অবৈধ -Oboidh – Bengali Love Story – Romantic Bangla Premer Golpo

 (প্রথম পর্ব)
( কঠোরভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য)

                                    ১
“এ বেটির বিয়ার বয়স হইন গেল তবু দেখেন ঘরে মতি লাই গা।সারাদিন টো ঘুরিন বেড়ায়।কোথাকার রাজকুমারী আইছেন বটে।ঘরের কাজের লগিন বলি বলি মুখ টো ব্যাথা হুইন গেল”সকাল সকাল ঘরে ফুলিকে দেখতে না পেয়ে সবু কাজ করতে করতেই গাল পাড়ছিল।এহেন সুসময়ে ফুলি হাতে একগোছা ছোলা শাক নিয়ে ঢুকলো বাড়িতে।ফুলিকে দেখেই আগুনের ঘৃতহুতির মতো জ্বলে উঠলো সবু।”বলি তোর মত মেয়ে ছেনারে মানুষ কইরে কি লাভ হল বল দিকিন! শয়তান শহুরে মরোদটা তো তোর মায়ের প্যাটে বীজ ঢুকায়েন দি সেই যে পলাই গেল,আর খোঁজ নিলোনি, আর মা মাগীও এই মেয়ে ছেনারে রাখি মরি গেল,মোর হল গিয়ে যত জ্বালা, চক্ষের সামিন থেইকে দূর হ কইছি হতচ্ছাড়ি”বলেই ঝাঁটা নিয়ে ছুটলো ফুলির দিকে।ফুলি এতক্ষন ওসব কথা কান না করেই গুনগুন করে সুর ভাঁজছিল,কিন্তু সবু যেই তার মাকে গাল দিলো মাথাটা দপ করে জ্বলে উঠলো ফুলির ।দৌড়ে গিয়ে গোয়াল থেকে গরু ছাগল গুলোকে ছেড়ে দিয়ে কঞ্চির বেড়া ডিঙিয়ে ছুট লাগলো।”হায় হায় গো, ও গতরখাকির কাজ টো দেখ দেখিন,কি  করলি রা,দুধ দোয়ান হয় নাই ,আমার মাথা টো খেলে গা…হুস হুস “বলতে বলতে গরুছাগল গুলোকে আবার তাড়িয়ে গোয়ালে ঢোকানোর চেষ্টা করলো।ফুলি ততক্ষনে কাঁসাই এর পাড় ধরে ছুটতে ছুটতে হাঁপিয়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে পিছনে দেখতে লাগলো।
          পুরুলিয়ার ছোট্ট একটা গ্রাম,পাকুরা,কয়েক ঘর উপজাতির বাস।কাঁসাইএর পাড় ধরে সব ছোট ছোট টালিতে ছাওয়া মাটির বাড়ী।সবু ,শান্তি ,দুলালী,কালী সবাই যে যার সংসার পেতেছে এখানে।ফুলির মা নীলুও এই গ্রামের মেয়ে ছিল।বছর ষোলো আগে কলকাতার কিছু শহুরে বাবু ঘুরতে এসেছিল এখানে।ডাগর গড়নের নীলুকে দেখে পছন্দ হয়েছিল একটা বাবুর,তারপর পীড়িত বেড়ে বেড়ে কবে যে নীলুর শরীরে প্রানের সঞ্চার হয়ে গেছিল প্রেমে মজে যাওয়া নীলু তা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেনি।যখন জানলো তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।শহুরে বাবুর নাম ছাড়া আর কিছু জানা ছিলনা।তাই ভগবানের ভরসায় জন্ম দিয়েছিল ফুলিকে,কিন্তু এক বছর হতে না হতেই তিনদিনের জ্বরে নীলুর প্রাণটা শেষ হয়ে যাওয়ার পর সবু তার সখীর মেয়েটাকে কোলে তুলে নিয়েছিল।আজ যতই ঝগড়া করুক ফুলির সাথে সবু নিজের পেটের ছেলের মতোই আগলে রেখেছে ফুলিকে।ফুলিও জানে সেটা ভালো করে। এখন খুব ভয় করে সবুর।ফুলিও যে তার মায়ের মতো ওমন ডাগর হয়েছে,সেই টানা চোখ,টিকলো নাক,সুডোল গড়নের ফুলির রংটাই যা কালো।তবে ওমন রূপের চটকে ফর্সা মেয়েও হার মানাবে।কোমরে কাপড়টা জড়িয়ে,চুলটা পিঠময় ছড়িয়ে পায়ে মল পরে ও যখন হেঁটে যায় আচ্ছা আচ্ছা লোক নিজের কাজ ভুলে তাকিয়ে থাকে।ওই মেয়েকে সামলায় ,সবুর সাধ্য কই!
                                      ২
  কদিন হলো সপ্তক এসেছে এখানে।বসন্ত আসলেই ওর মন কেমন করে ওঠে এই জায়গা গুলোর জন্য।শিল্পী মানুষ,খুব কম বয়সেই বেশ সুখ্যাতি হয়েছে তার।কিন্তু পুরুলিয়ার এই প্রত্যন্ত জায়গাগুলোর হাতছানি এড়াতে পারেনা কখনোই।প্রতিবছর এই সময়টাতে ও যেখানেই থাকুক পলাশ রাঙা পুরুলিয়ার এই অপরূপ গ্রামগুলোতে চলে আসে।পলাশ এর আগুন রং কে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলতে তুলতে সপ্তক যেন হারিয়ে যায়।তবে এখানে আসার পর থেকেই দেখা পেয়েছে এক জোড়া কালো হরিণ চোখের ভুমিকন্যার।দূর থেকে ক্যামেরা বন্দি করতে পারলেও সেই সুডৌল গঠনকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলতে চায় সে তুলির টানে।
পুরুলিয়া এসে প্রথমে কদিন ময়ূর পাহাড়ের কাছে হিমুর বাড়ীতে ওঠে বটে কিন্তু রাত টুকু ছাড়া সারাদিন নিজের খেয়ালে ঘুরে বেড়ায় নয়তো ছবি আঁকে।ফটোগ্রাফিও খুব ভালোবাসে সপ্তক।কিন্তু গত দুদিন কোনোটাই ঠিকভাবে করতে পারেনি ও।দুদিন আগের একটা ঘটনা ভীষণ অস্থির করে তুলেছিল তাকে।ঘটনার কারণটাও সম্পূর্ণ অজানা।
ময়ূর পাহাড়ের এই দিকটাই তেমন টুরিস্ট আসে না,তাই বেশ নিরিবিলি,সপ্তকের  কাজের উপযুক্ত জায়গা।অন্য দিনের মতোই সেদিন কিছু ছবি ক্যামেরা  করে তুলি ইজেল নিয়ে বসে পড়ে সাদা হ্যান্ডমেড পেপারটাকে রাঙিয়ে তোলার কাজে।যদিও “স্টিল লাইফ”এ তার জুড়ি মেলা ভার কিন্তু তার’ ল্যান্ডস্কেপ’ বড় প্রিয়।ময়ূর পাহাড়ের উপর থেকে যতদূর চোখ যায় শিল্পীর চোখে ধরা দেয়এক অসাধারণ দৃশ্য ।সপ্তক প্রায় দুটো স্টেপ রং চাপিয়েছে,ওয়েল পেন্টিং ,তাই একটু সময় দিয়ে করতে হয়,লাস্ট হাই লাইট গুলোর জন্য প্যালেটে রঙের মিশ্রণ করছিল,হটাৎই মনে মাথাটা ঘুরে গেল,না না,মনে হল যেন গোটা পাহাড়টাই দুলে উঠলো।ভাবলো ভূমিকম্প হলো নাকি।কিন্তু আর কিছুক্ষন সব নিস্তব্ধ।এবার মনে হল কেউ যেন তাকে নীচের  সুদূর কোনো গভীর স্থান থেকে ডেকে চলছে।মন্ত্রমুগ্ধের মতো কখন যে ও খাড়া ঢাল বেয়ে নেমে গেছিলো বুঝতেই  পারেনি।হিমুর ডাকে যখন সাড় হলো ততক্ষণে নিজেকে এমন জায়গায় দেখে মাথা ঘুরে গেছিল সপ্তকের।এমন জায়গায় ও দাঁড়িয়ে ছিল যেখান থেকে একপা সরলেই সোজা মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে যেত ।সেদিন হিমু আরো লোক জোগাড় করে এনে বহু কষ্টে সপ্তককে তুলেছিল উপরে।সারা গায়ে আঁচড়ের দাগ,রক্ত ঝরছে,প্রায় জ্ঞান শুন্য অবস্থায় বাড়ী নিয়ে গিয়েছিল হিমু।হিমু বড় ভালোবাসে এই পাগল মানুষটাকে,প্রতিবছর সপ্তক এসে প্রথমে ওর বাড়িতেই থাকে।একা মানুষ হিমু খুব খুশি মনে এই পাগলাবাবুর সেবা করতে চায়।সেদিন ও না থাকলে সপ্তকের আর বেচেঁ ফেরা হতো না।হিমু অনেক জিজ্ঞাসা করেও সপ্তকের এমন কান্ডকারখানার কারণ জানতে পারেনি।সপ্তক কি উত্তর দেবে সত্যি বুঝতে পারেনি।কিন্তু হিমু পাগলাবাবুর চোখে কেমন একটা ভাব লক্ষ্য করে আর যেতে দেয়নি ওই পাহাড়ে।দুদিন পর বেশ সুস্থ হতে আর ওখানে না থেকে চলে এসেছিল এই পুঞ্চার দিকের এই ছোট্ট গ্রাম ,পাকুরা তে।প্রথমবার এলো ও এই গ্রামে।হিমুর কোন দূর সম্পর্কের ভাই থাকে।সেই হিসাবেই খবর পেয়ে সপ্তক চলে এসেছে এখানে।
                                 ৩
“চোখের আড়াল হও,কাছে কিবা দূরে রও..
মনে রেখো আমিও ছিলাম…”
লো ভলিউমে গান বেজে চলেছে ,ঘর অন্ধকার,জানালাগুলোতে ভারী পর্দা দেয়া,ঘরের মালকিন ইন্দ্রানী বেতের আরাম কেদারাতে চোখ বন্ধ করে বসে অস্ফুটে আউড়ে যাচ্ছে দুর্বোধ্য কিছু মন্ত্র।বয়স আন্দাজ করা দুঃসাধ্য।এক লহমায় দেখলে বয়স কুড়ি বাইশে র বেশী মনে হবে না।কি জাদুবলে নিজের বয়সটাকে আটকে রেখেছে তা কেউ জানে না।আর যাতে কেউ জানতে না পারে তার জন্যই তাকে বার বার বদলাতে হয় বাস স্থান,প্রতিবেশী।বংশানুক্রমে পাওয়া সম্পত্তি অগাধ, তাই অর্থের কোনো অভাব নেই তার।অসাধারণ সুন্দরী, দুধে আলতা গায়ের রং ,টান টান চাবুকের মত গড়ন,অত্যন্ত বাক্তিত্বময়ী এই নারীর তাই পুরুষবন্ধুর অভাব হয়না।মধুর লোভে মৌমাছি এমনিই ভিড় করে।আর তাতেই চরিতার্থ হয় ওই নারীর কাম।
কয়েক মাস হলো ইন্দ্রানী গোলপার্কের বাড়ি ছেড়ে গড়িয়ার এই ফ্ল্যাট টাতে এসেছে।কাজের অসুবিধা হচ্ছিল ওখানে খুব।পরিচতের সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে গেছিল।পাছে প্রকাশ হয়ে যায় তার সেই কদর্য রূপ সেই ভয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিফট করে এসেছিল এই ফ্ল্যাট টাতে।এছাড়াও তার নতুন শিকারের জন্য জাল বুনতে শুরু করেছে,তাকে তো গোলপার্কের বাড়ীতে নিয়ে আসা যেতনা কোনো মতেই।সদ্য বিধবা হওয়া একটা মহিলার জন্য সেটা খুবই অসম্মানসূচক হতো,কিন্তু বেশি দেরী হয়ে গেলে শিকার ফুরুত হয়ে যেতে পারে।সে মানুষটা অন্য ধাতুতে গড়া যে,রূপের মোহ তার নেই ইন্দ্রানী বুঝে নিয়েছে,তাই তাকে খাঁচাবন্দি করা বেশ কঠিন কিন্তু ধরা তাকে দিতেই হবে এই মোহময়ীর কাছে।আর কয়েকটা পদক্ষেপের অপেক্ষা তারপরই সে তার সাধনায় পাবে চরম সাফল্য।
 অনেক খোঁজ খবর করে ,ব্যাক গ্রাউন্ড দেখে,সমস্ত প্রোফাইল ঘেঁটে তবেই এমন একজনকে খুঁজে বার করতে হয়।জন্মতারিখ থেকে শুরু করে রাশি,গণ,গোত্র,গাত্রবর্ণ সব কিছু মিলতে হবে তবেই ইন্দ্রানী সম্পন্ন করতে পারে তার সাধনার প্রতিটা স্তর।
কিন্তু এইবারের শিকারটার সব কিছু মিলে গেলেও বাঁধা আসছে বার বার।ইন্দ্রানী বহুবার ছক কষে দেখেছে,সিংহ রাশি,সিংহ লগ্ন জাতকের এইসময় একাদশ ভাবে রাহু ও মঙ্গলের অবস্থানে তৈরী হবে অঙ্গারক যোগ,কিন্তু এই ক্ষেত্রে রাহু অবস্থানে আসলেও মঙ্গল বাধা পাচ্ছে। কিন্তু কেন? কেন? তাকে জানতেই হবে।
   

                                  ৪
সবুর তাড়া খেয়ে খিলখিলিয়ে হাসতে হাসতে ফুলি প্রানপনে ছুটছিল কাঁসাইয়ের পাড় ধরে।সদ্য যৌবনে পা দেয়া ফুলির যেন গা থেকে ঘামের মতো ঝরে পড়ছে যৌবনের উচ্ছাস।শাড়ির ভাঁজের মধ্যে উন্নত বক্ষযুগল যেন বিদ্রোহ ঘোষণা করছে, কাপড়ের বেষ্টনী ছাপিয়ে উপচে পড়ছে সেই যৌবনের রূপ।ছুটন্ত ফুলিকে দেখে সপ্তক সব ভুলে ক্যামেরাটা ধরে মুগ্ধ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে সেই দিকে।ফুলি ওদিকে পিছনে দেখতে দেখতে কখন যে সপ্তকের উপর এসে পড়েছে বুঝতেই পারেনি।তাড়াতাড়ি উঠতে গিয়ে পাশে পড়ে থাকা অসম্পূর্ন ছবিটাতে জল পড়ে যায় ট্রে থেকে।কিন্তু সপ্তকের কোনো হেলদোল নেই,মোমের পুতুলের মতো চেয়ে থাকে ওই কালো হরিণীর দিকে।
-“ই বাবু কী দেখছিস বটে? পাগলায়ে গেলি নাকি?”বলে কোমরে দুহাত দিয়ে জিজ্ঞাসু মুখ নিয়ে চেয়ে থাকে সপ্তকের দিকে।সেই দুখানি মায়াবী গভীর চোখ ,তার দিকেই চেয়ে আছে..ঠোঁট দুখানি নড়ছে কিন্তু সপ্তকের কানে কিছুই যাচ্ছে না।একটা মিষ্টি আবেশে ডুবে যাচ্ছে যেন ও।”আরে ই বাবু! কি হলো বটে তোর? শরীর যুতের লায়েক নাই বটে,ও বাবু,শুন কেনে মোর কথা,ওই শুনছিস?”বলে এবার একটু ঝুঁকে সপ্তকের হাত টা একটু স্পর্শ করেই আবার সরে এলো।সপ্তকের সম্বিত ফিরতেই লজ্জায় মাথা নামিয়ে নিলো।
-“কিছু হয়নি তো,আমি ঠিক আছি”
-ও তাই বটে,ওমন কইরে ক্ষ্যাপার মতো বসেছিলিস,তাই ভাবতেছিলুম সরিল টো খারাপ হুইনছে।আচ্ছা মো আসি,বলে ফুলি মুখ ফিরিয়ে আবার চলতে শুরু করতেই সপ্তক আমতা আমতা করে ডেকে ফেলল
-এই মেয়ে শোনো এদিকে,কি নাম তোমার?
-মোর নাম ফুলি বটে,কেনে?নাম শুধাস কেনে?আমি তো তোর কোনো ক্ষতি করি লাই বাবু,তু বাপটোর কাছে নালিশ করবিক লাই।একটু ভয় পেয়ে বলে ফুলি।
সপ্তক মনে মনেহেসেই ফেলে।এমন ইনোসেন্ট কি এখনও কোনো মেয়ে এই বয়সে হয় নাকি।মুখের গম্ভীর ভাব বজায় রেখে বলে”আচ্ছা বেশ,করবোনা নালিশ,কিন্তু তুমি যে এসে আমার ছবিটা নষ্ট করলে,তার কি হবে?
এবার ফুলি,সত্যি ভয় পেয়েছে,শাড়ির আঁচলের খোঁট টা ভালোভাবে কোমরে জড়িয়ে নিয়ে বলে”তু শাস্তি টো দিবি বটে,উ টো চলবেক কিন্তু মা রে কিছু বলিস লাই,লয়তো
বাড়ী থেইক্কে তাড়াইন দিবেক,”
-হুম,শাস্তি তো পেতেই হবে।
-জলদি টো বল কেনে, সময় লাই মোর।
-যদি বলি তোমার একটা ছবি আঁকব,হবে সেটুকু সময়,
বলে চেয়ে থাকে ফুলির দিকে।
সদ্য যুবতীর হৃদয় তখন আন্দোলন শুরু হয়েছে।মেয়েরা পুরুষের কথার ধরণ বোঝে ,এ শাস্তির আড়ালে থাকা সপ্তকের কিছু অনুচ্চারিত কথাগুলো বুঝে নিয়েছে সে।লজ্জায় রেঙে উঠছে ফুলি,সে রং পলাশকেও হার মানায়।আগেও সে লক্ষ্য করেছে এই শহুরে বাবুটা কেমন করে যেন তাকিয়ে থাকে ওর দিকে,তাই আজ কথা বলতে খুব বেশী সংকোচ হয়নি তার,কিন্তু সপ্তকের শেষ কথাগুলো শোনার পর বুঝি মরেই যাবে ও।চোখে মুখে ফুটে ওঠেএক অনন্য অনুভূতি, সপ্তকের মনে ঝড় তোলার জন্য সেটা যথেষ্ট।চোখ তুলে সপ্তকের দিকে না তাকিয়েই শুধু ঘাড় টা নেড়ে সম্মতি জানায় ফুলি।তারপর পিছন ফিরে ছুট লাগায় বাড়ির দিকে।সপ্তক চিৎকার করে”আমি দুপুরে অপেক্ষা করবো ফুলি ই ই ই,সরকারী গেস্ট হাউসে,এসো কিন্তু উ উ উ”।
যতদূর দেখা যায় ফুলিকে ততক্ষন  পর্যন্ত দেখে চোখের আড়াল হতেই আবার বসে পড়ে সপ্তক।একটা অন্যরকম আবেশে যেন আচ্ছন্ন হয়ে আছে ও।
      গাছে হেলান দিয়ে ক্যামেরাতে গত কদিনে তোলা ফুলির ছবি গুলোই দেখছিল,কিন্তু হঠাৎ আবার মনে হলো,যেন বার বার আন্দোলিত হচ্ছে তার শরীর।ক্রমাগত মাটির নিচের অতল গভীরে ঢুকে যাচ্ছে যেন।কে তার নাম ধরে ডাকছে।টেনে নিয়ে যেতে চাইছে পাতালপুরীর কোন গহ্বরে,ও শুধু নেমেই যাচ্ছে,নিজেকে আটকানোর কোনো ক্ষমতা নেই ওর,কিন্তু  আবার যেন কোনো এক অদৃশ্য শক্তি  তাকে আলোর দিকে তুলে আনছে,ফিরে আসছে কি আবার..উফঃ,কি হচ্ছে কিছু বুঝতে পারছেনা সপ্তক।তার কি সাইক্রিয়াটিক কোনো সমস্যা হচ্ছে,এবার কলকাতা ফিরে ডাক্তার দেখাতেই হবে।চেতনা হারাতে হারাতে শুধু ফুলির জলসিক্ত মুখটা দেখতে পেল কিন্তু কি বলছে তা শুনতে পেল না।
      ফুলি সপ্তকের চোখের আড়ালে চলে গিয়ে একটা কুল গাছের নীচে হাঁফাতে হাঁফাতে বসে পড়েছিল।শহুরে বাবুর শেষ কথাগুলো তখনও তার কানে অনুরণিত হয়ে চলেছে।কানের ভিতর দিয়ে তা ধীরে ধীরে মরমে প্রবেশ করে হৃদয়ের আন্দোলনকে এতটাই বাড়িয়ে দিয়েছে যে ধুকপুক শব্দটা যেন ফুলি নিজে ছাড়াও এই আকাশ বাতাস গাছপালা সবাই শুনতে পাচ্ছে।সাধিকা মা বলে একটা পাগল উরণচন্ডীই নাকি তার মরদ হবে,তবে সেইজন  কি এই বাব?,এও যে পাগলা বাবু,ওই চোখের দিকে একবার তাকিয়ে কি সর্বনাশ টা করলো ফুলি।ওই  গভীর চোখে যেন ডুবে যেতে ইচ্ছে করে ফুলির।”ইশশ “বলেই নিজেরই ঠোঁটটাকে কামড়ে ধরে ফুলি।হৃদয়স্পন্দন খানিক স্তিমিত হয়ে এসেছে।কিন্তু একি,এবার যেন অন্য একটা ডাক ভেসে আসছে তার কানে।”এখনই যা,অতল গহবর থেকে তুলে আন তাকে,সময় নেই,যা বলছি”…গলার আওয়াজ টা খুব চেনা যেন ফুলির,কিন্তু কোন দিকে যাবে,কার বিপদ হয়েছে,কি করবে বুঝতে পারেনা ও।কি মনে হতে হটাৎ ই ছুটে আসে তার শহুরে বাবু যেখানে বসেছিল সেই দিকে।এসে দেখে সপ্তক ধীরে ধীরে ডুবছে কাঁসাইয়ের গর্ভে।আর কিছু না ভেবেই জলে ঝাঁপিয়ে প’ড়ে ফুলি তারপর সপ্তককে ধীরে ধীরে পাড়ে তুলে আনে কিন্তু ততক্ষণে সপ্তক জ্ঞান হারিয়েছে।ও একা পারবেনা গেস্ট হাউস পর্যন্ত সপ্তককে আনতে তাই ওকে ওখানে রেখে ডেকে নিয়ে যায় গেস্ট হাউসের কেয়ার টেকার বাসুকে,তারপর দুজন মিলে ধরাধরি করে বিছানাতে এনে শুইয়ে দেয়।খানিক সেবা শুশ্রষা করার পর জ্ঞান ফেরে সপ্তকের।ফুলি তখনও ভিজে কাপড়ে তেল ঢলছিল সপ্তকের পায়ে,জ্ঞান ফিরতেই লজ্জায় সরে আসে দূরে ।মাথা নীচু করেই বেশ বকার সুরেই বলে ফুলি”এখন ঠিক কেমন টো আছিস বটে,আচ্ছা,তু সান্তার টো জানিস লাই কো তো লদিতে নেমেছিলিস কেনে?মো যদি আসি না যাইতাম তো কি হইত”!সপ্তকের কাছে আবারও কোনো উত্তর নেই,বোকার মতো চেয়ে থাকলো ফুলির দিকে।ফুলি এবার হেসেই ফেললো বাবুর ওমন ফিকে পড়া মুখ টা দেখে।হাসির দমকে দুলে উঠলো জলে ভেজা শাড়িতে ঢাকা দেহ সৌষ্ঠব।সপ্তকের মনে যেন ফুলির বিভঙ্গগুলো আগুন লাগাচ্ছে।কেমন নেশা লাগছে ওই মেয়ের জন্য ।চোখ টা সরিয়ে নিল সপ্তক।কি সব ভাবছে ও।এমন চোখে তো অন্য কোনো মেয়েকে দেখেনি কখনও, কত নারীর ছবি এঁকেছে,বহু ন্যুড মডেলদের শরীরকে ফুটিয়ে তুলেছে ক্যানভাসে,কিন্তু এমন ভাবে মন,মস্তিষ্ক শরীর একজোট হয়ে কামনা করে কাউকে।কি আছে ওই মেয়ের চোখে,যে সপ্তক সব কিছু ভুলে শুধু একবার ছুঁতে চায় ওকে।ফুলি তখনও ওই ভাবেই সপ্তকের দিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।এতক্ষন পর সপ্তকের খেয়াল হলো,মেয়েটা এতক্ষন ভিজে অবস্থায় রয়েছে,শরীর খারাপ হয়ে যাবে যে।চিন্তার জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসলো তাড়াতাড়ি।”এত ক্ষণ ভিজে কাপড়ে থেকো না,বাড়ী যাও, আমি এখন একদম ঠিক আছি, আর বাসু তো রইলো”সপ্তকের এই রূঢ় ভাবে বলা কথাকটা শুনে আর শব্দ উচ্চারণ না করেই বেরিয়ে যাচ্ছিল ফুলি,একটা পা দরজার বাইরে রাখতেই সপ্তক আবার বলে ওঠে”ধন্যবাদ দেব না তোমাকে,কিন্তু বিকালে একবার আসবে তো আমাকে দেখতে?”ফুলির ঠোঁটে ফুটে ওঠে সেই শিশু সুলভ হাসি,বেরিয়ে যেতে যেতে বলে “হুমমম,”…..
                                 ৫
সবু দুপুর গড়িয়ে যায় দেখে নিজের মনে গজ গজ করতে করতে নদীর ঘাটের দিকে যাচ্ছিল স্নানের জন্য।দেউড়ি পেরিয়ে ভিজে কাপড়ে তখন ফুলিকে দেখে অবাক হয়ে যায়।হলো কি তোর? এমন কইরে ভিজে চুপসে আইসিস কেনে বটে?চান টো করি আইলি তো দু কলসি জল লাইতে পারলিনি?এহন যা,কাপড় ছাইড়া ভাই টারে খাইয়্যা দে দিকিন।ফুলি কোনো কথার উত্তর না দিয়ে সোজা ঘরে ঢুকে হুড়কো তুলে দেয়।ভিজে কাপড়টা গায়ের সঙ্গে লেপ্টে বসে ছিল,আস্তে আস্তে সেটা ছেড়ে জড়িয়ে নেই লাল পেড়ে হলুদ শাড়িটা,বড্ড প্রিয় এই শাড়িটা তার,ভিজে চুল মুছে আয়নায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে লাগে নিজেকে।ওমন কালো রূপের সাথে সত্যিই কি ওই গৌরাঙ্গ  পুরুষকে মানায়? কিন্তু ওই পুরুষের চোখে যে ফুলি অনেক কিছু দেখেছে, তাকে প্রেম বলো,ভালোবাসা বলো,কামনা বলো,যে নামেই ডাকো তাকে,তা কিন্তু ফুলিকে ক্রমাগত বশ করে ফেলছে।ওই পুরুষের জন্য যে টান সে অনুভব করছে তাকে ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা নেই তার।শাড়িটা বুকের উপর ফেলে খাটিয়ায় গা টা এলিয়ে দেয় ও।মনে মনে একজনের কথাই ভেবে চলে।সবু যে ওকে কি বলে গেছিলো মনেই ছিল না।”দিদি,মা তোকে বলি গেল ভাত টো বেড়ে দে কেনে মোকে, পেট টো জ্বলি গেল রে”ভাইয়ের ডাকে  তাড়াতাড়ি উঠে পড়ে ফুলি,কোনো মতে কাপড় টা  পরে বেরিয়ে এসে ,রান্না ঘর থেকে ভাত বেড়ে খাওয়াতে বসে ভাইকে।সবুও ফিরে এসে কাপড় ছেড়ে দুজনের ভাত বেড়ে এনে বসে ওদের সাথেই।খাওয়া শেষ করে কোনো কথা না বলে এঁটো বাসন গুলো নিয়ে উঠে চলে যায় সবু।
“এ সবু শুন কেনে.”.বলে এগিয়ে আসে বুলু,বলি খপর কিচু রাখিস লাই রে …তোর ওই ডিঙ্গি বেটি টো বাবু জুটায়চে,কদিন ও এক শহুরে বাবু আইসচে,উহার সাথে লটর পটর ,আজ তো এক্কেরে লোদীর মাঝে জড়াজড়ি,বলি সরম টো লাই গো ,মা হারামজাদী ওই কইরে মলো, আবার বিটি টাও, ওরে সবু ,অক্ত কথা কয় ,ও মাগীও পেট কইরে  মরবে দেইখ্যা লিস।”বলে নাক মুখ বাঁকিয়ে ঘাটের দিকে এগিয়ে যায়।শহুরে বাবু টাকে সবুও দেখেছে,চাঁদপনা মুখ তার,বড় ঘরের ছেলে বটে,আপন মনে আঁকিবুকি কাটে কিন্তু তার ফুলিকে গ্রহণ করবে কেন ওমন বড় ঘরের ছেলে,কোনো মিল ই যে নেই,শেষে মায়ের মতো যদি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসে কি করবে তখন ও ফুলিকে নিয়ে,সবু এঁটো হাতে ওখানেই দাঁড়িয়ে রইলো।আপাদমস্তক জ্বলে উঠছে ওর।রাগে ,দুঃখে,অপমানে মাথা ঘুরছে ওর।যে মেয়েকে এত কষ্ট করে মানুষ করলো সেই কিনা আবার তার মায়ের রাস্তাতেই হাঁটছে,সবুর মাথাটা নুয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছে,নীলু মারা যাবার পর গাঁয়ের সবাই বলেছিল ও পাপের মেয়ে ছেনা টাকে অনাথ আশ্রমে দিয়ে আসতে, কিন্তু সবু ওই একরত্তি প্রাণ টাকে কোলে নিয়ে ফেলে আসতে পারেনি আশ্রমে।জড়িয়ে ধরে ছিল বুকের ওমে।আজ নিজের কাজের জন্য নিজের উপরই ঘেন্না হচ্ছে,কোনো মতে বাসন কটা ধুয়ে বাড়ীর দিকে চলল।রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে ওর।কিন্তু বাড়িতে গিয়ে দেখে ছেলে সন্তে একাই বসে বসে খেলছে,ফুলির টিকিটিও নেই।সন্তে বলল দিদি নাকি গেস্ট হাউসে গেছে,আস্তে অনেক দেরি হবে বলে গেছে।সবু এবার বেশ ভয় পেয়ে গেল,যদি বুলুর কথা সত্যি হয়!কি হবে!ও যে বড্ড ভালোবাসে বেটি টাকে, কি করে বাঁচাবে তাকে,মাথাটা পাগলের মতো ঝাঁকিয়ে ওঠে।মনে পড়ে সাধিকা মায়ের কথা।হ্যাঁ ,হ্যাঁ,একমাত্র তিনিই পারবেন ফুলিকে বাঁচাতে।
  গ্রামের শেষের পশ্চিম সীমানায় একটা বাঁওড়ের পাশে তারা মায়ের মন্দির,তার পাশেই সাধিকা  মায়ের চালা ঘর।গ্রামের লোক বিপদে আপদে ছুটে যায় মায়ের কাছে।মা ও ফিরিয়ে দেয় না কাউকে।তবে অসুখ বিসুখ হলে ডাক্তারের কাছে পাঠায় আগে ।তিনি বলেন”ওরে,মা তো মানুষের বিপদে সাহায্য করার জন্যই কিছু বিশেষ মানুষ তৈরি করেন রে,মায়ের সন্তান ওরা,ওরা যদি না পারে তখন আসিস মায়ের কাছে। “
“মা গো বাঁচাও মোর বিটি টাকে ,উহার মতীচ্ছন্ন হইছে মা গো,উ টো আবার উহার মায়ের মতো পেরেমে মজেছে,ও যে মরবে গো, বাচাঁও মা,”বলে কাঁদতে কাঁদতে সাধিকার পায়ের কাছে শুয়ে পড়ে।মৃদু হেসে সাধিকা তুলে বসায় সবুকে।”চিন্তা করিসনা রে ,তোর ফুলির কিচ্ছু হবে না।সবই ভবিতব্য যে,ও যে রক্ষাকবচ রে।মা তো  ওকে ওর কাজ দিয়েই পাঠিয়েছে পৃথিবীতে।এক নরপিশাচ এর শাস্তি দেবেন মা ওর হাত দিয়েই,সামনে অনেক কঠোর পরীক্ষা তোর বিটির, ভয় পাস নে।সবই তারা মায়ের ইচ্ছে।” সাধিকার কোনো কথাই ভালো করে বুঝতে পারে না সবু,কান্না ভুলে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে সাধিকার সদাউজ্জ্বল  মুখের দিকে।
    ওদিকে  ফুলি শুধু সবুর ঘাটে যাওয়ার অপক্ষা করছিল,সবু যখনই বাসন ধুতে বেরিয়ে গেলো,ফুলিও গায়ের কাপড়টাকে ভালো করে পেঁচিয়ে ছুটল গেস্ট হাউসের দিকে।মনের উচাটন যে বড় বিষম,এক মুহূর্ত তিষ্ঠতে দেয়না কোথাও।ফুলি যাওয়ার  পথে আঁচলে কিছু পলাশ কুড়িয়ে নেয়, পাগলাবাবু টাকে দেবে বলে।সূর্য্যদেব তখন ঢলে পড়েছে পশ্চিমে,পাকুরার আকাশও যেন পলাশের রং মেখে জৌলুস ছড়াচ্ছে।সপ্তকের ঘরে ঢুকে দেখে চেয়ারে বসে সে আনমনে চেয়ে আছে জানালার দিকে।চুপি চুপি  ফুলকটা নিয়ে ঢেলে দেয় সপ্তকের পায়ে।চমকে উঠে সপ্তক দেখে পায়ের কাছে বসে আছে ফুলি,মুখ তুলে চেয়ে আছে তার দিকেই,গভীর  সাগরের মত চোখগুলো যেন ইন্দ্রজাল রচনা করছে,ঠোঁটগুলো সিক্ত হবার বাসনায় অপক্ষারত,কন্ঠনালী নেমে এসে মিশেছে যৌবনের উত্তাল তরঙ্গে।শাড়ির ভাঁজেও সুস্পষ্ট বক্ষ,উন্মুক্ত বাহু, মল পরা দুখানি পা,স…ব ,সব কিছু যেন সপ্তককে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এক অজানা জগতে।সপ্তক সামান্য নিচু হয়ে ফুলির চিবুকটা তুলে ধরলো তার মুখের সামনে।তারপর তার চির পিপাসিত ওষ্ঠদ্বয় কে মিলিয়ে দিলো ফুলির নরম ঠোঁটের সাথে…
         
           
#অবৈধ(শেষ তথা অন্তিম পর্ব)
 #পিয়ালী
(কঠোর ভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য)
                                      ৬

                     ‘তনোতি ত্রায়তি তন্ত্র’
আক্ষরিক অর্থ এত সহজ মনে হলেও কি ভীষণ যে তার কার্যকারিতা তা সবাই উপলব্ধি করতে পারে না।আজ ইন্দ্রানী যে এই অপার তারুণ্যের, ঐশ্বর্যের অধিকারিণী তার জন্য দিতে হয়েছে অনেক কিছু।সাংসারিক মায়া মমতা আর কিছু মাত্র অবশিষ্ঠ নেই তার অন্তরে।পিশাচ সাধনায় ওসবের কোনো স্থান নেই।শুধুমাত্র নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ভীষণ কঠিন কিছু নিয়ম পালন করে সন্তুষ্ঠ করে রাখতে হয় সেই পিশাচ কে।নয়তো ফল হয় বুমেরাং এর মত।সাধনায় বসে পিশাচ কে সন্তুষ্ট করে তারপর শুরু করতে হয় তার মূল তন্ত্র সাধনা।কিন্তু যতক্ষন না শিকারকে হাতের মুঠোয় আনতে পারছে ততক্ষন তো কিছুই শুরু করা সম্ভব নয়।আর মাত্র কয়েকটা ধাপ,তারপর সে লাভ করবে সেই চরম কাঙ্খিত বস্তু।

         গত দু মাস ধরে খুঁজে তবে সে সপ্তক কে সিলেক্ট করেছিল।গগণেন্দ্র আর্ট গ্যালারিতে হটাৎ ই একটা অন্য রকমের ছবি  চোখে পড়ে ইন্দ্রানীর।ছবির  ডান কোনে চোখে পড়ে শিল্পীর নাম ও।ভাগ্যদেবী সেদিন তার সহায় ছিলেন বোধ হয়,একটু খুঁজতেই পেয়ে যায় সপ্তককে।কিছু বাক্যালাপের মাধ্যমেই ইন্দ্রানী বুঝে যায় যে এই মানুষটি আর পাঁচটা ছেলের মতো নয়,রূপের মোহ নেই তার।অন্যভাবে জালে জড়াতে হবে তাকে।বাড়ী ফিরে এসে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে খোঁজ করে দেখে সপ্তকের জন্মতারিখ ,বাসস্থান,।জন্মতারিখ থেকেই যখন সপ্তকের রাশি,গণ সব নির্ণয় করে ইন্দ্রানী ,তার মুখে ফুটে উঠেছিল এক কুটিল হাসির রেখা।এরপর শুধু তার বাড়ীর সদস্য সম্পর্কে জানলেই কাজ হাসিল।সেই মত এগোতে থাকে ইন্দ্রানী।আগের দিন আলাপচারিতার মাধ্যমেই ফোন নম্বর নিয়েছিল ও।তাই প্রথমে একটা ফোন কল করে সপ্তককে ,তারপর সোজা পৌঁছে যায় তার উত্তর কলকাতার বাড়িতে।সপ্তকের চিত্রানুরাগী বহু,তাই এমন বহুজনই  আসে তার কাছে,সন্দেহের কোনো কারণ ছিল না সপ্তকের কাছে।আর বাড়িতে সদস্য বলতে কিরণময়,তার কুক কাম হেলপার সব কিছু।বাবা মা বিদেশে থাকেন, তারা কিছুতেই এই গোঁয়ার জেদি ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেননি।ইন্দ্রানীর তো এরকমই একজন প্রয়োজন।অত্যন্ত বাক্যপটিয়সী ইন্দ্রানী কথার ছলে সপ্তকের থেকে জেনে নিয়েছিল বাকি সব প্রয়োজনীয় তথ্য।তারপর ধীরে ধীরে জাল ছড়িয়েছিল সপ্তকের  চারিপাশে।ক্রমশ সপ্তকও বশীভূত হচ্ছিল।কিন্তু হঠাৎ করেই ছেলেটা যে এভাবে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিরুদ্দেশ হবে সেটা বুঝতেই পারেনি ইন্দ্রানী।শিল্পী মানুষ এমন  খামখেয়ালি হয়,কিন্তু সময়ের মধ্যে যদি না ফেরে সে তবে তো ইন্দ্রানীর সব পরিশ্রম  যে বৃথা হয়ে যাবে।প্রহর গোনে ইন্দ্রানী।ফিরে তাকে আসতেই হবে।তার অভীষ্ঠ লক্ষ্য পূরণের জন্য সব কিছু করতে পারে ও।সেই পুরুষ যে খানে,যেভাবেই থাকুক না কেন তার পিশাচ সাধনার দ্বারা টেনে আনবে নিজের কাছে।
 পিশাচকে বশে আনতে চারপ্রহর  নৈবেদ্য প্রদান করতে হয়।তাই ইন্দ্রানী কঠোরভাবে সব নিয়ম মাফিক শুরু করে সাধনা।খুব ভোরে উঠে স্নান সেরে লাল বস্ত্রে সজ্জিত হয়ে, একটা পাত্রে মদ,মাংস,অন্য পাত্রে ফুল,মিষ্টি,পান নিয়ে ধুপ জ্বালিয়ে উচ্চারণ করতে থাকে
    “ওম নমঃ পিশাচেশ্বর  পিশাচ সঙ্গন দেহিমায়
     মম পুজা ত্বয়ং গ্রহনা দেহী নমঃ নমহ”
সারা ঘর গমগমিয়ে ওঠে সেই মন্ত্র উচ্চারণে।কিন্তু একি বার বার তার কাছে পৌঁছেও ছুঁতে পারছেনা তাকে ..কোনো এক অদৃশ্য শক্তি যেন বাঁধা দিচ্ছে ।এই নিয়ে দুবার পিশাচ ফিরে এসেছে অকৃতকার্য হয়ে,কিন্তু শেষ বার তাকে সফল হতেই হবে,নয়তো একদিকে তার মূল সাধনা সম্পন্ন করা অসম্ভব হবে আর অন্য দিকে যদি এবার পিশাচ অসন্তুষ্ট হয় তবে শেষ করে দেবে তাকে।এত আয়োজন,এত দিনের পরিশ্রম সব শেষ করতে দিতে পারবেনা ইন্দ্রানী,সব বাঁধা কাটিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনতেই হবে,সময় নেই আর হাতে তার।আর দুদিন পরই অমাবস্যা,সেদিনই সেই অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী পুরুষের সাথে লিপ্ত হতে হবে সঙ্গমে,জাগাতে হবে তার নিজের কুন্ডলীনিকে,তারপর….. তারপর…. তারপরই শুরু হবে সেই বহুকাঙ্খিত’যোগিনীজাল ‘ সাধনা….

                                  ৭

সদ্য যৌবনে পা রাখা ফুলি যখন জীবনের প্রথম পুরুষের স্পর্শ পেল  শিহরিত হ’লো তার সারা দেহ মন।সপ্তক আরোও একটু ঘন হয়ে এলো ফুলির।তার জীবনেও যে প্রেম নিয়ে আসা প্রথম নারী ফুলি যাকে আজ সে স্পর্শ করতে পেরেছে।আদরে ,চুম্বনে ভরিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে সেই নারীকে।ফুলির ঠোঁট ছেড়ে আরও নেমে আসে সপ্তক,কাপড়ের বেষ্টনীতে থাকা উন্নত সুডোল বক্ষের উষ্ণতা শুষে নিতে চাইছে সপ্তক তার দেহে।ফুলির নাভিমুলে চুম্বনরেখা এঁকে দেয় ও।তিরতির করে কেঁপে ওঠে ফুলি,এক অজানা ভালোলাগার নেশায় ক্রমশঃ ডুবতে থাকে।সন্ধ্যের শঙ্খ ধ্বনিতে সম্বিত ফেরে দুজনের।ফুলি লজ্জায় জানালার কাছে গিয়ে পিছন ফিরে দাঁড়ায় ।হেসে ফেলে সপ্তক।ফুলির আনা ফুলগুলো কুড়িয়ে নিয়ে তার পিছনে গিয়ে দাঁড়ায়।একটা একটা পলাশ গুঁজে দিতে থাকে ফুলির খোঁপায়।সূর্যদেব আকাশ রাঙিয়ে সবেমাত্র অস্ত গেছেন,কিন্তু তখনও আকাশে ছড়ানো রয়েছে রক্তিম আভা।সেই অভাতেই ফুলির মুখটা অপূর্ব লাগছে,একেই বুঝি বলে ‘কনে দেখা আলো’…!ধীরে ধীরে ফুলির কানের কাছে এগিয়ে নিয়ে যায় নিজের মুখখানি,তারপর ফিসফিস করে বলে”এই পাগল টাকে নিজের করে নিতে পারবে?বিয়ে করবে আমাকে?”
যা শুনলো তা কি সত্যি? ফুলি যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছে না….এই পুরুষকে সে দেখামাত্রই মন প্রাণ সঁপেছিল,কিন্তু ওপর প্রান্তের মানুষটাও যে তাকে ভালোবাসে সেটা  জেনে এখন পাগলপারা অবস্থা তার..এই পুরুষকে ফিরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা নেই তার।সমাজ,সংসার সব কিছু ছাড়তে পারবে তার জন্য।মনে মনে বলে”তোকে যে মন টো দিয়ে সর্বনাশ হুইন গেছে আগেই,”দুহাতে মুখটা চেপে ধরে নিজের ।সপ্তক ধীরে ধীরে ফুলিকে নিজের দিকে ফিরিয়ে বাহু বন্ধনে আবদ্ধ করে আবার বলে”বলো একবার,উত্তর শুনে তবেই ছাড়বো তোমাকে আজ”।ফুলি লজ্জায় যেন এবার মাটিতে মিশে যাবে।জোর করে বন্ধনমুক্ত হয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যায়।”উত্তর টা দিয়ে যাও ফুলি”বলে চিৎকার করে ওঠে সপ্তক,ফুলি ততক্ষনে সদর দরজা পেরিয়ে গেছে,যেতে যেতেই বলে”কাল আসবো,  আর তোর উত্তর টো সাথে লিয়ে আসবো”

  ফুলি চলে যেতে খাটে বসে পড়ে সপ্তক।একটা মিষ্টি ভালোলাগা লেগে আছে তার চোখে, ঠোঁটে, দেহে ,মনে।খুব ইচ্ছে হচ্ছে ফুলির সেই রক্তিম আভায় আভরিত মুখ খানি তার ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলার।মাথার খোঁপায় তেমন করে গোঁজা পলাশ,ওমন হরিণীর মত দুটি চোখ,পত্রপল্লবের মতো ওষ্ঠদ্বয় আর সারা মুখে লেগে থাকা লজ্জার আবরণ।খুব ভুল হয়ে গেল সপ্তকের,কেন সেই ক্ষণ টাকে তখনই ধরে রাখতে পারলোনা ও।যদিও সেই সময় টা বয়ে গেছে কিন্তু সেই দৃশ্য পট উজ্জ্বল ভাবে অবস্থান করছে সপ্তকের হৃদয়ে।নাঃ,আর দেরি নয়,হৃদয়পটের সেই চিত্রকে রূপ দেবে এখনই,বলে তাড়াতাড়ি  রং তুলি নিয়ে বসে পড়ে।
“আসবো বাবু”বলে দরজা থেকেই হাঁক দেয় বাসু,
-হ্যাঁ ,এসো এসো..
-এই নিন চা,আর সিঙ্গারা,আর বলতেছিলাম রাতে কি খাবেন?
-দুটো রুটি,তার সাথে যা ইচ্ছে একটু বানিয়ে দিও,কেমন।
-আচ্ছা,
শুনে সপ্তক আবার নিজের কাজে মন দেয়,কিন্তু বাসু তখনও যায়না,কিছু যেন বলি বলি করেও বলতে পারছে না,তা দেখে সপ্তক আবার জিজ্ঞাসা করে,
-কিছু বলবে বাসু?
-হ্যাঁ বাবু,বলতেছিলাম,ছোট মুখি বড় কথাটো হুইন যায়,তাও বলি,ওই ফুলিরে আপনে ছাইড়া দেন বাবু,উহার,মা টো লাই,বাপের পরিচয় টো লাই,মোদের গাঁয়ের সবু,উহারে কোলে পিঠে মানুষ করছে বহু কষ্টে, আইজ যদি উ বিটির গায়ে কলঙ টো লাগে তহন তো আর আপনে থাইকবেন না,উহার মায়ের মতো মরা টো ছাড়া কোনো পথ থাকবেনি।
-কে বলেছে যে আমি ফুলিকে ছেড়ে যাবো,আমি ওর গায়ে কোনো কলঙ্ক লাগতেই দেব না, বাসু ,আমি বিয়ে করতে চাই ফুলিকে।
-পাড়া গাঁ বাবু,সক্কলের মুখে আজ ফুলি আর আপনারে লয়ে কতা উটতেছে,,তা বলি বাবু,আপনে যদি সত্যিই বিয়া টো করতে চান তবে সবুর সনে কথা টো বলে নেন কেনে, থালিই সক্কলের মুখে সাই পড়ে।
-বেশ,তাই হবে,কালই যাবো ফুলির বাড়ী, তুমি আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেও।
-আচ্ছা বাবু,ঠাকুর আপনার মঙ্গল করুক,
ব’লে প্রসন্ন বদনে বাসু বেরিয়ে যায় ঘর থেকে।
 বাসু চলে যেতে আবার শুরু করে ছবিটা।
বেশ কিছুক্ষণ পর  ছবিটার দিকে চেয়ে অবাক হয়ে যায় সপ্তক, এ কার ছবি! এ তো তার ফুলি নয়…এই বীভৎস ভয়ানক মুখ কার?চমকে ছিটকে সরে আসে সপ্তক…ছবি থেকে থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে সেই ভয়নক মুখটা…কার মুখ …কারো সাথে একটু মিল পাচ্ছে সপ্তক…সেই চোখ,নাক,কিন্তু এমন ক্রুর দৃষ্টি…অসম্ভব…বলে চিৎকার করে ওঠে সপ্তক..
     
                                ৮
 সাধিকার বলা কথাগুলো ঠিকভাবে বোধগম্য হলোনা সবুর।সাধিকা বুঝতে পারলেন ,এখন উপযুক্ত সময় নয় সবুকে সবটা খোলসা করে বলার,তাই তাকে শুধু এটুকু বললেন”যা হচ্ছে সবই মায়ের ইচ্ছে,মঙ্গলের জন্যই হচ্ছে,তুই শুধু তোর মেয়ের হাত টা মাঝপথে ছেড়ে যাস না,বিশ্বাস রাখ তোর ফুলির উপর,আর তারা মায়ের উপর,আর আমার কাছে ফুলিকে একবার পাঠিয়ে দিস, খুব দরকার,যা এবার বাড়ী যা”।সবু চোখ মুছে সাধিকা মা কে প্রণাম করে,তারা মায়ের সামনে খানিক ক্ষণ দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে ফিরে চলল বাড়ীর দিকে।

 সাধিকা মাতৃ আরাধনায় বসলেন,মন তার অস্থির হয়ে রয়েছে।পথ দেখাতে পারেন একমাত্র মা তারা।ওমন একটা নিষ্পাপ পবিত্র মেয়েকে ওই রাক্ষসীর সামনে কিভাবে ছেড়ে দেবে।না না ,সেই  সময় আসার আগেই সাধিকাকে করতে হবে মহা যজ্ঞ।একা কি সে পারবে যথাযথ ভাবে সে কাজ সম্পন্ন করতে নাকি যাবে গুরুদেবের কাছে।গুরুদেবের কাছে যা শিক্ষা তিনি পেয়েছেন আজ পর্যন্ত কোনোদিন তার অপব্যবহার করেননি,কিন্তু সেই সময় উপস্থিত, একটা পাপ কে বিনাশের জন্য ,অনেক গুলো প্রাণ,এমনকি প্রকৃতির ধারা বজায় রাখতে তাকে যদি কোনো পাপ করতে হয় তবে তা করতেও পিছুপা হবেননা উনি।

আজ সবু না আসলেও সাধিকা নিজেই যেতেন ফুলিকে আনতে।আজ রাতের যজ্ঞে ফুলিকে থাকতেই হবে।মহা কঠিন পরীক্ষা তার সামনে,তাকে তৈরি করে দিতে হবে,সেই যে একমাত্র পারবে ওই  শয়তানের মুখোমুখি হতে,রক্ষা করতে হবে তরতাজা প্রাণ গুলোকে।সাধিকা বুঝতে পেরেছেন কি ঘটতে চলেছে।যে মহা পাপিষ্ঠা এতদিন ধরে প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে ,নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য কাজে লাগিয়েছে তন্ত্র বিদ্যাকে,সেই বিদ্যা দিয়েই শেষ করতে হবে তাকে।কিছুতেই সফল হতে দেয়া যাবে না তার সাধনাকে।তাহলে যে মহা বিপদ ঘনিয়ে আসবে।শত্রুর বিনাশে যেমন আদ্যা শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে হয়েছিল এখনও সেই শক্তিকে জাগাতে হবে।সাধিকার গণনা যদি মিলে যায়,তবে দুদিন পর আগত অমাবস্যাতেই সে কার্যসিদ্ধির জন্য শুরু  করমবে সেই হত্যালীলা।
    চলবে…..
   
                                      ৯

সপ্তকের চোখের সামনেই সেই ভয়াল মূর্তিটা ক্রমাগত একটা নারীর রূপ নিচ্ছে।সেই নারীর ঠোঁটে এক কুটিল রহস্যময় হাসি, নাক থেকে যেন বেরিয়ে আসছে সাপের হিসহিসানির মতো নিঃশ্বাস এর শব্দ,আর চোখগুলো অন্ধকারে শ্বাপদের চোখের মতো জ্বলছে।চোখ জ্বলে যাচ্ছে সপ্তকের,কিন্তু তাও ও চোখ সরিয়ে নিতে পারছে না।সম্মোহনী সেই দৃষ্টি ক্রমাগত টেনে নিয়ে চলেছে তাকে।ঘর ছেড়ে বের করে নিয়ে যেতে চাইছে।সেই নারী এবার পূর্ন অবয়ব নিচ্ছে ক্রমাগত।সপ্তকের বাহ্য জ্ঞান লোপ পাচ্ছে ।ওই নারী তাকে কোথায় টেনে নিয়ে চলেছে।ঘর থেকে বেরিয়ে গাড়ীর স্টিয়ারিং এ হাত রাখল সপ্তক।তারপরই স্টার্ট এর শব্দ ভেসে আসলো বাসুর কানে।যতক্ষনে সে গেটের কাছে এসে দাঁড়িয়েছে ততক্ষনে ধুলো উড়িয়ে রাতের নিস্তব্ধতাকে ফালা ফালা করে মিলিয়ে গেছে সপ্তকের গাড়ি।বাসু কিছু বুঝে উঠতে পারলো না।যে মানুষ কিছুক্ষন আগেই তাকে রান্না করতে বললো,সবুর সাথে  কথা বলবে বললো সেই মানুষের হটাৎ কি হলো? বেরিয়ে গেল,ওকে কিছু না জানিয়ে! গেলো ই বা কোথায়! অদ্ভুত মানুষ তো।!তবে কি ফুলিকে বিয়ে করার ভয়ে পালিয়ে গেল!যদিও শহুরে মানুষ গুলো ওরকমই হয়,কম দিন তো দেখলো না ও,কিন্তু এই  মানুষটাকে খুব ভালো লেগেছিল বাসুরও ,আপন ভোলা মানুষ, খুব সহজ সরল,চোখে মুখে যেন সেই সরলতা ফুটে উঠতো,     নাঃ…..,ভুল ভেবেছে বাসু,বড়লোক মানুষ কখনোই তাদের মতো হাভাতের ঘরের মেয়েকে বিয়ে করতে পারে না ,শুধু ফুর্তি করতে পারে ,কিন্তু ও যে সবুকে গিয়ে বলে এসেছিল যে কাল সপ্তকবাবু যাবেন তার মেয়েটার বিয়ের কথা বলতে।ছিঃ, ছিঃ, মুখ দেখাতে পারবে না আর।
     
             সবু সাধিকা মায়ের কাছ থেকে ফিরে এসে মাটির দাওয়াতে বসে ছিল অনেক ক্ষণ, সন্তে এক পাশে বসে বসে  লম্ফো জ্বালিয়ে ঘুড়ির সারাইএর আঠা তৈরী করছিল,ফুলি আপন মনে গরু, ছাগলগুলোকে জাবনা দিতে দিতে গুনগুন করছিল,সপ্তকের বলা কথাগুলো বার বার কানে ঘুরেফিরে ফিসফিসিয়ে যাচ্ছিল যেন কেউ।ততবারই একটা অব্যক্ত ভালোলাগা শিহরিত করছিল তাকে।সবু বসে বসে লক্ষ্য করছিল ফুলিকে।মেয়েটাকে দেখে আর বকাবকি করতে ইচ্ছে করলো না।বাসুর সাথে পথেই দেখা হয়েছিল,ওই বাবু তাদের বাড়িতে আসবে কাল ,সত্যিই কি তাহলে মেয়েটার কপাল এত ভালো?দুটো হাত জোড় করে কপালে ঠেকিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে বসে রইল,তারপরই মনে পড়লো,সাধিকা মা ফুলিকে যেতে বলেছে তার কাছে,ভুলেই গেছিলো বলতে,
-ফুলি,শুন তো মা একবার..
ফুলি অবাক হয়ে যায়,মা তো এইভাবে ডাকে না তাকে কখনও, তবে হটাৎ হলো কি!
–কি হুইনছে?বল কেনে…
–ইখান টো তে আই কেনে
–আসি
গোয়াল ঘরের বেড়াটা আটকে সবুর সামনে এসে দাঁড়ায় ফুলি।
–বস কেনে, দুটো কথাটো বলি
কোনো কথা না বলে ফুলি বসে পড়ে সবুর পায়ের কাছে,ফুলির খোঁপায় তখনও পলাশ ফুল গুলো লেগে ছিল,পরম মমতায় সবু ফুলির খোঁপায় হাত বুলিয়ে দেয়।কতদিন এই ভাবে মেয়েটাকে কাছে টেনে নেয়নি ও।
–সাধিকা মা তুকে যেতে কইছেন একবার,যা  মা ,গুরিন আয় দিকি,
–এই সাঁজ টো হুইন গেছে,কাল যাই কেনে
– দরকার টো আছে বটে,যা কেনে।মা বলিনছে, যা।
–যাই…বলে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে ফুলি।

 ওদিকে সাধিকা ভীষণ অস্থির হয়ে উঠেছে তখন,গুরুদেবকে ভীষণ প্রয়োজন তার।আরাধনায় মন বসছে না তার।সময় ঘনিয়ে আসছে,একা কি সে পারবে !সেই সময় কানে আসে সেই কাঙ্খিত কণ্ঠস্বর,চোখ মেলে তাকিয়ে দেখেন গুরুদেব দাঁড়িয়ে আছেন তার সামনে।
সুদৃঢ় অথচ ধীর কণ্ঠে গুরুদেব বলেন
–অবাক হয়ে গেলি মা?তুই যে আমাকে ডেকে আনলি,আমার সন্তান আমাকে ডাকছে,আমি না এসে থাকি কি করে বল!
–হ্যাঁ ,বাবা,খুব বিপদে পড়ে স্মরণ করছিলাম  ।
–সব জানি মা,কিন্ত বড্ড দেরি হয়ে গেল যে রে মা।সে যে টেনে নিয়ে গেছে তার শিকার কে।খুব তাড়াতাড়ি
কিছু করতে না পারলে যে সব শেষ হয়ে যাবে।
–না বাবা,আপনি এমন করে বলবেন না।আজই ফুলির আঠারো পূর্ন হবে।আপনি তো সবই জানেন…ওর জন্ম বৃত্তান্ত।
–বেশ,সব জানি,কিন্তু এখন সময় বড়ই কম,এখনই সাধনায় বসতে হবে,সব যোগাড় কর,আর ফুলিকে এখনই নিয়ে আয়।তারপর সব বলছি।
–আচ্ছা বেশ
বলে সাধিকা ফুল,দুধ,ধুপ,ধুনা,মধু,শকুনের বাসার হাড়, লাল বস্ত্র, নর কঙ্কাল আর যজ্ঞের যজ্ঞ ডুমুর কাঠ ও ঘি,সব যোগাড় করে বেরোয় ফুলির বাড়ির দিকে যাওয়ার জন্য।একটু এগোতেই দেখতে পান ফুলিকে,অন্ধকার থেকে এগিয়ে আসছে সে তার দিকে।তারপর ফুলির হাত ধরে এসে পৌঁছায় গুরুদেবের কাছে।গুরুদেব ততক্ষনে পূজায় বসে গেছেন।ওদের দেখে গুরুদেব বললেন ,তাড়াতাড়ি নদী থেকে স্নান সেরে ফুলিকে নতুন লাল বস্ত্র পরিয়ে নিয়ে আসতে।কথামতো সাধিকা ফুলিকে নিয়ে গেল নদীতে,তারপর স্নান সেরে নতুন লাল শাড়িতে জড়িয়ে সাধিকা ফুলিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।ফুলি কিছু বোঝার আগেই সব কিছু  পরপর এমন ভাবে হতে থাকে যে কিছু জিজ্ঞাসা করার সুযোগ পায় না।কিছুটা ভয়ে,কিছুটা অবাক হয়ে সম্মোহিতের মতো গুরুদেব আর সাধিকা মায়ের নির্দেশ  মানতে থাকে ও।এবার গুরুদেবের নির্দেশেই বসে পড়ে মা তারার সামনে বিছানো একটা আসনে।গুরুদেব শুরু করেন মন্ত্রপাঠ।তাদের চারিদিকে বৃত্তাকারে সিঁধুর দিয়ে গণ্ডিরেখা করে দেন সাধিকা।তারপর শুরু হবে মূল যজ্ঞ।

                                  ১০

ইন্দ্রানী মন্ত্র পড়তে পড়তেই চোখ রাখলো জলদর্পনে।সপ্তক আসছে,টেনে আনতে সমর্থ হয়েছে সে।খুব কাছেই চলে এসেছে সে।তার শিকার নিজেই আসছে তার কাছে যদিও তাকে আনতে কম সাধনা করতে হয়নি।ইন্দ্রানীর ঠোঁটে ফুটে উঠলো সেই কুটিল হাসি। সে এসে পৌঁছালেই তবেই শুরু করতে পারবে মূল কার্যানুষ্ঠান।
সপ্তক যেন ঘোরের মধ্যেই ড্রাইভ করছে,কি  করছে ,কোথায় যাচ্ছে,কেনই বা যাচ্ছে বোঝাবার মতো অবস্থা তার নেই।শরীরটা ওর হলেও যেন অন্য কেউ ওর মস্তিষ্ক পরিচালনা করছে।           
             

               মায়ের উদ্দেশ্যে নৈবেদ্য প্রদান করার পর গুরুদেব আদেশ দিলেন হোমাগ্নির সামনে বসতে। সাধিকা ফুলিকে নিয়ে বসলেন।শুরু হলো মন্ত্রপাঠ,নর কঙ্কাল এর করোটিতে সিঁধুর লেপন করে,মধু দুধ ঢেলে  তুষ্ঠ করে জাগ্রত করলেন পিশাচকে।তারপর নির্দেশ দিলেন সাধিকাকে,
–তোদের এখনই বেরোতে হবে,গাড়ীর ব্যবস্থা করা আছে,আর এই যে মাটির ঘট থাকবে সাধিকার কাছে,আর ফুলির কাছে থাকবে এই মন্ত্রপূতঃ ছুরি,আর এই জপমালা,যা এবার তোরা বেরিয়ে যা,দেরি করিসনে আর,আর একটা কথা,রাস্তায় কেউ গাড়ি দাঁড় করানোর চেষ্টা করলেও থামবিনা,আর জপমালায় মায়ের নাম জপতে থাকবি যতক্ষন না গন্তব্যে পৌছেছিস,,
–আচ্ছা,গুরুদেব,আসছি,আপনি যেমন যেমন বলে দিলেন তেমন তেমন ই করবো,
–ওখানে পৌঁছে কি করতে হবে মনে আছে তো?একচুল ও যেন ত্রুটি না হয়।
–সব মনে আছে,কিছু ভুল হতে দেব না।
–আমাকে এবার যজ্ঞ শুরু করতে হবে,অনেক  বাঁধা সামনে ,সব দূর করতে হবে,তোরা যা।
বলে গুরুদেব সাধিকা আর ফুলিকে রওনা করিয়ে দিয়ে এসে বসলেন ,আগুনে ঘৃতহুতি দিয়ে মন্ত্রপাঠ শুরু করলেন আবার।

               সপ্তকের গাড়িটা এসে থেমে গেলো একটা এপার্টমেন্ট এর গেটের সামনে।গাড়ি থেকে নেমে আবার সম্মোহিতের মতো লিফটের দিকে এগিয়ে গেল।সিক্সথ ফ্লোরে থেমে গেল,খুলে গেল লিফটের দরজা।সপ্তক কে  যেন ঠেলে ঢুকিয়ে দিলো কেউ ফ্ল্যাটের ভিতর।
 ইন্দ্রানী হাত ধরে সপ্তককে নিয়ে গেল শোবার ঘরে।আসলে সেটিই ইন্দ্রানীর মূল কর্মকক্ষ।ঘরের ভিতর
একটা মিষ্টি গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে।ডিভানে সুন্দর টানটান করে পাতা সাদা চাদর।হালকা নীলাভ আলো আরো যেন রহস্যময় করে তুলেছে সেই ঘরটাকে।আর সেই  মৃদু আলোয় লাল স্বচ্ছ পোশাকে  ইন্দ্রানী নিজেকে আরও বেশি মোহময়ী করে তুলেছে।ধীরে ধীরে সপ্তককে বসিয়ে দিলো বিছানাতে,তারপর একটু একটু করে নিরাভরণ করতে লাগলো সপ্তককে।শুরু হলো সেই চিরাচরিত আদিম  শারীরিক খেলা।সপ্তক যেন কাঠের পুতুলের মতো ইন্দ্রানীর ইশারায় প্রতিটা কাজ করে চলেছে।ইন্দ্রানী ধীরে ধীরে সঙ্গমের জন্য প্রস্তুত হয়।তারপরই সেই চরম ক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।যৌনক্রিয়া শেষে কামতৃপ্ত সপ্তকের বুকে আমূল বসিয়ে দিতে হবে সেই মন্ত্রপুত ছুরি,আর তুলে নিতে হবে তার হৃদপিন্ডটা।সময় উপস্থিত ,ইন্দ্রানী সপ্তকের অজান্তেই তুলে নিল সেই ছুরি টা।চেপে বসেছে সপ্তকের উপর,ছুরি ধরা হাত টা ক্রমশঃ নেমে আসছে সপ্তকের বুকের নির্দিষ্ট জায়গায়,মহা উল্লাসে চিৎকার করে হেসে ওঠে ইন্দ্রানী, অপেক্ষা শেষ তার,শুধুমাত্র হৃদপিন্ডটা বের করার অপেক্ষা,তারপর ওটা নৈবেদ্য এ প্রদান করে সেই প্রসাদি তাজা হৃদপিন্ড থেকে নিংড়ে নিতে হবে সমগ্র রক্ত,একমাত্র সেই রক্ত পান করলেই জাগ্রত হবে কুন্ডলিনী।চিরতারুণ্যের অধিকারিণী হবে সে।বহুদিনের প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে।ওর হারে ধরা ছুরিটা দ্রুত নেমে আসছে,সেই মুহূর্তে  যেন মনে হলো তাকে কেউ অদৃশ্য বন্ধনে আবদ্ধ করে ফেলছে,কানে ভেসে আসছে পবিত্র মন্ত্র উচ্চারণের শব্দ,ইন্দ্রানীর জিভ যেন আড়ষ্ট হয়ে আসছে।দরজা ঠেলে ঘরে প্রবেশ করছে দুই নারী,একজন প্রৌঢ়া, একজন কিশোরী,কি অসম্ভব চোখের দৃষ্টি তার,সেই পবিত্র, সরল দৃষ্টি যেন ইন্দ্রানীর অন্তরাত্মা পর্যন্ত জ্বালিয়ে দিচ্ছে,সে এগিয়ে আসছে ইন্দ্রানীর দিকে,কিন্তু ও কিছুই করতে সক্ষম হচ্ছে না,ফুলি এগিয়ে এসে অসম্ভব জোরে আঘাত করলো ইন্দ্রানীর মাথায়,জলধারার মতো কপাল মাথা বেয়ে নেমে এলো শোনিত প্রবাহ,ইন্দ্রানী বিছানার একপাশে গড়িয়ে পড়ল,ফুলি তাড়াতাড়ি তুলে বসায়  অচৈতন্য সপ্তক কে।চাদর দিয়ে ঢেকে দেয় তাকে।সাধিকা ততক্ষনে হাতে করে আনা ঘটে সংগ্রহ করে ওই ডাইনীর রক্ত,তারপর গুরুদেবের নির্দেশ মতো,ফুলি তার হাতের ছুরি বসিয়ে দেয় ইন্দ্রানীর নাভিমূলে, ডাইনীর শক্তি যে ওই নাভিতেই আবদ্ধ থাকে,ফুলি নাভিমূল শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে তুলে রাখে ঘটে,সাধিকা তখনও এক নাগাড়ে  জপমালায়  জপ করে যাচ্ছেন।সারা ঘরে অসংখ্য ধোঁয়ার অবয়ব যেন চেপে ধরতে আসছে তাদের,কি অসম্ভব ক্রুর জ্বলন্ত দৃষ্টি তাদের কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য মায়াবলে ছুঁতে পারছেনা ।গুরুদেবের নির্দেশমতো শেষ কাজ টা করতে গেল ফুলি,ইন্দ্রানীর চুলের গোছা টা কাটতে যেতেই সেই চুলের গোছ যেন সাপের মত পেঁচিয়ে ধরলো ফুলির হাত,ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে চাইছে যেন,মরণ কামড়ের মতো চেপে ধরেছে ফুলির হাতে,কিছুতেই বেরিয়ে আসতে পারছেনা ফুলি,এমতাবস্থায় সাধিকা ফুলির হাতের ছুরি টা নিয়ে চালিয়ে দিলেন ইন্দ্রানীর চুলে,ফুলিকে ছেড়ে দিলো,কিন্তু সেই কাটা চুল টা সাপের মত এঁকে বেঁকে উঠে আসার চেষ্টা করছে,সাধিকাকে বার বার দংশন করছে।কঁকিয়ে উঠে বসে পড়েন সাধিকা।একটা লাল কাপড়ে মুড়ে জপমালাটা দিয়ে বেঁধে দিলেন চুলের গোছাটাকে,শেষ শক্তিটুকু এক জায়গায় করে ফুলিকে বলেন”এই চুল,ঘট আর সপ্তককে নিয়ে এখনই বেরিয়ে যা এই ঘর থেকে,বাইরে যে গাড়ি আছে ওটাই নিয়ে যাবে তোকে আবার গুরুদেবের কাছে,আমার এখনও কিছু কাজ বাকি আছে এখানে।” বলে তিনি জোর করে ফুলি আর সপ্তককে বাইরে বের করে দরজা বন্ধ করে দেন।ফুলি ড্রাইভারের সাহায্যে সপ্তককে নামিয়ে এনে পাড়ি দেয় গুরুদেবের উদ্দেশ্যে।
সাধিকার অতি কষ্টে ইন্দ্রানীর ফেলে রাখা  উপাচার গুলো সব একজায়গায় জড়ো করে,তারউপর শুইয়ে দেয় ইন্দ্রানী কে।তারপর অগ্নিসংযোগ করে দেন তাতে।ওই ডাইনীর পার্থিব আশ্রয় ছিল ওই শরীর,আজ সাধিকা নিজ হাতে সেই আশ্রয় ধ্বংস করে দিলেন, বাকি টুকু গুরুদেব নিশ্চয় করছেন এতক্ষনে।কিন্তু তার শরীরের সব ক্ষমতা এবার যেন স্তিমিত হয়ে আসছে।নীলবর্ন ধারণ করছে তার শরীর,জ্বলন্ত চিতার সামনে ঢলে পড়লেন সাধিকা।ধীরে ধীরে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে ঘরে,বেড়ে চলেছে সেই আগুনের তেজ ও ভয়াবহতা।

    গুরুদেব একনাগাড়ে  মন্ত্র উচ্চারণ করে যাচ্ছেন আর বারে বারে কিছু একটা গুঁজে দিচ্ছেন নর করোটির মুখে।প্রায় ভোর হয়ে আসছে ,ফিরে আসার কথা ফুলীদের, হ্যাঁ, ঐতো আসছে ওরা।ফুলি এক হাতে ঘট ,লাল কাপড়ে জড়ানো সেই চুল আর অন্যহাতে সপ্তককে নিয়ে এগিয়ে আসছে গুরুদেবের দিকে,সামনে এসে এগিয়ে ধরলো তার হাতে ধরা জিনিসগুলো।সপ্তককে গাছের গোড়ায় হেলান দিয়ে কোনো মতে বসালো ও।গুরুদেব সব জিনিসগুলো নিয়ে একটা লাল সুতোয় জড়াতে জড়াতে ফুলিকে ইশারা করলেন সপ্তককে কাছে নিয়ে আসতে।সপ্তক তখনও ঘোরের মধ্যেই রয়েছে,ফুলি ওকে এনে বসালো হোমাগ্নির সামনে,গুরুদেবের নির্দেশে সপ্তকের হাতগুলো নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে একসাথে ,আগুনে ঘি ,মধু নিক্ষেপ করতে শুরু করলো।একটা সিঁধুর মাখানো মাটির পাত্রে সেই জ্বলন্ত অঙ্গার তুলে রাখলেন গুরুদেব,তাতে ফুলি আর সপ্তকের ডান হাতের অনামিকা   থেকে দু ফোটা  করে রক্ত নিয়ে দিলেন,তারপর ফুলির আনা সবকিছু সেই অঙ্গারে দিয়ে ঘি দিতেই দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলো সব,নরকরোটি ভেঙে চুরমার হয়ে গেল,গুরুদেব সপ্তকের হাতের রক্ত দিয়েই ফুলির সিঁথি রাঙাতে আদেশ দিলেন।দুজন যতক্ষন না একসাথে বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে ততক্ষণ এই ক্রিয়া সম্পন্ন হবে না।
         ধীরে ধীরে আগুন নিভে আসছে,সপ্তক অনেকটাই ধাতস্থ হয়েছে।গভীর কালো অন্ধকার ভেদ করে ভোরের আলো ফুটে উঠেছে,গুরুদেব আদেশ দিলেন দুজনকে,ওই নিভে ছাই হয়ে যাওয়া অঙ্গারের পাত্রটা নিয়ে নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে আসতে। সপ্তককে নিয়ে ফুলি এগিয়ে চলল নদীর দিকে।পুব আকাশ রক্তিম আভায় ভরিয়ে ক্রমশঃ সূর্য্যদেব প্রকাশ পাচ্ছেন,শেষ হয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে অভিশপ্ত রাত,নতুন দিনের শুরু হচ্ছে।

সংসার ত্যাগীদের মন বাঁধতে নেই কোথাও,তাও সাধিকার জন্য গুরুদেবের চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ল অশ্রু,বহুকাল আগে সাধনের সঙ্গী অমিতা মায়ের সঙ্গে সঙ্গমে এই গুরুদেবের ঔরসে জন্ম হয়েছিল আজকের এই  সাধিকা মায়ের ,অবৈধ হলেও সে যে তারই সন্তান  ছিল,,পাপের বিনাশে তাকেও সেই সন্তানের  ত্যাগ স্বীকার করতেই হলো ….
                                সমাপ্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *