.. টিউশনি করে সংসারে সাহায্য করে, নইলে পেনশনে আর কত টাকা আসে!!

আজ প্রীতিকে দেখে আমার মনে হলো ভাগ্যিস মেয়েটাকে বিয়ে করিনি, আত্মতৃপ্তিতে পাশ ফিরে শুয়ে সুন্দরী বউকে জড়িয়ে ধরলাম …আহা কী শান্তি…|

পরের দিন সকালে সুন্দরী বউ এর চিৎকারে ঘুম ভাঙলো আমার , মেয়ে নাকি ঘুমের ওষুধ খেয়েছে!!
.. ঘুমের ওষুধের ফাঁকা শিশি বালিশের পাশে পরে ,
সেকি!!…কেন এমন করলো মেয়েটা, আমার বৌ প্রথমে ভেবেছিলো ছুটির দিন তাই মেয়ে ইচ্ছে করে দেরি করে উঠছে..

আমি হতবম্ভ হয়ে গেলাম, বুঝতে পারলাম না আমাদের একমাত্র আদরের মেয়ে কিসে এতো আঘাত পেলো যাতে সে সুইসাইড করতে গেলো ! বুকের ভিতর টা কেমন ফাঁকা লাগছিলো যেন,

তাড়াতাড়ি করে হস্পিটালাইজড করলাম মেয়েকে, দুই দিন যমে মানুষে টানাটানি চলার পরে শেষে মেয়েকে ফিরে পেলাম আমরা , এই দুই দিনের প্রতিটা মুহূর্ত যে কিভাবে কেটেছে আমাদের সে আর বলার নয়.., প্রতি মুহূর্তকে এক এক ঘন্টা মনে হচ্ছিলো… অবশেষে আজ বিকালে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে এলাম মেয়েকে,

বাড়ি আসার পর মেয়ে শুধু কাঁদছে…
ভীষণ অসহায় লাগছিলো আমাদের , কি হয়েছে !! কিচ্ছু বুঝতে পারছিনা.., জিজ্ঞেস করলে উত্তরও দিচ্ছেনা, কিসের চাপা কষ্টে আমার আদরের মেয়েটা এমন যন্ত্রনা পাচ্ছে..!!
অথচ মেয়ে যদি সবকিছু খুলে আমাদের বলে তাহলে ওও একটু হালকা হতে পারে, সেই সঙ্গে আমরাও,

তাই পরদিন সকালে মেয়ের সাথে কথা বলতে গিয়ে মেয়ের বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে মেয়ের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম.. আমার অসুস্থ মেয়ের চোখের তলায় কালি, কদিনেই কেমন যেন রোগা হয়ে গেছে.. ভীষণ কষ্ট হলো আমার ..মেয়েরা বড়ো হয়ে গেলে তাদের নিজের একটা আলাদা জগৎ তৈরী হয়ে যায় মনে হয়, সেই জগতের ভালোমন্দ বিষয়ে বাবা মায়ের অংশগ্রহণ করা নিষিদ্ধ , তাই হয়তো মেয়ে কিছু বলছে না তাদেরকে…নিজের অজান্তে চোখে জল চলে এলো আমার ,

হটাত নজরে পড়লো ড্রেসিং টেবিলের সামনে মেয়ের মোবাইল, ..মোবাইল টা হাতে নিয়ে দেখতে গেলাম কিছু জানা যায় কিনা..মোবাইল টা তুলতেই একটা চিঠি দেখতে পেলাম ..
সম্ভবত ঘুমের ওষুধ খাবার আগে মেয়ের লেখা, তাড়াতাড়ি চিঠিটা খুললাম, জানতে ইচ্ছে হলো কেন এমন করলো ও,

নাহ বাবা মা কে উদ্দেশ্য করে লেখা নয় চিঠিটা.. কোনোও এক অজ্ঞাত “বাবু ” র উদ্দেশে লেখা এই চিঠি..

বাবু,
তোকে আমি খুব ভালোবাসি বাবু, তুই ও বলেছিলি তুই আমাকে খুব ভালোবাসিস, কিন্তু তুই যে প্রতিনিয়ত আমার সাথে ভালোবাসার অভিনয় করে গেছিস তা বুঝতে পারেনি আমি, তোকে বিশ্বাস করে আজ এতদূর পর্যন্ত সম্পর্ক এগিয়ে যাওয়ার পরেও তুই কি করে আমাকে অস্বীকার করতে পারিস বাবু ? কি করে বলতে পারিস আমাকে তোর আর মনে ধরেনা? কি করে আজ বলতে পারলি আমি মরলে তোর শান্তি হয়!!
ঠিক আছে তোর থেকে অনেক দূরে চলে যাবো আমি..তোকে আর কখনো জ্বালাবোনা, তুই যা চেয়েছিলি আমার কাছে বিশ্বাস করে সর্বস্ব দিয়েছি তোকে.. এবারে জীবন টাই চাইলি যখন.. তখন জীবনটাই দেবো…আমার আর বেঁচে থেকেই বা কি হবে!.. তোকে ছাড়া বাঁচতে আমি পারবোনা কিছুতেই, ভালো থাকিস তুই,
ইতি
তোর..

চিঠিটা পড়তে পড়তে রাগে দুঃখে ভেঙ্গে পড়লাম,
এই “বাবু”টা কে? কার জন্য আমার আদরের একমাত্র মেয়েটা সুইসাইড করতে গিয়েছিলো ?
এই বাবুকে খুঁজে বের করতেই হবে আমাকে ..
আমার মেয়ের সাথে অভিনয়?
ছেলেটাকে এর শাস্তি পেতেই হবে..
কিন্তু কি শাস্তি দেব ছেলেটাকে, মন ভাঙার কোনো শাস্তি আছে নাকি?
ভীষণ রাগে.. কিছু করতে না পারার কষ্টে কাঁদতে কাঁদতে সামনে ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় চোখ গেল আমার ,
হঠাৎ কেন জানিনা মনে হল ঠিক পঁচিশ বছর আগেকার কথা,
মনে পড়লো ঠিক এমন ভাবেই আমিও তো প্রীতির মন ভেঙেছিলাম,
প্রীতির বিশ্বাসের উপর চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলাম, তাকেও মরতে বলেছিলাম, কিন্তু সে সুইসাইড না করেই আমার জীবন থেকে নিঃশব্দে সরে গেছে, আর আমার মেয়ে !!!
…আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বর মধ্যে
বর্তমান “বাবু”র আর এক প্রতিবিম্ব যেন দেখতে পেলাম যেন, হয়তো স্বয়ং ঈশ্বর দেখিয়ে দিলেন .., এই প্রথম নিজেকে প্রচন্ড ঘৃণা করতে ইচ্ছে হলো আমার ..

দীর্ঘ পঁচিশ বছর পরে নিজের ঘৃণ্যকৃতকর্মের জন্য আত্মগ্লানি আর চরম বিস্বাদে মনে মনে বার বার প্রীতির কাছে ক্ষমা চাইলাম আজ…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *